ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
চীনা দূতাবাসের জিম্মায় জামিন পেলেন চীন ও তাইওয়ানের ৬ নাগরিক ‘অপলক’ দিয়ে বড় পর্দায় রাজীব, জুটি হচ্ছেন নিশো-মেহজাবীন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষার নতুন বই, জানালেন প্রতিমন্ত্রী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব কি কমছে? খাদ্য অপচয় কমাতে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান পোশাকশ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকারের প্রতি শফিকুর রহমানের আহ্বান চট্টগ্রামে শ্রমিক হত্যা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মশাল মিছিল টেস্ট বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি তাইজুল ও মিরাজের

মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:১১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ১২৩৪ Time View

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় ব্যবধানের জয়কে দলটির প্রতীকের সঙ্গে মিল রেখে ‘ব্লু ওয়েভ’ বা নীল সুনামি বলা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বাণিজ্যিক অংশীদার, কৌশলগত মিত্র কিংবা প্রতিপক্ষ—সবার নজর ছিল এই নির্বাচনের দিকে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় ভুক্তভোগী হয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার বলেছেন, মার্কিনিরা যুদ্ধকে ‘না’ বলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, মার্কিন সরকার এখন জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তার পরিণতি হবে দুঃস্বপ্নের মতো।

গত দুই বছরে গ্রিনল্যান্ড থেকে শুরু করে ন্যাটোর সহায়তাসহ নানা বিষয়ে ইউরোপকে চাপে রেখেছিলেন ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছে, দুর্বল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরোপের কাছে উচ্ছ্বাসের কারণ হতে পারেন। তবে অতি-উচ্ছ্বাসের সুযোগ কম। কারণ, রাজনৈতিক পালাবদলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

তবে নির্বাচনের ফলাফল বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে প্রভাব ফেলতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ইরান ও ইসরায়েল, জ্বালানির দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক সহায়তা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং প্রযুক্তি খাতের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইরান ও ইসরায়েল

আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ কোন পথে এগোবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। অনেক মার্কিন ভোটারই এ সংঘাতে ক্লান্ত। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর কয়েকটি সরকার এখন মনে করছে, শান্তি চুক্তির জন্য ট্রাম্পের আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, নির্বাচনের পর ইরানে ফের পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার আশঙ্কা কমেছে।

তবে নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের বড় পরাজয় ইরানকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমিরেটস পলিসি সেন্টারের এবতেসাম আল-কেতবি বলেন, তেহরান যদি বুঝতে পারে ট্রাম্প প্রকৃত সমঝোতা চাইছেন, তাহলে যুদ্ধ বন্ধের বাস্তব সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্পের দুর্বলতা হিসেবে দেখলে তা উল্টো সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইসরায়েলের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মার্কিন সমর্থন হুমকির মুখে পড়তে পারে। ডেমোক্র্যাটদের হাতে নিয়ন্ত্রণ যাওয়ায় ইরান, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে ব্যবহার করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর শাসনামলেই যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে।

জ্বালানির দাম

যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে দাম বেড়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর জ্বালানি বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের শান্তি আলোচনা এগোতে পারে। এতে তেলের দাম কমেছে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১০২ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৪২ ডলারে নেমেছে।

ডেনমার্কের স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন রয়টার্সকে বলেন, বাজারের প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ইতি টানতে চান।

বৈশ্বিক বাণিজ্য

শুল্ক এড়াতে এশিয়ার কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এখন এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতি ধীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় চীন সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে।

ট্রাম্পের দলের পরাজয়ে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ভারতও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক বাণিজ্যসচিব অনুপ ওয়াধওয়ান রয়টার্সকে বলেন, এখন ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বাণিজ্যসংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে কংগ্রেসের অনুমোদনও প্রয়োজন হতে পারে। সে দিক থেকে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও আমদানি শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের। তবে ট্রাম্প এতদিন জাতীয় নিরাপত্তা ও অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার যুক্তিতে শুল্ক আরোপের জন্য বিভিন্ন আইন কাজে লাগিয়েছেন। এই ক্ষমতা সীমিত করতে ডেমোক্র্যাটরা উদ্যোগ নিলে তা প্রেসিডেন্টের ভেটোর মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা কর আরোপের কারণে ইউরোপের দেশগুলোর পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এমন আরও কিছু হুমকি তিনি বাস্তবায়ন করবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বৈদেশিক সহায়তা পুনর্বহালের সম্ভাবনা

