ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিশন পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হবে ডিসেম্বর থেকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিককে গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের পূর্বানুমতি বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন চীনা দূতাবাসের জিম্মায় জামিন পেলেন চীন ও তাইওয়ানের ৬ নাগরিক ‘অপলক’ দিয়ে বড় পর্দায় রাজীব, জুটি হচ্ছেন নিশো-মেহজাবীন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষার নতুন বই, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হবে ডিসেম্বর থেকে

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১২:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১২৪৯ Time View

সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য গঠিত অষ্টম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে কথা বলছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। সংগৃহীত ছবি

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি আগামী পয়লা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। এ অনুযায়ী জানুয়ারিতে ডিসেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে শ্রমিকেরা নতুন কাঠামোর বর্ধিত মজুরি পাবেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে পোশাকশিল্পের জন্য গঠিত অষ্টম নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার জানান, নতুন মজুরি পয়লা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর এবং জানুয়ারিতে ডিসেম্বরের বেতনের সঙ্গে তা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁদের ঐকমত্য হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শেষ করার প্রস্তাব শ্রমিকপক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সভায় শ্রমিকপক্ষের লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সব শ্রমিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি যৌক্তিক মজুরি প্রস্তাব তৈরি করে বোর্ডে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনও ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে শ্রমিকেরা জানুয়ারিতে বর্ধিত মজুরি পান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী। তিনি জানান, গত পয়লা নভেম্বর সরকার পোশাকশিল্পের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রথম সভা হওয়ায় মজুরি নির্ধারণের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

প্রথম সভায় সদস্যদের পরিচিতি পর্বের পাশাপাশি মজুরি নির্ধারণের আইনগত পদ্ধতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। পরবর্তী সভায় উভয় পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

আগামী সপ্তাহে বোর্ডের পরবর্তী সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সাধারণত শিল্প খাতের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় মাসের একটি সময়সীমা থাকে। তবে এবার সরকার দ্রুততম সময়ে বোর্ড গঠন করেছে, ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুপারিশ প্রণয়ন করে সরকারের কাছে জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বোর্ডের সদস্যরা শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই কাজ করছেন। বোর্ডের সুপারিশ শ্রমিকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় শ্রমিক প্রতিনিধিরা মজুরির পাশাপাশি শ্রম আইন বাস্তবায়ন, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানে তাঁরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাবুল আখতার বলেন, মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি শ্রমিকদের অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া, গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক ও নেতাদের মুক্তি এবং কোনো ধরনের নির্যাতন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের মজুরি বোর্ডের। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ একসঙ্গে কাজ করতে চায়। তাই উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলনের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গত পয়লা নভেম্বর ছয় সদস্যের বোর্ড গঠন করে সরকার। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন এই বোর্ডকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হবে ডিসেম্বর থেকে

প্রকাশের সময়ঃ ১২:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি আগামী পয়লা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। এ অনুযায়ী জানুয়ারিতে ডিসেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে শ্রমিকেরা নতুন কাঠামোর বর্ধিত মজুরি পাবেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে পোশাকশিল্পের জন্য গঠিত অষ্টম নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার জানান, নতুন মজুরি পয়লা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর এবং জানুয়ারিতে ডিসেম্বরের বেতনের সঙ্গে তা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁদের ঐকমত্য হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শেষ করার প্রস্তাব শ্রমিকপক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সভায় শ্রমিকপক্ষের লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সব শ্রমিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি যৌক্তিক মজুরি প্রস্তাব তৈরি করে বোর্ডে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনও ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে শ্রমিকেরা জানুয়ারিতে বর্ধিত মজুরি পান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী। তিনি জানান, গত পয়লা নভেম্বর সরকার পোশাকশিল্পের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রথম সভা হওয়ায় মজুরি নির্ধারণের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

প্রথম সভায় সদস্যদের পরিচিতি পর্বের পাশাপাশি মজুরি নির্ধারণের আইনগত পদ্ধতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। পরবর্তী সভায় উভয় পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

আগামী সপ্তাহে বোর্ডের পরবর্তী সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সাধারণত শিল্প খাতের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় মাসের একটি সময়সীমা থাকে। তবে এবার সরকার দ্রুততম সময়ে বোর্ড গঠন করেছে, ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুপারিশ প্রণয়ন করে সরকারের কাছে জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বোর্ডের সদস্যরা শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই কাজ করছেন। বোর্ডের সুপারিশ শ্রমিকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় শ্রমিক প্রতিনিধিরা মজুরির পাশাপাশি শ্রম আইন বাস্তবায়ন, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানে তাঁরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাবুল আখতার বলেন, মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি শ্রমিকদের অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া, গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক ও নেতাদের মুক্তি এবং কোনো ধরনের নির্যাতন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের মজুরি বোর্ডের। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ একসঙ্গে কাজ করতে চায়। তাই উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলনের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গত পয়লা নভেম্বর ছয় সদস্যের বোর্ড গঠন করে সরকার। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন এই বোর্ডকে।