
কুমিল্লায় গ্রাহকদের আমানতের কয়েক শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড (আইসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদালতে উপস্থাপন শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহ জানান, শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত একাধিক মামলা ও সাজা পরোয়ানা বিচারাধীন ছিল।
ডিবি সূত্র জানায়, চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের চাহিদার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে শফিকুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ায় প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে দ্রুত ও কার্যকর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানান।
গ্রাহকদের অভিযোগ, আমানত পরিশোধের ভুয়া প্রমাণ দেখাতে আইসিএলের পক্ষ থেকে নকল রশিদ ও সমন্বয় কাগজপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছিল। বাস্তবে অধিকাংশ গ্রাহকই তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাননি।
এই প্রতারণার প্রতিবাদে চৌদ্দগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। অনেকে নতুন করে মামলা দায়ের ও উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনাও দেওয়া হয় বলে গ্রাহকরা জানান।
প্রতারণার শিকার গ্রাহক খলিলুর রহমান বলেন, আইসিএলের এমডি শফিকুর রহমান এলাকার কৃষক, শ্রমিক, প্রবাসী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরে জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ঘুরিয়েছেন। তার দাবি, এই প্রতারণার কারণে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শফিকুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ায় তারা ন্যায়বিচারের আশা করছেন এবং দ্রুত তাদের আমানতের টাকা ফেরত চান।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা আইসিএলের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 


















