ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ তাহসিফ হত্যা মামলা: দীপকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত অস্থিতিশীলতার চেষ্টা চলবে: তথ্য উপদেষ্টা ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী মজুরি কমিশন গঠন হয়েছে, এখন আন্দোলনের সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী টুকু মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার চেষ্টা, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি, সতর্ক বিএনপি নেতাকর্মীরাও মিরপুর-১১-তে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, যান চলাচল স্বাভাবিক; আটক ৪ এইচএসসিতে শূন্য পাস ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে, শাস্তির মুখে শিক্ষক-প্রতিষ্ঠানপ্রধান গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজা ও ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকাসহ আটক ১

গাজায় তথ্য বিকৃতির কথা স্বীকার করলেন ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক মুখপাত্র

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১১:৪৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ১২৩৫ Time View

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তরের সাবেক সদস্য আইয়েলেত ক্রয়জার গাজা ও পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান নিয়ে তথ্য উপস্থাপনে বিকৃতির অভিযোগ তুলেছেন।

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিকৃত করা হতো বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তরের সাবেক সদস্য আইয়েলেত ক্রয়জার। তাঁর দাবি, নিরীহ ফিলিস্তিনিদেরও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হতো। জনসমর্থন আদায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক অভিযানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সেনাবাহিনীর বক্তব্য পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হতো।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইসরাইলি সংগঠন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন ক্রয়জার।

‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনাদের নির্যাতন ও নিপীড়নের বিষয়ে সাবেক সেনাসদস্যদের সাক্ষ্য প্রকাশ করে।

ক্রয়জার তাঁর পোস্টে লেখেন, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বিভিন্ন দিক তিনি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। নিরীহ ফিলিস্তিনিদের নামের সঙ্গেও কীভাবে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা যুক্ত করা হতো, তা দেখেছেন। কার উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে এবং কী লক্ষ্য অর্জন করতে হবে, তার ওপর ভিত্তি করে সেনাবাহিনীর বিবৃতি তৈরি করা হতো বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরের বাস্তব পরিস্থিতি দেখার পাশাপাশি সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের সামনে ঘটনাগুলো কীভাবে তুলে ধরতে চায়, সেটিও কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তরকে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান বললেন

ক্রয়জারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তর অনেকটা জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করত। সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করার পরিবর্তে ঘটনাগুলোর তথ্য ও উপস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করা হতো।

তিনি জানান, ইসরাইলের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা বাড়ানো। সেখানে সাধারণ মানুষের জানার অধিকারকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো না। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল সামরিক অভিযানের পক্ষে সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো।

ক্রয়জারের অভিযোগ, দুই ক্ষেত্রেই সত্যকে আড়াল করা হয়েছে।

একটি হামলায় বহু মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কয়েক ডজন মানুষের নিহত হওয়ার খবর জানানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলা হতো, বেসামরিক মানুষের ক্ষতি হওয়ায় তারা দুঃখিত। দায়িত্ব পালনের সময় এটি নিয়মিত চর্চা ছিল।

ক্রয়জার আরও লেখেন, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা তাঁর স্বভাব ছিল না। অথচ দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে সেই অন্যায়ের পক্ষে জনসংযোগ চালাতে বলা হচ্ছিল।

সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সুযোগ থাকলেও যোগ দেন সেনাবাহিনীতে

অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় ইসরাইলে বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ ছিল ক্রয়জারের। তবে সেই সুযোগ গ্রহণ না করে তিন বছর আগে তিনি ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তখন তাঁর বিশ্বাস ছিল, দেশের প্রতিরক্ষায় অংশ নিতেই তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন।

তবে দায়িত্ব শেষ করে ভ্রমণে যাওয়া কিংবা পড়াশোনা শুরু করার পরিবর্তে একদিন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হবেন, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে জানান তিনি।

ক্রয়জারের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, দখলদারিত্বের প্রকৃত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার সময় এসেছে।

পোস্টের শেষাংশে যুদ্ধের সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা অন্যদেরও নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন ক্রয়জার। তিনি লেখেন, ‘আমি আর নীরব থাকব না। যুদ্ধের সময় যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, আপনারাও নীরব থাকবেন না।’

গাজায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ

গাজায় তথ্য বিকৃতির কথা স্বীকার করলেন ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক মুখপাত্র

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৪৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিকৃত করা হতো বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তরের সাবেক সদস্য আইয়েলেত ক্রয়জার। তাঁর দাবি, নিরীহ ফিলিস্তিনিদেরও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হতো। জনসমর্থন আদায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক অভিযানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সেনাবাহিনীর বক্তব্য পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হতো।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইসরাইলি সংগঠন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন ক্রয়জার।

‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনাদের নির্যাতন ও নিপীড়নের বিষয়ে সাবেক সেনাসদস্যদের সাক্ষ্য প্রকাশ করে।

ক্রয়জার তাঁর পোস্টে লেখেন, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বিভিন্ন দিক তিনি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। নিরীহ ফিলিস্তিনিদের নামের সঙ্গেও কীভাবে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা যুক্ত করা হতো, তা দেখেছেন। কার উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে এবং কী লক্ষ্য অর্জন করতে হবে, তার ওপর ভিত্তি করে সেনাবাহিনীর বিবৃতি তৈরি করা হতো বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরের বাস্তব পরিস্থিতি দেখার পাশাপাশি সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের সামনে ঘটনাগুলো কীভাবে তুলে ধরতে চায়, সেটিও কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তরকে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান বললেন

ক্রয়জারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তর অনেকটা জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করত। সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করার পরিবর্তে ঘটনাগুলোর তথ্য ও উপস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করা হতো।

তিনি জানান, ইসরাইলের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা বাড়ানো। সেখানে সাধারণ মানুষের জানার অধিকারকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো না। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল সামরিক অভিযানের পক্ষে সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো।

ক্রয়জারের অভিযোগ, দুই ক্ষেত্রেই সত্যকে আড়াল করা হয়েছে।

একটি হামলায় বহু মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কয়েক ডজন মানুষের নিহত হওয়ার খবর জানানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলা হতো, বেসামরিক মানুষের ক্ষতি হওয়ায় তারা দুঃখিত। দায়িত্ব পালনের সময় এটি নিয়মিত চর্চা ছিল।

ক্রয়জার আরও লেখেন, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা তাঁর স্বভাব ছিল না। অথচ দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে সেই অন্যায়ের পক্ষে জনসংযোগ চালাতে বলা হচ্ছিল।

সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সুযোগ থাকলেও যোগ দেন সেনাবাহিনীতে

অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় ইসরাইলে বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ ছিল ক্রয়জারের। তবে সেই সুযোগ গ্রহণ না করে তিন বছর আগে তিনি ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তখন তাঁর বিশ্বাস ছিল, দেশের প্রতিরক্ষায় অংশ নিতেই তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন।

তবে দায়িত্ব শেষ করে ভ্রমণে যাওয়া কিংবা পড়াশোনা শুরু করার পরিবর্তে একদিন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হবেন, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে জানান তিনি।

ক্রয়জারের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, দখলদারিত্বের প্রকৃত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার সময় এসেছে।

পোস্টের শেষাংশে যুদ্ধের সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা অন্যদেরও নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন ক্রয়জার। তিনি লেখেন, ‘আমি আর নীরব থাকব না। যুদ্ধের সময় যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, আপনারাও নীরব থাকবেন না।’

গাজায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।