ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ধানমন্ডিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩ তিন মাদক বিক্রেতাকে আটকের জেরে গেণ্ডারিয়ায় সংঘর্ষ ও গুলি, আহত ৪ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের নতুন সিইও এনামুল হক সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে দৈনিক অধিকার জাতীয় সংসদের সামনে নারী শক্তির মানববন্ধন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রেলওয়ের বিশেষ প্রচারণা ‘চির বিদায় পৃথিবী’ পোস্টের ১৯ ঘণ্টা পর সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি উচ্ছেদ, রাজউকের ৩ বিঘা জমি দখলমুক্ত রাত ১টার মধ্যে ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস চাঁপাইনবাবগঞ্জে রহনপুর কমিউটার ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মৃত্যু

তিন মাদক বিক্রেতাকে আটকের জেরে গেণ্ডারিয়ায় সংঘর্ষ ও গুলি, আহত ৪

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৫৪:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৪০ Time View

তিন মাদক বিক্রেতাকে আটকের জেরে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। প্রতীকী ছবি।

রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় তিনজন মাদক বিক্রেতাকে আটকের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির এক কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।

রোববার রাতে গেণ্ডারিয়ার করাতিটোলা, স্বামীবাগ ও মুন্সিরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গেণ্ডারিয়া রেললাইন ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির ঘটনা ঘটছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় কারবারিদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, রোববার সন্ধ্যায় গেণ্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলা এলাকায় মাদক বিক্রির সময় ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী মনির হোসেনের লোকজন মো. রিফাত, মো. বিল্লাল ও মো. রাকিব নামে তিন তরুণকে আটক করে।

পরে তাদের মনির হোসেনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। সেখানে মারধরের পর গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশকে ডেকে ওই তিনজনকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার টহলরত অবস্থায় গেণ্ডারিয়া থানার এসআই আবদুল কাদের ফোর্সসহ স্থানীয়দের সহায়তায় রাকিব, রিফাত ও বিল্লালকে আটক করেন। তাদের কাছ থেকে ৯৬ পিস ইয়াবা ও ৩৩ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাদের থানায় নেওয়া হয়। এরপর রাত পৌনে ৮টার দিকে একই এলাকার একটি গ্রুপের অন্তত ২০ জন রেললাইনসংলগ্ন স্বামীবাগের মুন্সিরটেক জামে মসজিদের পাশের গলিতে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় হামলাকারীরা মনিরের লোকজনের ওপর হামলা চালানোর পাশাপাশি একটি কার্যালয় ভাঙচুর করে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। গুলির শব্দে আশপাশের দোকানিরা দ্রুত দোকান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হন চা দোকানি আলমগীর, পথচারী আশা আক্তার ও সিয়াম। রাতে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঢাকা মহানগর বিএনপির দক্ষিণ শাখার সদস্য ওমর নবী বাবু আহত হন। তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অটো সজল নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ প্রায় দুই মাস আগে মাদক মামলায় গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, তিনি কারাগারে থাকলেও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনার পর সোমবার সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। এ ছাড়া থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে ২০ রাউন্ড গুলির খোসা ও কয়েকটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ধানমন্ডিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩

তিন মাদক বিক্রেতাকে আটকের জেরে গেণ্ডারিয়ায় সংঘর্ষ ও গুলি, আহত ৪

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৫৪:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় তিনজন মাদক বিক্রেতাকে আটকের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির এক কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।

রোববার রাতে গেণ্ডারিয়ার করাতিটোলা, স্বামীবাগ ও মুন্সিরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গেণ্ডারিয়া রেললাইন ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির ঘটনা ঘটছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় কারবারিদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, রোববার সন্ধ্যায় গেণ্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলা এলাকায় মাদক বিক্রির সময় ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী মনির হোসেনের লোকজন মো. রিফাত, মো. বিল্লাল ও মো. রাকিব নামে তিন তরুণকে আটক করে।

পরে তাদের মনির হোসেনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। সেখানে মারধরের পর গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশকে ডেকে ওই তিনজনকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার টহলরত অবস্থায় গেণ্ডারিয়া থানার এসআই আবদুল কাদের ফোর্সসহ স্থানীয়দের সহায়তায় রাকিব, রিফাত ও বিল্লালকে আটক করেন। তাদের কাছ থেকে ৯৬ পিস ইয়াবা ও ৩৩ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাদের থানায় নেওয়া হয়। এরপর রাত পৌনে ৮টার দিকে একই এলাকার একটি গ্রুপের অন্তত ২০ জন রেললাইনসংলগ্ন স্বামীবাগের মুন্সিরটেক জামে মসজিদের পাশের গলিতে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় হামলাকারীরা মনিরের লোকজনের ওপর হামলা চালানোর পাশাপাশি একটি কার্যালয় ভাঙচুর করে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। গুলির শব্দে আশপাশের দোকানিরা দ্রুত দোকান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হন চা দোকানি আলমগীর, পথচারী আশা আক্তার ও সিয়াম। রাতে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঢাকা মহানগর বিএনপির দক্ষিণ শাখার সদস্য ওমর নবী বাবু আহত হন। তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অটো সজল নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ প্রায় দুই মাস আগে মাদক মামলায় গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, তিনি কারাগারে থাকলেও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনার পর সোমবার সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। এ ছাড়া থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে ২০ রাউন্ড গুলির খোসা ও কয়েকটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।