
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর এবার উল্টো প্রশাসনের ভূমিকা ও নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, একটি দাপ্তরিক চিঠি অস্বাভাবিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। মাত্র এক দিনের মধ্যেই ওই চিঠি ভাইরাল হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে তিনি বলেন, “যে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজের সই করা দাপ্তরিক চিঠির গোপনীয়তা ২৪ ঘণ্টাও রক্ষা করতে পারেন না, তার হাতে পাঁচ লাখ ভোটারের ভোট কীভাবে আমরা আমানত হিসেবে নিরাপদ মনে করব?” তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা আদৌ সম্ভব কি না।
প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ জানুয়ারি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় রুমিন ফারহানা একটি বড় প্যান্ডেলে জনসমাবেশ আয়োজন করে নির্বাচনি প্রচারণা করেন, যা আচরণবিধির পরিপন্থী। এ সময় সমাবেশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং জুয়েল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই চিঠিতে সমাবেশ চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে রুমিন ফারহানা এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “যে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আমি নিজে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখাইনি। বরং আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির দিকে ওই ধরনের ইঙ্গিত করেছিলেন। সেই ঘটনাটি বোঝাতে গিয়ে আমি কথার প্রসঙ্গে বিষয়টি উল্লেখ করেছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৩ জানুয়ারি তিনি একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি বা পদক্ষেপের তথ্য পাননি। অথচ তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও একটি বড় দলের সমর্থিত প্রার্থী প্রতিদিন মাইকিং, স্টেজ ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “আমরা এসবের প্রমাণসহ ফাইল জমা দিয়েছি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো ন্যূনতম সাহস প্রশাসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত দেখিনি।”
তিনি দাবি করেন, বড় দলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আচরণবিধির কঠোর প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা নির্বাচনের সমতল মাঠের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















