
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি বাড়ছে। একই সঙ্গে নদীতে স্রোতের তীব্রতাও বেড়েছে। কোথাও কোথাও নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেক পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে নদীর পানি বাড়তে থাকায় তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। অতীতে যেসব এলাকায় ভাঙন হয়েছে, সেসব এলাকার মানুষ নদীর পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ভাঙনের আশঙ্কায় কেউ কেউ আগে থেকেই ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখছেন।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৩৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত যমুনার পানি বিপৎসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীটির পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার।
এদিকে যমুনার পাশাপাশি বাঙালি নদীর পানিও বাড়ছে। শনিবার সকাল ৯টায় সারিয়াকান্দি পয়েন্টে বাঙালি নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১১ দশমিক ৭২ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি বেড়েছে ৪ সেন্টিমিটার।
পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্রোতের চাপও বেড়েছে। এতে কয়েকটি স্থানে নদীর তীর থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। চর ও নদীসংলগ্ন বসতিতে বসবাসকারী মানুষ পুরোনো ভাঙনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
নদীপাড়ের বাসিন্দাদের ভাষ্য, যমুনার পানি বাড়লে তাদের প্রধান উদ্বেগ হয়ে দাঁড়ায় নদীভাঙন। পানির চাপ বাড়ার সঙ্গে স্রোত তীব্র হয়ে তীরের মাটি সরিয়ে নেয়। দিনের বেলায় ভাঙনের পরিস্থিতি কিছুটা বোঝা গেলেও রাতে ঝুঁকি আরও বাড়ে। এ কারণে পরিবারের সদস্য, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা বলছেন, উজানে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির পর থেকেই যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি বাড়ছে। কয়েক দিন ধরে নদী দুটির পানির প্রবাহ ও রঙেও পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন তারা।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েক দিন ধরে যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি বাড়ছে। যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
অধিকার ডেস্কঃ 






















