ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

খামেনি হত্যার অভিযোগে ভারতে বিক্ষোভ: কাশ্মীর-উত্তরপ্রদেশে শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ

রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকে কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থ প্রধান চত্বরে লাল, কালো ও হলুদ পতাকা হাতে সমবেত হন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। সংগৃহীত ছবি

মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতের কাশ্মীর ও উত্তরপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয় এবং ইরানের প্রতি সংহতি জানানো হয়।

রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকে কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থলে কয়েক হাজার মানুষ লাল, কালো ও হলুদ পতাকা হাতে সমবেত হন। আবেগঘন পরিবেশ থাকলেও সমাবেশটি মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল। বিক্ষোভকারীরা সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে একে মুসলিম বিশ্বের জন্য বড় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিক্ষোভকারী সাইয়্যেদ তৌফিক বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতাকে শহিদ করা হয়েছে—আজ আমরা শোকাহত। যদি কেউ মনে করে এভাবে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে, তবে তা ভুল ধারণা।” তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানান।

কাশ্মীরের বান্দিপুর, বুদগাম ও রামবান এলাকাতেও শিয়া মুসলিমরা বিক্ষোভে অংশ নেন। রামবানে “তুম কিতনে হোসেইনি মারোগে… হার ঘর সে হোসেইনি নিকলেগা” স্লোগান দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতিকৃতি ও ইরানের পতাকা; শোকের প্রতীক হিসেবে কালো পতাকা ও নওহা পাঠও শোনা যায়।

খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের শিয়া সমিতি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ইরান মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। কোনো আগ্রাসন তার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে পারে না।” কাশ্মীরের প্রধান ইমাম মীরওয়াইজ উমর ফারুকও হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

উত্তরপ্রদেশে অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি মাওলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রজভী বেরেলভী বলেন, “দীর্ঘদিন ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া খামেনির মৃত্যু মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর ক্ষতি।” তবে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান, যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে।

লখনউ ইসলামিক সেন্টারের চেয়ারম্যান মাওলানা খালিদ রশীদ ফিরঙ্গী মাহালী হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন এবং রাষ্ট্রসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংঘাত নিরসনে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। শিয়া নেতা মাওলানা সাইফ আব্বাসও হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

কাশ্মীর ও উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও ভারতের যেসব অঞ্চলে শিয়া মুসলিমদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে, সেসব এলাকাতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনি হত্যার অভিযোগে ভারতে বিক্ষোভ: কাশ্মীর-উত্তরপ্রদেশে শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতের কাশ্মীর ও উত্তরপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয় এবং ইরানের প্রতি সংহতি জানানো হয়।

রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকে কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থলে কয়েক হাজার মানুষ লাল, কালো ও হলুদ পতাকা হাতে সমবেত হন। আবেগঘন পরিবেশ থাকলেও সমাবেশটি মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল। বিক্ষোভকারীরা সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে একে মুসলিম বিশ্বের জন্য বড় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিক্ষোভকারী সাইয়্যেদ তৌফিক বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতাকে শহিদ করা হয়েছে—আজ আমরা শোকাহত। যদি কেউ মনে করে এভাবে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে, তবে তা ভুল ধারণা।” তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানান।

কাশ্মীরের বান্দিপুর, বুদগাম ও রামবান এলাকাতেও শিয়া মুসলিমরা বিক্ষোভে অংশ নেন। রামবানে “তুম কিতনে হোসেইনি মারোগে… হার ঘর সে হোসেইনি নিকলেগা” স্লোগান দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতিকৃতি ও ইরানের পতাকা; শোকের প্রতীক হিসেবে কালো পতাকা ও নওহা পাঠও শোনা যায়।

খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের শিয়া সমিতি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ইরান মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। কোনো আগ্রাসন তার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে পারে না।” কাশ্মীরের প্রধান ইমাম মীরওয়াইজ উমর ফারুকও হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

উত্তরপ্রদেশে অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি মাওলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রজভী বেরেলভী বলেন, “দীর্ঘদিন ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া খামেনির মৃত্যু মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর ক্ষতি।” তবে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান, যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে।

লখনউ ইসলামিক সেন্টারের চেয়ারম্যান মাওলানা খালিদ রশীদ ফিরঙ্গী মাহালী হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন এবং রাষ্ট্রসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংঘাত নিরসনে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। শিয়া নেতা মাওলানা সাইফ আব্বাসও হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

কাশ্মীর ও উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও ভারতের যেসব অঞ্চলে শিয়া মুসলিমদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে, সেসব এলাকাতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।