
উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশীদ তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের পাঠানপাড়া বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ১৯ দফা সম্বলিত এ নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।
ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা, নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিতকরণ এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা ও মহানন্দা নদীর ভাঙন রোধ, কৃষি আধুনিকায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে হারুনুর রশীদ বলেন, স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, ন্যায্য অধিকার এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই এ ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। “আমাদের লক্ষ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে একটি আধুনিক, উন্নত ও অগ্রসর জেলায় রূপান্তর করা,”—বলেন তিনি।
ইশতেহারে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা জোরদার, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মকর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রসঙ্গে ইশতেহারে বলা হয়, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের কথাও ইশতেহারে স্থান পায়।
নারী, শিশু ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নারী ও শিশু সুরক্ষা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করা হয়। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশতেহারের শেষাংশে বিএনপির এ প্রার্থী বলেন, “নির্বাচিত হলে ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, জনগণের কল্যাণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ আসনকে একটি মডেল আসনে পরিণত করাই আমার লক্ষ্য।” একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করবে।
ইশতেহার ঘোষনা অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আমিনুল ইসলাম, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ তসিকুল ইসলাম তসি, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা এ্যাড. ময়েজ উদ্দীন, জেলা যুব দলের আহবায়ক মোঃ তবিউল ইসলাম তারিফ, সদর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মোঃ তাসেম আলীসহবিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















