
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের প্রয়াত শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম সৈকতের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিভাগের করিডোরে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দীন খান দোয়া পরিচালনা করেন।
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়, সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জ্বল হোসেন, প্রভাষক মো. জাকির হোসেন ও প্রভাষক রোকাইয়া আক্তার। এ ছাড়া বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. বকুল হোসেন, তরিকুলের পরিবারের সদস্য এবং বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তরিকুলের সহপাঠী মায়েশা মালিহা বলেন, ক্লাসে অনিয়মিত হলেও তরিকুলের নানা বিষয়ে ভালো জ্ঞান ছিল। তিনি ছিলেন হাসিখুশি, মিশুক ও ভালো মনের মানুষ। ছবি আঁকাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজেও তাঁর দক্ষতা ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি ও আনন্দের অনেক স্মৃতি রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে গত দুই-তিন সেমিস্টার ধরে তরিকুল বন্ধুদের কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিলেন। তাঁর আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান মায়েশা। একই সঙ্গে সবার কাছে তাঁর জন্য দোয়া চান।
তরিকুলের বড় ভাই বলেন, তাঁরা দুই ভাই ছিলেন, এখন তিনি একা হয়ে গেলেন। কারও মনে তরিকুলের প্রতি কোনো অভিযোগ বা অভিমান থাকলে তা ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি সবাইকে তরিকুলের জন্য বেশি বেশি দোয়া করার আহ্বান জানান, যেন তাঁর পরকালীন জীবন সুখ ও শান্তির হয় এবং আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসিব করেন।
সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, পড়াশোনায় কিছুটা উদাসীন হলেও তরিকুল ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যায়ে যেন পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সে জন্য তাঁকে নিয়মিত পরীক্ষা ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। ইন্টার্নশিপে তিনি উজ্জ্বল হোসেনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। যোগাযোগ কম থাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিভাগে যেন কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এমন দোয়া মাহফিলের আয়োজন করতে না হয়, সে জন্য সবাইকে দোয়া করতে হবে। শিক্ষার্থীদের একে অপরের খোঁজখবর রাখা, কোনো বন্ধু টানা কয়েক দিন ক্লাসে না এলে তাঁর খোঁজ নেওয়া এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তরিকুলের জান্নাতবাস কামনা করেন এই শিক্ষক।
বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় বলেন, ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকলেও পড়াশোনায় তরিকুলের ভালো দক্ষতা ছিল। ক্লাসের পর নানা বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি অনেকের চেয়ে ভালো উত্তর দিতে পারতেন। তাঁকে কম্পিউটার ও আইসিটিসংশ্লিষ্ট কোর্স করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তরিকুল ছিলেন মিশুক ও প্রাণবন্ত। তবে তৃতীয় বর্ষে এসে পারিবারিক দায়িত্ব ও নানা সমস্যার কারণে তাঁর পড়াশোনায় কিছুটা শৈথিল্য দেখা দেয়। এরপরও বিভাগের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে তিনি নিজ ব্যাচের সঙ্গেই পড়াশোনা শেষ করতে পারেন। তিনি তরিকুলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং সবার কাছে দোয়া চান।
মোহাম্মদ সাদ,ইবি প্রতিনিধিঃ 

















