
দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না বলে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রম সততা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে। জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ ও সেবামুখী মনোভাব নিশ্চিত করতে হবে, কারণ প্রশাসনের কাছে মানুষ ন্যায়বিচার ও কার্যকর সেবা প্রত্যাশা করে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী সার্কিট হাউজে আয়োজিত বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি রাজশাহীর মাটির সন্তান। আমরা একে অপরের সহকর্মী; কেউ কারও বস নই। আপনারা সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। আইন সবার জন্য সমান। আমার সন্তানও যদি আইন লঙ্ঘন করে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে প্রতিদিন আঠারো ঘণ্টা কাজ করছেন। তার নেতৃত্বে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের প্রতিটি দপ্তর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি রমজান মাসে জনদুর্ভোগ এড়াতে বাজার পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবা খাতে সমন্বিত প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের জন্য কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান।
রাজশাহী প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একসময় শান্তির শহর ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে পরিচিত রাজশাহী এখন আর আগের মতো নিরাপদ নয়। তবে বিএনপির আমলে শহরটি সাতবার পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তিনি রাজশাহীকে পুনরায় পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রশ্নই আসে না। তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেন। সততা ও নীতির ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই, এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ৪৬ বছর পর রাজশাহী সদর আসন থেকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া পুরো রাজশাহীবাসীর জন্য সম্মানের বিষয়। এটি একক কোনো ব্যক্তির অর্জন নয়, বরং সবার ভালোবাসা ও সমর্থনের ফল। প্রায় ২০ বছর পর রাজশাহীর জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিগগিরই রাজশাহীর উন্নয়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও রাসিকের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















