ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
দেশে সার সংকট নেই, এক মাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- কৃষিমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ী-এলাকাবাসীর মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিমন্ত্রীর সফর- জেলা বিএনপির শুভেচ্ছা ডিএনসির অভিযানে চোলাইমদ ও ওয়াশসহ একজন আটক, ছয় মাসের কারাদণ্ড শিশুদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ- নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী জামায়াত ও নারী ইস্যুতে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৫৯৬ জন সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা- প্রধানমন্ত্রী জুতার সূত্র ধরে মিললো ছাত্রীর মরদেহ জামিন পাওয়ার পর ফেসবুকে দুই শব্দের পোস্ট, আবারও আলোচনায় পরীমনি

দেশে সার সংকট নেই, এক মাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- কৃষিমন্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গায় কৃষি কার্যক্রম পরিদর্শন ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তবে সার সরবরাহ নিয়ে কোথাও কোথাও যে সমস্যা দেখা যাচ্ছে, তা আগামী এক মাসের মধ্যে সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় এক কৃষকের টমেটো ক্ষেত এবং অন্য এক কৃষকের আমবাগানে সাথি ফসল হিসেবে আদা চাষ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে আগে সারের সংকট ছিল না, বর্তমানে নেই এবং ভবিষ্যতেও সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। এ অঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের আবাদ বাড়ছে। বর্তমানে জমিতে ধান রয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে কাটা শুরু হবে। ধান কাটার পর নতুন ফসল আবাদের সময় সারের চাহিদা বাড়বে। সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তারপরও কোথাও সার নিয়ে সমস্যা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব। কৃষিকে স্বাবলম্বী করা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির উপযোগী করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কৃষকদের যতটুকু সার প্রয়োজন, চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। চলতি মাসে গত মাসের তুলনায় বেশি সার বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সার সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষির সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সারের চাহিদাও বাড়ছে। এ কারণে সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। আগে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে সার ডিলার থাকলেও এখন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে তিনজন করা হয়েছে। এতে কৃষকরা সহজে তাঁদের প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারবেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালার ব্যত্যয় হয়ে থাকলে সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। ডিলারদের লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

পরে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। পাশাপাশি কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের মতো কৃষিপণ্যের চাহিদা পূরণেও আমদানির প্রয়োজন হয়। তবে কৃষকদের পরিশ্রমে দেশে এবার পেঁয়াজের ভালো উৎপাদন হয়েছে, ফলে আমদানির প্রয়োজন পড়েনি।

তিনি আরও বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশকে কৃষিপণ্যের রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। যেসব কৃষিপণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, সেগুলোর উৎপাদন দেশে বাড়িয়ে ধাপে ধাপে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো হবে।

নিজেকে মন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি একজন কৃষক হিসেবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। কৃষক যেন তাঁর উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম পান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে আম উৎপাদনের পাশাপাশি ড্রাগন ফলের চাষেও অগ্রগতি হয়েছে। কৃষিজমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমবাগানের গাছের মধ্যবর্তী অব্যবহৃত জায়গায় আদা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কোনো জমি যেন পতিত না থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমবাগানের ফাঁকা জায়গায় আদা চাষ বাড়ানো সম্ভব হলে একদিকে দেশের আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে কৃষকরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের মাটির উপযোগিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে সেচের কাজে নদীর পানি ব্যবহারের উদ্যোগ সম্প্রসারণের কথাও জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নদী-নালা ও খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। ওই উদ্যোগে দেশের কৃষকরা উপকৃত হয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও কৃষির উন্নয়নে কাজ করেছেন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে আম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, আম দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত আমের ন্যায্যমূল্য পাবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জকে আম উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আম রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আমকে পোকামাকড়মুক্ত প্রমাণ করতে বিশেষ ধরনের যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের যন্ত্র সরকার সংগ্রহ করেছে। আম পাকার আগেই যন্ত্রটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মৌসুম থেকে আম রপ্তানি ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার আশাবাদ জানান তিনি।

পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের অগ্রগতির পাশাপাশি আদা, রসুন ও বর্ষাকালীন টমেটোর উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। আগামী মৌসুম থেকে বর্ষাকালীন টমেটো চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কৃষিপণ্য আমদানির পরিবর্তে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বাংলাদেশকে রপ্তানিমুখী কৃষি অর্থনীতির দেশে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ, কৃষক আতিক উদ্দিন ও মাশরুম চাষি কামরুন নাহার ইতি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়াসহ কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে সার সংকট নেই, এক মাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- কৃষিমন্ত্রী

দেশে সার সংকট নেই, এক মাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশের সময়ঃ ১২:১৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তবে সার সরবরাহ নিয়ে কোথাও কোথাও যে সমস্যা দেখা যাচ্ছে, তা আগামী এক মাসের মধ্যে সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় এক কৃষকের টমেটো ক্ষেত এবং অন্য এক কৃষকের আমবাগানে সাথি ফসল হিসেবে আদা চাষ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে আগে সারের সংকট ছিল না, বর্তমানে নেই এবং ভবিষ্যতেও সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। এ অঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের আবাদ বাড়ছে। বর্তমানে জমিতে ধান রয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে কাটা শুরু হবে। ধান কাটার পর নতুন ফসল আবাদের সময় সারের চাহিদা বাড়বে। সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তারপরও কোথাও সার নিয়ে সমস্যা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব। কৃষিকে স্বাবলম্বী করা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির উপযোগী করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কৃষকদের যতটুকু সার প্রয়োজন, চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। চলতি মাসে গত মাসের তুলনায় বেশি সার বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সার সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষির সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সারের চাহিদাও বাড়ছে। এ কারণে সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। আগে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে সার ডিলার থাকলেও এখন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে তিনজন করা হয়েছে। এতে কৃষকরা সহজে তাঁদের প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারবেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালার ব্যত্যয় হয়ে থাকলে সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। ডিলারদের লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

পরে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। পাশাপাশি কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের মতো কৃষিপণ্যের চাহিদা পূরণেও আমদানির প্রয়োজন হয়। তবে কৃষকদের পরিশ্রমে দেশে এবার পেঁয়াজের ভালো উৎপাদন হয়েছে, ফলে আমদানির প্রয়োজন পড়েনি।

তিনি আরও বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশকে কৃষিপণ্যের রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। যেসব কৃষিপণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, সেগুলোর উৎপাদন দেশে বাড়িয়ে ধাপে ধাপে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো হবে।

নিজেকে মন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি একজন কৃষক হিসেবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। কৃষক যেন তাঁর উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম পান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে আম উৎপাদনের পাশাপাশি ড্রাগন ফলের চাষেও অগ্রগতি হয়েছে। কৃষিজমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমবাগানের গাছের মধ্যবর্তী অব্যবহৃত জায়গায় আদা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কোনো জমি যেন পতিত না থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমবাগানের ফাঁকা জায়গায় আদা চাষ বাড়ানো সম্ভব হলে একদিকে দেশের আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে কৃষকরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের মাটির উপযোগিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে সেচের কাজে নদীর পানি ব্যবহারের উদ্যোগ সম্প্রসারণের কথাও জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নদী-নালা ও খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। ওই উদ্যোগে দেশের কৃষকরা উপকৃত হয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও কৃষির উন্নয়নে কাজ করেছেন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে আম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, আম দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত আমের ন্যায্যমূল্য পাবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জকে আম উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আম রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আমকে পোকামাকড়মুক্ত প্রমাণ করতে বিশেষ ধরনের যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের যন্ত্র সরকার সংগ্রহ করেছে। আম পাকার আগেই যন্ত্রটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মৌসুম থেকে আম রপ্তানি ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার আশাবাদ জানান তিনি।

পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের অগ্রগতির পাশাপাশি আদা, রসুন ও বর্ষাকালীন টমেটোর উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। আগামী মৌসুম থেকে বর্ষাকালীন টমেটো চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কৃষিপণ্য আমদানির পরিবর্তে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বাংলাদেশকে রপ্তানিমুখী কৃষি অর্থনীতির দেশে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ, কৃষক আতিক উদ্দিন ও মাশরুম চাষি কামরুন নাহার ইতি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়াসহ কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।