
দীর্ঘদিন পর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা গেছে। ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক পাসের হারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ পাস করতে পারেননি। অন্যদিকে, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আগামী এক মাসের মধ্যে এ পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এসব বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু ইংরেজি বিষয়েই অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। আর আইসিটি বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। মূলত এ দুটি বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা কেন্দ্র এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হয়।
ইংরেজি ও আইসিটিতে কেন এত শিক্ষার্থী ফেল
ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেছে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের মনিটরিং টিম। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে একটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, এ দুটি বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের অভাব ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
তাঁর মতে, গ্রামের অনেক কলেজে ইংরেজি বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক নেই। অন্য বিষয়ের শিক্ষকেরা অনেক সময় ইংরেজি পড়ান। অন্যদিকে, আইসিটি কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় হওয়ায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান জরুরি। বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের অভাবে শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছে না।
ওই চেয়ারম্যানের মতে, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার প্রভাব এবার সামগ্রিক ফলাফলেও পড়েছে। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জিপিএ-৫ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলে বড় পরিবর্তন
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
এবার সব শিক্ষা বোর্ডে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৮৮টি বেড়েছে। তবে পরীক্ষা কেন্দ্র কমেছে ৪০টি। এ বছর ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। আগের বছরের তুলনায় এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৯টি, যা আগের বছরের তুলনায় ২০৬টি কম।
২০২৬ সালের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৪৮ জন। সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল বোর্ডে, ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার বেশি, মানবিকে কম
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে, মানবিক বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে কম—৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ২ লাখ ৭৪ জন পাস করেছেন।
মানবিক বিভাগে ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩১১ জন। এ বিভাগে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩২ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ৯০ হাজার ৬৬৪ জন। অন্যদিকে, ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৭ জন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন। এ বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৪ শতাংশের বিপরীতে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
তুলনামূলক ভালো ফল মাদরাসা বোর্ডে
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর তুলনায় এবার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেশি। এ বছর আলিম পরীক্ষায় অংশ নেন ৮৯ হাজার ৩২১ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৫৪ হাজার ৫৪৭ জন। পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন।
গত বছর আলিম পরীক্ষায় ৪ হাজার ২৬৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। অর্থাৎ এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে।
কারিগরি বোর্ডেও কমেছে পাসের হার
এইচএসসি বিএম ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন।
গত বছর কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬১০ জন। এবার উভয় সূচকেই অবনতি হয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফল
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি এবং বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে কম। বোর্ডভিত্তিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো।
| শিক্ষা বোর্ড | পাসের হার | জিপিএ-৫ |
|---|---|---|
| ঢাকা | ৬১.৮০% | ১৬,৭১৪ |
| কুমিল্লা | ৪৮.০৮% | ১,৩১৩ |
| চট্টগ্রাম | ৫২.০৭% | ২,৯২৯ |
| দিনাজপুর | ৪৫.৯৮% | ২,৯৫৩ |
| বরিশাল | ৪৪.৮৪% | ৯৫০ |
| ময়মনসিংহ | ৫১.৪৪% | ২,১৩৭ |
| যশোর | ৪৪.৯২% | ৩,২২৮ |
| রাজশাহী | ৪৫.০৬% | ৪,৫২০ |
| সিলেট | ৫০.৯০% | ১,২০৪ |
| কারিগরি | ৪৯.৪৩% | ৮৮৬ |
| মাদরাসা | ৬১.০৭% | ৩,২৫০ |
ঢাকা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৬৩ জন।
কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৭০৭ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৯৭ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬ হাজার ২৬০ জন।
বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬৭৪ জন।
ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৬৮৪ জন।
যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন।
রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১০ হাজার ১৩ জন।
সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬০২ জন।
বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে পাসের হার ৯০.৮৭ শতাংশ
এ বছর বিদেশে অবস্থিত আটটি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ২৩০ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ২০৯ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এসব কেন্দ্রে ২১ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি এবং শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান নেই।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। ৮ আগস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫২তম দিনে শনিবার ফল প্রকাশ করা হয়।
রাজশাহী জেলায় পাস ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আট জেলার মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় সূচকেই শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী জেলা। বোর্ডে মোট ৪ হাজার ৫২০ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭৮৫ জনই এ জেলার। বোর্ডের মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ রাজশাহী জেলার।
এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বগুড়া জেলা। এ জেলার ১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ৫৫০ জন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাবনা।
পাসের হারেও আট জেলার মধ্যে শীর্ষে রাজশাহী। এ জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বগুড়ায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং জয়পুরহাটে ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এ বছর রাজশাহী জেলায় ২৮ হাজার ৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ১৫ হাজার ৫৪০ জন।
বগুড়ায় সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভালো ফল
ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও বগুড়ায় পাস ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।
বগুড়া জেলায় মোট ১ হাজার ৩০৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৪৭ জনই সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, তাঁরা আরও ভালো ফল আশা করেছিলেন। তবে অর্জিত ফলে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে ফল আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
দিনাজপুর বোর্ডের ৪৯ কলেজে শূন্য পাস
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ৪৯টি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে নীলফামারীতে সর্বোচ্চ ১২টি কলেজে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়ে এমন কলেজের সংখ্যা দুটি করে।
মাদরাসায় দেশসেরা ফল তা’মীরুল মিল্লাতের
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এবার ৫৮৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন। জেলায় একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে শতভাগ পাসের সাফল্য পেয়েছে কলেজটি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৫২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যা জেলায় সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে ভালো করেছে টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ৪০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৪০৩ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬৪ জন।
অধিকার ডেস্কঃ 





















