ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

হোটেল শ্রমিক সজিবের ঈদের আনন্দযাত্রা থামল বজ্রপাতে

বজ্রপাতে নিহত সজিব।

ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছিলেন সজিব সরকার (৪৩)। কিন্তু স্বজনদের কাছে আর ফেরা হলো না তার। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে উঠে যাত্রা করেছিলেন তিনি। পথে নেমে আসা বৃষ্টি আর এক ভয়াবহ বজ্রপাত মুহূর্তেই কেড়ে নেয় তার জীবন।

রোববার নরসিংদীতে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সজিব সরকার পেশায় একজন হোটেল শ্রমিক ছিলেন। তিনি ঢাকায় কাজ করতেন এবং ঈদ উপলক্ষে নোয়াখালীতে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।

রেলওয়ে ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন সজিব। ঈদযাত্রার অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ট্রেনের ভেতরে কোনো আসন বা দাঁড়ানোর জায়গাও পাননি তিনি। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনের ছাদে উঠে বসেন।

ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই আকাশে কালো মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হয়। ট্রেনটি নরসিংদীর ঘোড়াশাল এলাকায় পৌঁছলে আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন সজিব। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিকেল ৫টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌঁছালে স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান বিষয়টি জানতে পেরে জিআরপি পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ট্রেনের ছাদ থেকে সজিবের মরদেহ উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন নিহতের স্বজনরা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা মরদেহ শনাক্ত করেন। ঈদের আগ মুহূর্তে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে নরসিংদী স্টেশন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, “স্টেশন মাস্টারের মাধ্যমে বজ্রপাতে একজন যাত্রীর মৃত্যুর খবর পাই। পরে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও কাগজপত্র দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

প্রতিবছর ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করেন। সচেতন মহল বলছে, এমন দুর্ঘটনা রোধে যাত্রীদের সচেতনতার পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হোটেল শ্রমিক সজিবের ঈদের আনন্দযাত্রা থামল বজ্রপাতে

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩০:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছিলেন সজিব সরকার (৪৩)। কিন্তু স্বজনদের কাছে আর ফেরা হলো না তার। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে উঠে যাত্রা করেছিলেন তিনি। পথে নেমে আসা বৃষ্টি আর এক ভয়াবহ বজ্রপাত মুহূর্তেই কেড়ে নেয় তার জীবন।

রোববার নরসিংদীতে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সজিব সরকার পেশায় একজন হোটেল শ্রমিক ছিলেন। তিনি ঢাকায় কাজ করতেন এবং ঈদ উপলক্ষে নোয়াখালীতে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।

রেলওয়ে ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন সজিব। ঈদযাত্রার অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ট্রেনের ভেতরে কোনো আসন বা দাঁড়ানোর জায়গাও পাননি তিনি। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনের ছাদে উঠে বসেন।

ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই আকাশে কালো মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হয়। ট্রেনটি নরসিংদীর ঘোড়াশাল এলাকায় পৌঁছলে আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন সজিব। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিকেল ৫টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌঁছালে স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান বিষয়টি জানতে পেরে জিআরপি পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ট্রেনের ছাদ থেকে সজিবের মরদেহ উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন নিহতের স্বজনরা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা মরদেহ শনাক্ত করেন। ঈদের আগ মুহূর্তে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে নরসিংদী স্টেশন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, “স্টেশন মাস্টারের মাধ্যমে বজ্রপাতে একজন যাত্রীর মৃত্যুর খবর পাই। পরে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও কাগজপত্র দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

প্রতিবছর ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করেন। সচেতন মহল বলছে, এমন দুর্ঘটনা রোধে যাত্রীদের সচেতনতার পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।