
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত নির্মিত দুই লেনের দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রকল্পের প্রথম কোনো অংশ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হলো।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে ধউর সেতুর ওপর আয়োজিত অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্ভিস সেতু দুটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রউফসহ প্রকল্পের দেশি-বিদেশি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সার্ভিস সেতু দুটি চালু হওয়ায় উত্তরা থেকে আশুলিয়া এবং আশুলিয়া থেকে উত্তরা অভিমুখী যানবাহনের চলাচল আরও সহজ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত দুটি সার্ভিস সেতুর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। গত আগস্টে সেতু দুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরই মধ্যে পিচ ঢালাই ও সড়কের রোড মার্কিংয়ের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় এটিই প্রথম অংশ, যার সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষ পাবেন। একটি সার্ভিস লেন দিয়ে আশুলিয়া থেকে ঢাকার দিকে এবং অন্যটি দিয়ে ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যানবাহন চলাচল করবে। এরপর মূল লেন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার জানান, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনের দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনের পর সার্ভিস লেনে চলাচলকারী প্রাইভেটকার চালক রাজু আহমেদ বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলার কারণে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার পোশাক কারখানার মালিক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যানজটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সার্ভিস লেন দুটি চালু হওয়ায় যানজট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন তিনি।
প্রকল্পের আওতায় যা থাকছে
রাজধানীর যানজট কমানো এবং ঢাকা থেকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।
চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির নির্মাণকাজ করছে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। অর্থায়ন করছে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (চায়না এক্সিম ব্যাংক)।
প্রকল্পের মূল এলিভেটেড অংশের দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার। এর পাশাপাশি ১০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৪টি র্যাম্প, নবীনগরে ১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার ফ্লাইওভার এবং আশুলিয়া-ধউর বাঁধ সড়ক বরাবর ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ ডাক্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন মহাসড়কের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দেশের আন্তসীমান্ত সড়ক যোগাযোগও আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনকে নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধ করতে হবে।
অধিকার ডেস্কঃ 





















