
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবৈধ দখলে থাকা হাজী মাজার বস্তি উচ্ছেদ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রায় তিন বিঘা জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে জমিটি পুনরুদ্ধার করে রাজউক।
রাজউকের উপপরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. লিটন সরকারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজউক জানায়, সংস্থাটির মালিকানাধীন একটি প্লট দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই জমির অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে রাজউক জমিটি পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
রাজউকের উপপরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. লিটন সরকার বলেন, রাজউকের একটি প্লট দীর্ঘদিন ধরে দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং প্রায় তিন বিঘা জমি বুঝে নেওয়া হয়েছে। পুনরায় যাতে জমিটি দখলে না যায়, সেজন্য সেখানে নিয়মিত নজরদারি রাখা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীতে ১৯টি মাদকপ্রবণ বস্তি রয়েছে। এর মধ্যে হাজী মাজার বস্তি অন্যতম বড়। সেখানে তিন শতাধিক ভাসমান পরিবার বসবাস করত। পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, এসব পরিবারের একটি অংশ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজী মাজার বস্তিটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। একাধিকবার অভিযান পরিচালিত হলেও সেখানে মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। এলাকাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ছিল।
সোমবার ভোর থেকে পুলিশ সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে রাখেন। পরে মাইকিং করে বস্তির বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
জিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠা ও মাদক কারবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বস্তিটি উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযানের পর দখলমুক্ত স্থানে অবৈধ কার্যক্রম যাতে পুনরায় গড়ে না ওঠে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারি জোরদার করবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, অবৈধ মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন মহলের সহযোগিতা পাচ্ছেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদেরও সহায়তা কামনা করেন।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজউকের দখলমুক্ত জমিতে যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
দৈনিক অধিকার ডেস্কঃ 





















