
বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কর্তৃক গণভোটের রায় বাতিলের অপচেষ্টাকে জুলাই বিপ্লবের সাথে ‘গাদ্দারি’ ও জনগণের সাথে ‘চরম প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা। একইসাথে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।
সোমবার (৩০ মার্চ) সংগঠনটির মুখপত্র সাদিয়া মাহমুদ মীমের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ করেছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২৯ মার্চ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে না এনে কার্যত বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জুলাই বিপ্লবের শহিদি আকাঙ্ক্ষা এবং জনগণের ম্যান্ডেটকে ধারণ করে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের আয়োজন করেছিল। খোদ বিএনপি ও তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব এই গণভোটের পক্ষে প্রকাশ্য জনসভায় জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ছাত্র-জনতা এবং দেশের আপামর জনসাধারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছিল। আজ ক্ষমতায় আসার পর সেই গণভোটের রায়কে পাস কাটিয়ে যাওয়া এবং অধ্যাদেশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত জনগণের সাথে চরম প্রতারণা ও গাদ্দারি ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দরা ‘গণভোটের কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে হাস্যকর এবং অগণতান্ত্রিক আখ্যায়িত করে। সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, গণভোট কে আইনি ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া, পুলিশ কমিশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে পুনরায় দলীয়করণের হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না, জুলাই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা পূর্বের ন্যায় স্বৈরতান্ত্রিক ও গণবিরোধী শাসন কায়েম করবে, তবে রাজপথের লড়াকু ছাত্র-জনতা তা কঠোর হস্তে দমন করবে।
বিবৃতিতে আরো বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্রের যে মৌলিক সংস্কারের সূচনা হয়েছিল, তার একটি বিন্দুও ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না। আমরা সরকারকে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে অবিলম্বে গণভোটের রায়কে কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে পুনরায় রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ইবি প্রতিনিধিঃ 
















