ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থ, লংমার্চে বাধা এলে জনগণই প্রতিহত করবে- আখতার শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টে গেল আসামিবাহী পুলিশ জিপ, নিহত এক পুলিশ সদস্য আসিফ মাহমুদের সময়কার নিয়োগ-পদোন্নতি ও বদলির সব নথি চাইল দুদক সাত মাসে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের জিডি, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯-পুলিশ সদরদপ্তর শাপলা চত্বর মামলার বিচার দ্রুত শেষের তাগিদ প্রসিকিউশনের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা রমনায় ৭ কেজি গাঁজাসহ ‘মিন্টু’ গ্রেপ্তার ইউএনওকে ঘিরে ‘আপত্তিকর বক্তব্য-নাচোলে দুই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত মিরপুরে বিদেশি পিস্তল-রিভলবার ও গুলিসহ ‘শুটার জাকির’ গ্রেপ্তার

সাত মাসে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের জিডি, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯-পুলিশ সদরদপ্তর

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৮:০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৩৯ Time View

পুলিশ সদরদপ্তর। সংগৃহীত ছবি

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের হিসাবে, তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এদের মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৬৮ শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৭০ জনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনে কতজন শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য সব ক্ষেত্রে তুলে ধরা হয়নি। এতে শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

এ কারণে বিষয়টি স্পষ্ট করতে দেশের বিভিন্ন থানার মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুদের তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে পুলিশ সদরদপ্তর।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের ঠিকানা বা অভিভাবকের তথ্য বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফিরতে গিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো কারণে নিখোঁজের ঘটনায় পড়ে।

অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিমান, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক অশান্তি, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, লজ্জা বা ভয় থেকে পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সদরদপ্তর আরও জানায়, সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি ব্যবস্থা চালুর পর নিখোঁজ-সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির সংখ্যা বেড়েছে। এর ফলে আগের তুলনায় বেশি মানুষ সহজে ও দ্রুত এ ধরনের তথ্য থানায় নথিভুক্ত করতে পারছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নিখোঁজ-সংক্রান্ত ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।

সর্বশেষ সাত মাসের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো ২ হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান না মেলায় তাদের খুঁজে বের করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ

সাত মাসে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের জিডি, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯-পুলিশ সদরদপ্তর

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের হিসাবে, তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এদের মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৬৮ শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৭০ জনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনে কতজন শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য সব ক্ষেত্রে তুলে ধরা হয়নি। এতে শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

এ কারণে বিষয়টি স্পষ্ট করতে দেশের বিভিন্ন থানার মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুদের তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে পুলিশ সদরদপ্তর।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের ঠিকানা বা অভিভাবকের তথ্য বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফিরতে গিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো কারণে নিখোঁজের ঘটনায় পড়ে।

অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিমান, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক অশান্তি, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, লজ্জা বা ভয় থেকে পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সদরদপ্তর আরও জানায়, সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি ব্যবস্থা চালুর পর নিখোঁজ-সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির সংখ্যা বেড়েছে। এর ফলে আগের তুলনায় বেশি মানুষ সহজে ও দ্রুত এ ধরনের তথ্য থানায় নথিভুক্ত করতে পারছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নিখোঁজ-সংক্রান্ত ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।

সর্বশেষ সাত মাসের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো ২ হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান না মেলায় তাদের খুঁজে বের করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।