
ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযান জোরদারের মধ্যেই দেশটির নিরাপত্তায় পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘মক্কা চুক্তি’র আওতায় সৌদি আরবে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সামরিক সদস্য ও সক্ষমতা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে দেশ দুটি।
সোমবার সৌদি রাজধানী রিয়াদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানানো হয়। তবে যৌথ বিবৃতিতে হামলার জন্য হুতিদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশ সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলা বা হুমকির বিরোধিতা করার কথা জানায়। পাশাপাশি সম্মিলিত প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে তারা একমত হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। বাহিনীটির দাবি, দীর্ঘ ১২ বছরের সংঘাতে হুতিদের দখলে চলে যাওয়া বিস্তীর্ণ এলাকা পুনরুদ্ধার করাই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
তবে সৌদি আরবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি ইয়েমেনে চলমান সংঘাতে তাৎক্ষণিকভাবে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
পাকিস্তানের সামরিক সদস্যরা এরই মধ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। দেশটিতে কয়েক হাজার পাকিস্তানি সেনা রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সহায়তায় পাকিস্তান চারটি উড়োজাহাজে করে অস্ত্র ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পাঠিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের এক পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, পাকিস্তানি সদস্যদের একটি অংশ ইতোমধ্যে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলেও অবস্থান করছে। তবে তারা সৌদি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করছেন, নাকি সরাসরি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সেখানে রয়েছেন—তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে সোমবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ক্রিস মারফির সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপের অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত মারফি ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন।
তবে ওই যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে যায়। এরপর হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলা শুরু করে। এর প্রায় দুই মাস পর লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় নতুন করে সামরিক অভিযান চালায় তারা।
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী সোমবার দাবি করেছে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উপকূলীয় এলাকার বড় একটি অংশ তারা পুনর্দখল করেছে। এর মধ্যেই সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক সহায়তার ঘোষণা আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অধিকার ডেস্কঃ 






















