
রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্য এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি দল কারাগারে গিয়ে আসামিদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর আগে সোমবার আদালতে তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছিল।
তবে রংপুর মেট্রোপলিটন চিফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম রিমান্ডের পরিবর্তে দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন।
এ প্রসঙ্গে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনা সংক্রান্ত নতুন কিছু তথ্য হাতে এসেছে, যা যাচাই-বাছাই এবং আসামিদের দেওয়া পূর্ববর্তী তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজনেই রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। তবে আসামিরা ইতিমধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের আর রিমান্ডে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণেই আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই লোমহর্ষক ঘটনায় একই এলাকার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ মামলায় দুজন সাক্ষীও ইতিমধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবনের বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তী প্রত্যক্ষ করে ফেলায় এবং এতে সামাজিক মর্যাদাহানির শঙ্কায় তাঁকে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর একই কায়দায় পরিবারের বাকি তিন সদস্যকেও হত্যা করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার দিন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ৮ থেকে ৯টি নেশাজাতীয় বড়ি সেবন করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। বর্তমানে নতুন প্রাপ্ত তথ্যাদি যাচাই-বাছাইয়ের লক্ষ্যেই তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অধিকার ডেস্কঃ 










