
নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলমান সরকারি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের মান পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার ওয়ালিয়া ব্রিজ থেকে খলিসাডাঙ্গা নদীমুখী খালের পুনঃখনন কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে তারা প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন জানান, প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে খলিসাডাঙ্গা খালের ৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান।
পরিদর্শন দলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেদী জাহান এবং উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় মোট ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে আড়বাব ইউনিয়নের চন্দনা খাল এবং ওয়ালিয়া ইউনিয়নের খলিসাডাঙ্গা অভিমুখী মোট সাড়ে ৫ কিলোমিটার সরকারি খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এর আগে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হ্রাস, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলধারণ সক্ষমতা বাড়বে। এর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাজেদুর রহমান, নাটোর 

















