ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আলাদা বিভাগ করব-তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেশে জঙ্গিবাদ নেই, বিদেশে থাকা ফ্যাসিস্ট জঙ্গিদের ফেরাতে উদ্যোগ-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশ কোনো দলের পাহারাদার নয়, জনগণের সেবক-রাজশাহীতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিশ্বমঞ্চে রুয়েটের গৌরব: আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় গোল্ড মেডেল ফসলি জমি কেটে তৈরি হচ্ছে জলাশয়, উর্বর মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায় মতবিনিময় সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ রুমিন ফারহানা ‘মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবেও এলাকা ছাড়ব না’- রুমিন ফারহানার স্পষ্ট বার্তা মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় হাইকমিশন–ইমিগ্রেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

ফসলি জমি কেটে তৈরি হচ্ছে জলাশয়, উর্বর মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

এতে কৃষি জমিতে সৃষ্টি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর বিশাল গর্ত, যা বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে।

‎প্রশাসনের দফায় দফায় অভিযান, জরিমানা ও সতর্কবার্তার পরও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় থামানো যাচ্ছে না ফসলি জমির মাটি কাটা। দিনের পর দিন উর্বর কৃষিজমির উপরিভাগ কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষি জমিতে সৃষ্টি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর বিশাল গর্ত, যা বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গভীর রাতে ভেকু মেশিন ও ট্রাক ব্যবহার করে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান শেষ হলেই পুনরায় শুরু হয় একই কার্যক্রম। একসময় যেখানে আমন ও বোরো ধানের চাষ হতো, এখন সেখানে শুধু বড় বড় গর্ত আর জমে থাকা পানি।
‎মাটি বহনের জন্য ছোট-বড় সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক মাটিবাহী ট্রাক্টর ও ট্রাক। অনভিজ্ঞ চালক ও লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনের কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ধুলাবালির কারণে পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
‎সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া মোল্লাকান্দি বিলে অবস্থিত মন্ততাজ ব্রিকফিল্ডে গত এক সপ্তাহ ধরে দুটি ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে ওই বিল এলাকায় বিশাল জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটা মালিক ও একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে এই মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। অনেক কৃষকের জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। প্রতিবাদ করতে গেলে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
‎এ বিষয়ে মন্ততাজ ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার মো. তৌয়ব বলেন, “ইটভাটার প্রধান কাঁচামাল মাটি। যারা মাটির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাছ থেকেই আমরা মাটি কিনে থাকি। কিছু ফসলি জমি থেকে গভীরভাবে মাটি কাটার কারণে কোথাও কোথাও গর্ত ও জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এসব জমি থেকে অনেক আগে থেকেই মাটি কাটা হচ্ছিল।”
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “ফসলি জমির মাটি কাটার খবর পাওয়া মাত্রই দিন-রাত যেকোনো সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ীকে বড় অংকের জরিমানা করা হয়েছে এবং একাধিক ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে একটি চক্র রাতের আঁধারে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
‎স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আলাদা বিভাগ করব-তারেক রহমান

ফসলি জমি কেটে তৈরি হচ্ছে জলাশয়, উর্বর মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

প্রকাশের সময়ঃ ০১:১৫:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
‎প্রশাসনের দফায় দফায় অভিযান, জরিমানা ও সতর্কবার্তার পরও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় থামানো যাচ্ছে না ফসলি জমির মাটি কাটা। দিনের পর দিন উর্বর কৃষিজমির উপরিভাগ কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষি জমিতে সৃষ্টি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর বিশাল গর্ত, যা বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গভীর রাতে ভেকু মেশিন ও ট্রাক ব্যবহার করে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান শেষ হলেই পুনরায় শুরু হয় একই কার্যক্রম। একসময় যেখানে আমন ও বোরো ধানের চাষ হতো, এখন সেখানে শুধু বড় বড় গর্ত আর জমে থাকা পানি।
‎মাটি বহনের জন্য ছোট-বড় সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক মাটিবাহী ট্রাক্টর ও ট্রাক। অনভিজ্ঞ চালক ও লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনের কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ধুলাবালির কারণে পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
‎সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া মোল্লাকান্দি বিলে অবস্থিত মন্ততাজ ব্রিকফিল্ডে গত এক সপ্তাহ ধরে দুটি ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে ওই বিল এলাকায় বিশাল জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটা মালিক ও একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে এই মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। অনেক কৃষকের জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। প্রতিবাদ করতে গেলে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
‎এ বিষয়ে মন্ততাজ ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার মো. তৌয়ব বলেন, “ইটভাটার প্রধান কাঁচামাল মাটি। যারা মাটির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাছ থেকেই আমরা মাটি কিনে থাকি। কিছু ফসলি জমি থেকে গভীরভাবে মাটি কাটার কারণে কোথাও কোথাও গর্ত ও জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এসব জমি থেকে অনেক আগে থেকেই মাটি কাটা হচ্ছিল।”
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “ফসলি জমির মাটি কাটার খবর পাওয়া মাত্রই দিন-রাত যেকোনো সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ীকে বড় অংকের জরিমানা করা হয়েছে এবং একাধিক ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে একটি চক্র রাতের আঁধারে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
‎স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।