
ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে আহত মো. মোশাররফ (৪৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর থেকে তাকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে পাওয়া যাচ্ছে না।
মোশাররফ ছাগলনাইয়া উপজেলার জয়নগরের পচা মিয়ার বাড়ির বাসিন্দা।
এর আগে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে পূর্ব জয়নগর সীমান্ত এলাকায় নিজের কৃষিজমিতে কাজ করার সময় বিএসএফের গুলিতে আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শুক্রবার সন্ধ্যায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভর্তির পর মোশাররফকে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ৫ নম্বর শয্যায় রাখা হয়। শনিবার দুপুরের পর থেকে ওই শয্যাটি ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে তার দুটি এক্স-রে ফিল্ম ও কিছু ওষুধের প্যাকেট পড়ে ছিল।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন মোশাররফের হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তারা ধারণা করেছিলেন, কোনো প্রয়োজনে তিনি হয়তো বাইরে গেছেন এবং পরে ফিরে আসবেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পার হলেও বিকেল পর্যন্ত তিনি আর হাসপাতালে ফেরেননি।
মোশাররফের পাশের শয্যার রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, শনিবার সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা তার সঙ্গে কথা বলতে আসছিলেন। তবে দুপুরের পর তাকে আর শয্যায় দেখা যায়নি। চিকিৎসক ও নার্সরা আশপাশে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকদের ভাষ্য, মোশাররফের শরীরে আনুমানিক ৮০ থেকে ১০০টি ছররা গুলির আঘাত রয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, ছাগলনাইয়ার জয়নগরের পচা মিয়ার বাড়ির মৃত মো. মোস্তফার ছেলে মোশাররফ নিজের কৃষিজমিতে কাজ করার সময় বিএসএফের গুলিতে আহত হন। গুলির একটি অংশ তার পিঠের বাঁ পাশে লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ভর্তি করেন।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসকরা মোশাররফের শরীর থেকে গুলির কিছু অংশ বের করেছেন। তবে আরও কিছু গুলির অংশ শরীরের ভেতরে রয়েছে। শনিবার দুপুরের পর তাকে শয্যায় না পাওয়ার বিষয়টি জানার পর হাসপাতাল পুলিশও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। কী কারণে কাউকে না জানিয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন, তা এখনো জানা যায়নি।
অধিকার ডেস্কঃ 






















