ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন একই সড়ক একদিনে দুইবার উদ্বোধন, সকালে জামায়াতের এমপি ও বিকেলে বিএনপির সাবেক এমপি ইবিতে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১২ বিভাগের ২৪ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল ইবিতে প্রয়াত শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম সৈকতের জন্য দোয়া মাহফিল দুই অভিযানে ২৩৪ বোতল বিদেশি মদ ও ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩, জব্দ প্রাইভেট কার বেরোবিতে ক্যারিয়ার-ভার্সের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন, সভাপতি লাবণ্য ও সম্পাদক মোবাশ্বির কালিয়াকৈরে বেতন ৩০ হাজারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মেসির গোল ও অ্যাসিস্টে নিউ ইংল্যান্ডকে হারাল ইন্টার মায়ামি আমুসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ শ্রমিক আন্দোলনে জামায়াত-আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে টিম-৪-এর অভিযান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিম-৪-এর অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে শুধু মশা নিধন নয়, বরং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নাগরিকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা। এরই ধারাবাহিকতায় পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উপর রাজারামপুর ও মাও শিশু এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করেছে পৌরসভার টিম-৪।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বাড়ির আঙিনা, গলি, খোলা জায়গা ও জলাধারের আশপাশ পরিদর্শন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত এবং বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়। কর্মসূচিতে রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরাও অংশ নেন।

অভিযানসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, জলাধারের আশপাশে কিছু মশা উড়তে দেখা গেলেও পরিদর্শনের সময় মশার লার্ভা পাওয়া যায়নি। তবে একবারের পরিদর্শনে লার্ভা না পাওয়া মানেই কোনো স্থান ঝুঁকিমুক্ত নয়। জমে থাকা পানি, আবহাওয়া ও পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণে নিয়মিত নজরদারি ও সম্ভাব্য প্রজননস্থল অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুধু মশা নিধন নয়, উৎসস্থল ধ্বংসেই গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টবের নিচের ট্রে, পানির ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা কিংবা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেও এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে।

বিশেষ করে বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি সময়মতো অপসারণ না করলে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই শুধু ফগিং বা কীটনাশক প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টিম-৪-এর এ অভিযানে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিদর্শন এবং পানি জমে থাকার কারণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাসিন্দাদের বাড়ির আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পরিত্যক্ত সামগ্রী অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

লিফলেট বিতরণ, পরিচ্ছন্নতার আহ্বান

অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‘বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করি, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’—এ বার্তার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

বাসিন্দাদের বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র ও বাগান নিয়মিত পরীক্ষা করার পাশাপাশি বৃষ্টির পানি জমতে পারে এমন পরিত্যক্ত সামগ্রী সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হয়। পানির ট্যাংক ও পাত্র ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত পরিষ্কার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত পরামর্শ অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ি ও আশপাশের সম্ভাব্য প্রজননস্থল পরীক্ষা করা জরুরি। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে পারলে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ কমানো সম্ভব।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ি, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমে থাকতে দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযানে ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবীরা

পৌরসভার টিম-৪-এর অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণপূর্ত দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন এবং দৈনিক চাঁপাই দর্পণ পত্রিকার প্রতিনিধি মো. ইসাহাক আলী।

এ সময় পৌরসভার বিল ক্লার্ক মো. সেরাজুল ইসলাম,অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, , ইউসুফ, ফয়সল, মেহেদী, আরাফাত ও আফজালসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। রেড ক্রিসেন্টের সদস্য মোসা. তানজিলা খাতুন, মো. এ্যানি খাতুন ও মোসা. খুসি আরা খাতুনসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা নয়

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং বমিভাব দেখা দিতে পারে। তবে উপসর্গের ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

