ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
আসিফ মাহমুদের সময়কার নিয়োগ-পদোন্নতি ও বদলির সব নথি চাইল দুদক সাত মাসে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের জিডি, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯-পুলিশ সদরদপ্তর শাপলা চত্বর মামলার বিচার দ্রুত শেষের তাগিদ প্রসিকিউশনের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা রমনায় ৭ কেজি গাঁজাসহ ‘মিন্টু’ গ্রেপ্তার ইউএনওকে ঘিরে ‘আপত্তিকর বক্তব্য-নাচোলে দুই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত মিরপুরে বিদেশি পিস্তল-রিভলবার ও গুলিসহ ‘শুটার জাকির’ গ্রেপ্তার রিমার্কের পথ ধরে কসমেটিকস রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন শামা ওবায়েদ অসুস্থতায় মিডটার্মে অনুপস্থিত হলে জরিমানা, ক্ষুব্ধ বেরোবির শিক্ষার্থীরা ক্যান্সার আক্রান্ত যুবদল নেতার পাশে তারেক রহমান

ইউএনওকে ঘিরে ‘আপত্তিকর বক্তব্য-নাচোলে দুই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

কসবা ইউপি চেয়ারম্যান আল মেরাব জাকারিয়া ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।সংগৃহীত ছবি

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি–২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার গড়াল জনপ্রতিনিধিদের পদে। নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি আচরণের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন-নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম এবং কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে গত ২৪ আগস্ট এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে নাচোলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) উজ্জ্বল কুমার ঘোষ দুই চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “গত ২৪ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে সেটি কার্যকর করা হয়েছে।”

যে অভিযোগে বরখাস্ত

সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারি–২০২৬-এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম ও কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ও জনসম্মুখে আপত্তিকর, মানহানিকর এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত শালীনতা, দায়িত্বশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ, সরকারের দৃষ্টিতে একজন জনপ্রতিনিধির প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে আইন, শালীনতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না—সে প্রশ্ন থেকেই দুই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “নোটিশ পেয়েছি। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ জবাব দেব।”

তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও নোটিশের জবাব দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “বর্তমান নাচোল উপজেলা পরিষদের ইউএনও আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি ফ্যামিলি কার্ডে নিয়োগের সময় আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা কোনো অন্যায় করিনি। আজ সকালে নোটিশ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব।”

তবে ইউএনওর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামের আনা রাজনৈতিক পক্ষপাত ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত গত ১০ আগস্ট। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি–২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর নাচোল উপজেলা জুড়ে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ শুরু হয়।

সেদিন বেলা ১১টার দিকে নাচোল পৌর ও উপজেলা বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে তারা বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান করা হয়নি।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইউএনওকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করে।

তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি–২০২৬-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।

দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্তের খবর প্রকাশের পর নাচোলের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মহিবুর রহমান রাকিব, আহাদ আলী, নুরুল ইসলাম ও সাহাবুল খানসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী এ আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় নেতা নুরুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যদি বরখাস্ত হতে হয়, তাহলে বারবার হব। তারপরও অন্যায়ের প্রতিবাদ করব, ইনশাআল্লাহ।”

নাচোল পৌর বিএনপির সহসভাপতি আমানুল্লাহ মাসুদ বলেন, ওইদিন দলের অনেক নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। চেয়ারম্যানরা তাদের বক্তব্যে প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, “প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা অপমান করা হয়নি। তারপরও এ ধরনের আদেশ জনপ্রতিনিধিদের জন্য হতাশাজনক।”

একদিকে সরকারের প্রজ্ঞাপনে ইউএনওর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দুই জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা দাবি করছেন, নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদ করাই তাদের ‘অপরাধ’।

ফলে নাচোলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—জনপ্রতিনিধির প্রতিবাদের সীমারেখা কোথায়, আর প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পথই বা কোনটি?

ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগ নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কের মধ্যেই ইউএনও কার্যালয়ে তালা দেওয়া, প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ, প্রকাশ্য বক্তব্য এবং সর্বশেষ দুই ইউপি চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্ত—সব মিলিয়ে নাচোলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিফ মাহমুদের সময়কার নিয়োগ-পদোন্নতি ও বদলির সব নথি চাইল দুদক

ইউএনওকে ঘিরে ‘আপত্তিকর বক্তব্য-নাচোলে দুই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি–২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার গড়াল জনপ্রতিনিধিদের পদে। নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি আচরণের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন-নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম এবং কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে গত ২৪ আগস্ট এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে নাচোলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) উজ্জ্বল কুমার ঘোষ দুই চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “গত ২৪ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে সেটি কার্যকর করা হয়েছে।”

যে অভিযোগে বরখাস্ত

সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারি–২০২৬-এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম ও কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ও জনসম্মুখে আপত্তিকর, মানহানিকর এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত শালীনতা, দায়িত্বশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ, সরকারের দৃষ্টিতে একজন জনপ্রতিনিধির প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে আইন, শালীনতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না—সে প্রশ্ন থেকেই দুই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “নোটিশ পেয়েছি। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ জবাব দেব।”

তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও নোটিশের জবাব দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “বর্তমান নাচোল উপজেলা পরিষদের ইউএনও আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি ফ্যামিলি কার্ডে নিয়োগের সময় আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা কোনো অন্যায় করিনি। আজ সকালে নোটিশ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব।”

তবে ইউএনওর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামের আনা রাজনৈতিক পক্ষপাত ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত গত ১০ আগস্ট। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি–২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর নাচোল উপজেলা জুড়ে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ শুরু হয়।

সেদিন বেলা ১১টার দিকে নাচোল পৌর ও উপজেলা বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে তারা বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান করা হয়নি।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইউএনওকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করে।

তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি–২০২৬-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।

দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্তের খবর প্রকাশের পর নাচোলের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মহিবুর রহমান রাকিব, আহাদ আলী, নুরুল ইসলাম ও সাহাবুল খানসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী এ আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় নেতা নুরুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যদি বরখাস্ত হতে হয়, তাহলে বারবার হব। তারপরও অন্যায়ের প্রতিবাদ করব, ইনশাআল্লাহ।”

নাচোল পৌর বিএনপির সহসভাপতি আমানুল্লাহ মাসুদ বলেন, ওইদিন দলের অনেক নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। চেয়ারম্যানরা তাদের বক্তব্যে প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, “প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা অপমান করা হয়নি। তারপরও এ ধরনের আদেশ জনপ্রতিনিধিদের জন্য হতাশাজনক।”

একদিকে সরকারের প্রজ্ঞাপনে ইউএনওর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দুই জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা দাবি করছেন, নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদ করাই তাদের ‘অপরাধ’।

ফলে নাচোলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—জনপ্রতিনিধির প্রতিবাদের সীমারেখা কোথায়, আর প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পথই বা কোনটি?

ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগ নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কের মধ্যেই ইউএনও কার্যালয়ে তালা দেওয়া, প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ, প্রকাশ্য বক্তব্য এবং সর্বশেষ দুই ইউপি চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্ত—সব মিলিয়ে নাচোলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।