
নেপাল ও তিব্বতে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নদীতে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণে কোথাও কোথাও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নতুন জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের এক বন্যা বিশেষজ্ঞ।
রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেফ দা কস্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দুর্যোগের ফলে নদীগুলোর বিভিন্ন অংশে ধ্বংসাবশেষ জমে পানির প্রবাহ আটকে গেছে। এর ফলে উজানে নতুন নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছে। এসব হ্রদের পানি ও প্রাকৃতিক বাঁধের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
বন্যার আগাম সতর্কতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা জেফ দা কস্তার মতে, দ্বিতীয় দফার বন্যা প্রথমটির তুলনায় ছোট হলেও এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। নতুন তৈরি হওয়া হ্রদগুলোর পানি কোথায় জমছে এবং পানি আটকে রাখা প্রাকৃতিক বাধাগুলো কখন বা কীভাবে ভেঙে পড়তে পারে, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
চীন ও নেপালের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, উজানে কোনো ঘটনা ঘটলে অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্তের অপর পাশের জনবসতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও বিনিময়ের পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
জেফ দা কস্তা আরও বলেন, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই দুর্যোগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় এলেও নির্দিষ্ট এই ঘটনার জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করার আগে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ, পারমাফ্রস্ট এবং পাহাড়ের ঢালের স্থিতিশীলতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকির ধরনও পরিবর্তিত হতে পারে।
এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ভূমিধসের কারণে তিব্বতে নতুন একটি ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে। শনিবার একটি নজরদারি ড্রোনের মাধ্যমে ভূমিধসের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। পরে ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ায় সেখানে নতুন জলাধার তৈরি হয়।
‘ব্যারিয়ার লেক’ হলো ধ্বংসাবশেষ বা প্রাকৃতিক বাধার কারণে নদীর পানি আটকে গিয়ে তৈরি হওয়া জলাশয়। এমন জলাধারের পানি হঠাৎ উপচে পড়লে উজান ও ভাটির এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নে চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করেছে। একই সঙ্গে তিব্বতের গিরং বন্দরের আশপাশে থাকা উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 















