
প্রায় দুই দশক পর সিলেট সফরে এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এবং তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
বিমানবন্দরে পৌঁছালে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসানের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাঁকে স্বাগত জানান।
সিলেটে পৌঁছেই তারেক রহমান হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে রাত ১০টার দিকে তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান। এই বাড়িটি তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক নিবাস।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বিরাইমপুর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অতিথিদের আপ্যায়নে সেখানে প্রায় ১২ হাজার মানুষের জন্য সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার আখনির আয়োজন করা হয়।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শাহাব উদ্দিন জানান, জুবাইদা রহমান তাঁর দাদার কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সেখানে আসেন। এ উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, শ্বশুরবাড়ির আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমান রাতে সিলেট নগরীর বিমানবন্দর সড়কের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অবস্থান করবেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তিনি সেখানে ১৩০ জন অরাজনৈতিক তরুণের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এরপর সকাল ১১টার দিকে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে যোগ দিয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। এই সমাবেশের মধ্য দিয়েই বিএনপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তিনি।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, তারেক রহমানের সফর ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তাঁর নিরাপত্তায় ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ
এর আগে বুধবার ঢাকায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
হতাহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে বিভিন্ন দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। এক আহত শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।
হতাহত পরিবারের একজন অভিভাবক জানান, তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের শহিদী মর্যাদা দিয়ে গেজেট প্রকাশ, আহতদের আজীবন পুনর্বাসন এবং স্থায়ী চিকিৎসা সুবিধার নিশ্চয়তা।
পরিবারগুলোর বক্তব্য শোনার পর তারেক রহমান ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 
