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এটি নজিরবিহীন বৃদ্ধি। তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা প্রস্তাবটি আটকে দেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা না করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁটের প্রতিবাদে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নেন।

এ ছাড়া কংগ্রেসের অনুমোদিত বৈদেশিক সহায়তার কয়েক শ কোটি ডলার আটকে রেখেছেন বা বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এ কাটছাঁটে অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলছেন, এসব সহায়তার অর্থায়ন আবার চালুর চেষ্টা করবেন।

ইউক্রেনের জন্য সহায়তার সুযোগ

কিয়েভকে সরাসরি আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়া অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। অথচ এ সহায়তার পক্ষে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি রুশ ডিজেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহ পর তা স্থগিত করেন। এতে অনেক কংগ্রেস সদস্য, এমনকি রিপাবলিকানরাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

আগামী জানুয়ারিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে বিল উত্থাপন এবং কোন বিলের ওপর ভোট হবে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। এতে ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প ভেটো দিলেও বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে।

ট্রাম্পের অন্য পদক্ষেপও বাধাগ্রস্ত করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। যেমন—প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান হতে পারেন নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস। তিনি ইতোমধ্যে রুশ ডিজেলকে আবার বৈশ্বিক বাজারে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ঠেকাতে দ্বিদলীয় একটি বিল উত্থাপন করেছেন।

এআই ও প্রযুক্তি খাত

বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, অনেক মার্কিন ভোটার এআই ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে। বুধবার সেগুলোর দরপতন হয়েছে।

ওকলাহোমাভিত্তিক লংবো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী জেক ডলারহাইড রয়টার্সকে বলেন, ডেমোক্র্যাটদের জয় প্রযুক্তি খাতের ওপর চাপ বাড়াবে। এআইয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক চাপও আসতে পারে। এতে খাতটির লাগামহীন প্রবৃদ্ধির গতি কমে যেতে পারে।

বুধবার এশিয়ার চিপ ও এআই খাতের প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি, স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, এসকে হাইনিক্স ও কিওক্সিয়ার শেয়ারের দর কমেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা দূতাবাসের জিম্মায় জামিন পেলেন চীন ও তাইওয়ানের ৬ নাগরিক

মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে

প্রকাশের সময়ঃ ১০:১১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় ব্যবধানের জয়কে দলটির প্রতীকের সঙ্গে মিল রেখে ‘ব্লু ওয়েভ’ বা নীল সুনামি বলা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বাণিজ্যিক অংশীদার, কৌশলগত মিত্র কিংবা প্রতিপক্ষ—সবার নজর ছিল এই নির্বাচনের দিকে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় ভুক্তভোগী হয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার বলেছেন, মার্কিনিরা যুদ্ধকে ‘না’ বলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, মার্কিন সরকার এখন জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তার পরিণতি হবে দুঃস্বপ্নের মতো।

গত দুই বছরে গ্রিনল্যান্ড থেকে শুরু করে ন্যাটোর সহায়তাসহ নানা বিষয়ে ইউরোপকে চাপে রেখেছিলেন ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছে, দুর্বল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরোপের কাছে উচ্ছ্বাসের কারণ হতে পারেন। তবে অতি-উচ্ছ্বাসের সুযোগ কম। কারণ, রাজনৈতিক পালাবদলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

তবে নির্বাচনের ফলাফল বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে প্রভাব ফেলতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ইরান ও ইসরায়েল, জ্বালানির দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক সহায়তা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং প্রযুক্তি খাতের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইরান ও ইসরায়েল

আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ কোন পথে এগোবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। অনেক মার্কিন ভোটারই এ সংঘাতে ক্লান্ত। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর কয়েকটি সরকার এখন মনে করছে, শান্তি চুক্তির জন্য ট্রাম্পের আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, নির্বাচনের পর ইরানে ফের পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার আশঙ্কা কমেছে।

