
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে টানা তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। বুধবার সকালে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কাঠেরপুল এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টা থেকে কাঠেরপুল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগের দুই দিনের মতো লিংক রোড অবরোধের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। তাঁদের লিংক রোডে উঠতে দেওয়া হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা আন্দোলন
এর আগে গত সোমবার পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ফতুল্লার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলন শুরু করেন। ওই দিন শিবু মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করা হলে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিকেরা সড়কে নামলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুরে শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হওয়া শ্রমিকেরা পরে জালকুড়ি এলাকায় যান। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও টিয়ারশেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছয় শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে বুধবার সকালে শ্রমিকেরা আবারও লিংক রোড অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অধিকার ডেস্কঃ 





















