
লক্ষ্মীপুরে ঘরে ঢুকে রিফাত হোসেন (১৮) নামের এক যুবদলকর্মীকে অচেতন করার পর ব্লেড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম দিঘলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহত রিফাত পশ্চিম দিঘলী গ্রামের মৃত রিপন হোসেনের ছেলে। তিনি দিঘলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
রিফাতের ভাষ্যমতে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে ফেরেন। রাত ১টার দিকে ঘরে একা থাকা অবস্থায় তিনি দরজা ভাঙার শব্দ শুনতে পান। এ সময় ৪-৫ জন মুখোশধারী ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তার মুখে রুমাল চেপে ধরলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরে তিনি দেখেন তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। এরপর তাকে পুনরায় অচেতন করা হয়। পরবর্তীতে জ্ঞান ফিরলে তিনি শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্লেডের আঘাত দেখতে পান। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।
রিফাত বলেন, “মুখোশ পরা থাকায় আমি হামলাকারীদের কাউকে চিনতে পারিনি। কারো সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও নেই। আমি স্থানীয়ভাবে নারিকেল-সুপারির ছোট ব্যবসা পরিচালনা করি।”
রিফাতের বড় বোন রিয়া আক্তার জানান, খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে ছুটে এসে ভাইয়ের শরীরে ব্লেডের আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তিনি আরও জানান, এর আগেও তার ভাইয়ের ওপর একই ধরনের হামলা হয়েছিল এবং সেই ঘটনায় থানায় মামলা করা হলেও তারা ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি করেন।
দিঘলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরওয়ার বলেন, রিফাত যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী। এর আগেও তার ওপর হামলা হয়েছিল এবং সেই ঘটনার আপস-মীমাংসা হয়েছিল বলে তিনি জানান। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান।
দিঘলী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক হাসানুজ্জামান বলেন, শরীরে ব্লেডের আঘাত নিয়ে এক তরুণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাকে কেউ অবহিত করেনি। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ 

