তবে নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের বড় পরাজয় ইরানকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমিরেটস পলিসি সেন্টারের এবতেসাম আল-কেতবি বলেন, তেহরান যদি বুঝতে পারে ট্রাম্প প্রকৃত সমঝোতা চাইছেন, তাহলে যুদ্ধ বন্ধের বাস্তব সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্পের দুর্বলতা হিসেবে দেখলে তা উল্টো সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইসরায়েলের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মার্কিন সমর্থন হুমকির মুখে পড়তে পারে। ডেমোক্র্যাটদের হাতে নিয়ন্ত্রণ যাওয়ায় ইরান, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে ব্যবহার করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর শাসনামলেই যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে।

জ্বালানির দাম

যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে দাম বেড়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর জ্বালানি বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের শান্তি আলোচনা এগোতে পারে। এতে তেলের দাম কমেছে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১০২ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৪২ ডলারে নেমেছে।

ডেনমার্কের স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন রয়টার্সকে বলেন, বাজারের প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ইতি টানতে চান।

বৈশ্বিক বাণিজ্য

শুল্ক এড়াতে এশিয়ার কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এখন এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতি ধীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় চীন সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে।

ট্রাম্পের দলের পরাজয়ে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ভারতও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক বাণিজ্যসচিব অনুপ ওয়াধওয়ান রয়টার্সকে বলেন, এখন ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বাণিজ্যসংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে কংগ্রেসের অনুমোদনও প্রয়োজন হতে পারে। সে দিক থেকে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও আমদানি শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের। তবে ট্রাম্প এতদিন জাতীয় নিরাপত্তা ও অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার যুক্তিতে শুল্ক আরোপের জন্য বিভিন্ন আইন কাজে লাগিয়েছেন। এই ক্ষমতা সীমিত করতে ডেমোক্র্যাটরা উদ্যোগ নিলে তা প্রেসিডেন্টের ভেটোর মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা কর আরোপের কারণে ইউরোপের দেশগুলোর পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এমন আরও কিছু হুমকি তিনি বাস্তবায়ন করবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বৈদেশিক সহায়তা পুনর্বহালের সম্ভাবনা

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এটি নজিরবিহীন বৃদ্ধি। তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা প্রস্তাবটি আটকে দেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা না করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁটের প্রতিবাদে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নেন।

এ ছাড়া কংগ্রেসের অনুমোদিত বৈদেশিক সহায়তার কয়েক শ কোটি ডলার আটকে রেখেছেন বা বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এ কাটছাঁটে অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলছেন, এসব সহায়তার অর্থায়ন আবার চালুর চেষ্টা করবেন।

ইউক্রেনের জন্য সহায়তার সুযোগ

কিয়েভকে সরাসরি আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়া অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। অথচ এ সহায়তার পক্ষে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি রুশ ডিজেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহ পর তা স্থগিত করেন। এতে অনেক কংগ্রেস সদস্য, এমনকি রিপাবলিকানরাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

আগামী জানুয়ারিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে বিল উত্থাপন এবং কোন বিলের ওপর ভোট হবে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। এতে ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প ভেটো দিলেও বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে।

ট্রাম্পের অন্য পদক্ষেপও বাধাগ্রস্ত করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। যেমন—প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান হতে পারেন নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস। তিনি ইতোমধ্যে রুশ ডিজেলকে আবার বৈশ্বিক বাজারে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ঠেকাতে দ্বিদলীয় একটি বিল উত্থাপন করেছেন।

এআই ও প্রযুক্তি খাত

বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, অনেক মার্কিন ভোটার এআই ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে। বুধবার সেগুলোর দরপতন হয়েছে।

ওকলাহোমাভিত্তিক লংবো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী জেক ডলারহাইড রয়টার্সকে বলেন, ডেমোক্র্যাটদের জয় প্রযুক্তি খাতের ওপর চাপ বাড়াবে। এআইয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক চাপও আসতে পারে। এতে খাতটির লাগামহীন প্রবৃদ্ধির গতি কমে যেতে পারে।

বুধবার এশিয়ার চিপ ও এআই খাতের প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি, স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, এসকে হাইনিক্স ও কিওক্সিয়ার শেয়ারের দর কমেছে।