
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসহায় ও দুস্থ রোগীদের মশার কামড় থেকে রক্ষা করতে ২৫০টি মশারি বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল চত্বরে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এসব মশারি হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ। তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তারের হাতে মশারিগুলো তুলে দেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর
মশারি বিতরণের সময় প্রধান অতিথি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষ্য, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশার কামড় থেকে রক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর এডিস মশা অন্যের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও মশারির ভেতরে থাকতে হবে। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের সব সময় মশারির ভেতরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাতসহ জেলা পরিষদ ও হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের মশার কামড় থেকে রক্ষা করা জরুরি। মশারির ভেতরে থাকলে রোগীরা নতুন করে মশার কামড়ের শিকার হবেন না এবং হাসপাতাল থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও কমবে। তাঁর মতে, জেলা পরিষদের এ উদ্যোগ রোগীদের সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা নিধন বা ওষুধ ছিটানোই যথেষ্ট নয়; এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও পানির ট্যাংকে জমে থাকা পানি এ মশার প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে ভাইরাস থাকা অবস্থায় এডিস মশা তাঁকে কামড়ালে মশাটিও সংক্রমিত হতে পারে। পরে ওই মশা অন্য সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে ভাইরাসটি তাঁর শরীরেও ছড়াতে পারে। তাই দিনের বেলায়ও রোগীকে মশারির ভেতরে রাখা জরুরি, বিশেষ করে হাসপাতালের ওয়ার্ডে।
ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও গাঁটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শরীরে র্যাশ। তবে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান, এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস, সচেতনতামূলক প্রচার ও নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নাগরিকদেরও সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পানির পাত্র পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেলা পরিষদের এ উদ্যোগ দুস্থ ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের সহায়তার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 