বিশেষ সতর্কতার বিষয় হলো, জ্বর কমে যাওয়ার পরও ডেঙ্গুর গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এক দিনের অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল পেতে ধারাবাহিক কার্যক্রম প্রয়োজন। কোনো স্থানে বারবার পানি জমলে শুধু পানি সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে পানি জমার মূল কারণ শনাক্ত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন, প্রয়োজন অনুযায়ী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, নাগরিকদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার অব্যাহত রাখা জরুরি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে টিম-৪-এর এ অভিযান ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তবে কার্যক্রমের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে নিয়মিত নজরদারি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মূল বার্তা—পানি জমতে দেবেন না, সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং জ্বর বা বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
জনপ্রিয় সংবাদ

দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে টিম-৪-এর অভিযান

প্রকাশের সময়ঃ ০২:২২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে শুধু মশা নিধন নয়, বরং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নাগরিকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা। এরই ধারাবাহিকতায় পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উপর রাজারামপুর ও মাও শিশু এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করেছে পৌরসভার টিম-৪।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বাড়ির আঙিনা, গলি, খোলা জায়গা ও জলাধারের আশপাশ পরিদর্শন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত এবং বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়। কর্মসূচিতে রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরাও অংশ নেন।

অভিযানসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, জলাধারের আশপাশে কিছু মশা উড়তে দেখা গেলেও পরিদর্শনের সময় মশার লার্ভা পাওয়া যায়নি। তবে একবারের পরিদর্শনে লার্ভা না পাওয়া মানেই কোনো স্থান ঝুঁকিমুক্ত নয়। জমে থাকা পানি, আবহাওয়া ও পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণে নিয়মিত নজরদারি ও সম্ভাব্য প্রজননস্থল অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুধু মশা নিধন নয়, উৎসস্থল ধ্বংসেই গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টবের নিচের ট্রে, পানির ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা কিংবা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেও এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে।

বিশেষ করে বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি সময়মতো অপসারণ না করলে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই শুধু ফগিং বা কীটনাশক প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টিম-৪-এর এ অভিযানে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিদর্শন এবং পানি জমে থাকার কারণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাসিন্দাদের বাড়ির আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পরিত্যক্ত সামগ্রী অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

লিফলেট বিতরণ, পরিচ্ছন্নতার আহ্বান

অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‘বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করি, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’—এ বার্তার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

বাসিন্দাদের বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র ও বাগান নিয়মিত পরীক্ষা করার পাশাপাশি বৃষ্টির পানি জমতে পারে এমন পরিত্যক্ত সামগ্রী সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হয়। পানির ট্যাংক ও পাত্র ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত পরিষ্কার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত পরামর্শ অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ি ও আশপাশের সম্ভাব্য প্রজননস্থল পরীক্ষা করা জরুরি। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে পারলে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ কমানো সম্ভব।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ি, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমে থাকতে দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযানে ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবীরা

পৌরসভার টিম-৪-এর অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণপূর্ত দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন এবং দৈনিক চাঁপাই দর্পণ পত্রিকার প্রতিনিধি মো. ইসাহাক আলী।

এ সময় পৌরসভার বিল ক্লার্ক মো. সেরাজুল ইসলাম,অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, , ইউসুফ, ফয়সল, মেহেদী, আরাফাত ও আফজালসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। রেড ক্রিসেন্টের সদস্য মোসা. তানজিলা খাতুন, মো. এ্যানি খাতুন ও মোসা. খুসি আরা খাতুনসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা নয়

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং বমিভাব দেখা দিতে পারে। তবে উপসর্গের ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

বিশেষ সতর্কতার বিষয় হলো, জ্বর কমে যাওয়ার পরও ডেঙ্গুর গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এক দিনের অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল পেতে ধারাবাহিক কার্যক্রম প্রয়োজন। কোনো স্থানে বারবার পানি জমলে শুধু পানি সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে পানি জমার মূল কারণ শনাক্ত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন, প্রয়োজন অনুযায়ী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, নাগরিকদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার অব্যাহত রাখা জরুরি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে টিম-৪-এর এ অভিযান ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তবে কার্যক্রমের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে নিয়মিত নজরদারি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মূল বার্তা—পানি জমতে দেবেন না, সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং জ্বর বা বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।