ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
শিবগঞ্জে মিনি ট্রাকসহ চালক আটক, প্রায় ৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য উদ্ধার নলডাঙ্গায় সাংবাদিক হেনস্তা- যুবদল নেতাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ, ক্লিনিকে ভাঙচুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে তাজেমা বেগমের সম্পত্তি ঘিরে ‘দালাল সিন্ডিকেট’ সক্রিয় হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬”
জাল দলিলের জালে জমি দখলের অপচেষ্টা!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তাজেমা বেগমের সম্পত্তি ঘিরে ‘দালাল সিন্ডিকেট’ সক্রিয়

বাম দিকে চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দীন, ডান দিকে আলহাজ্ব আব্দুল কারিম। ছবি সংগৃহীত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে জাল দলিল সৃষ্টি, ভূয়া ওয়ারিশ বানানো, প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অপচেষ্টা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৈধ দলিলমূলে খরিদকৃত ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি থেকে এক নারীকে উচ্ছেদের চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালতের একাধিক নিষেধাজ্ঞা, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং চলমান মামলা ঘিরে পুরো ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন।

ভুক্তভোগী তাজেমা বেগম অভিযোগ করেছেন, তার বৈধ মালিকানাধীন জমি দখলের উদ্দেশ্যে একটি প্রভাবশালী চক্র গত ১৪ মে ২০২৪ তারিখে ভোলাহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৩১৩/২৪ নং বিতর্কিত দলিল সৃজন করে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জামবাড়িয়া ইউনিয়নের মৃত কলিমুল্লার ছেলে আব্দুল কারিম হাজি, মেসের আলীসহ কয়েকজন। ভূয়া ওয়ারিশ বানিয়ে জাল দলিল! প্রকৃত মালিক রেকর্ডীয় প্রজা দীন মোহাম্মদ ও গেদা বিবির উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি ২০০৩ সালে বৈধ দলিলে তাজেমা বেগমের নামে বিক্রি হয়।

কিন্তু দীর্ঘদিন পর পরিকল্পিতভাবে রমজান আলীকে ‘ভাতসপুত্র’ সাজিয়ে এবং তার ছেলে মেসের আলীকে ভূয়া ওয়ারিশ বানিয়ে নতুন করে দলিল তৈরি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. আফাজ উদ্দীন, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ইসরাফিল এবং স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল কারিম হাজি। এমনকি ওয়ারেশন সনদ সংগ্রহেও ছিল প্রভাব খাটানোর অভিযোগ। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্টা ভুক্তভোগী তাজেমা বেগম বিষয়টি নিয়ে ভোলাহাট সিভিল জজ আদালতে ৩৩/২০২৪ অঃপ্রঃ নম্বর মামলা করে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চান। আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে অ্যাডভোকেট কমিশনার মো. নাহিদ ইবনে মিজান সরেজমিন তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে বাদীর দখল ও স্বত্বের প্রমাণ উঠে আসে বলে জানাযায়, মামালার আদেশের সাটিফাইড কপির মাধ্যমে  জানা যায়।

কিন্তু অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে বিবাদীপক্ষ তাজেমা বেগমের নির্মিত তারের বেড়া ভেঙে জমি জবরদখলের চেষ্টা চালায়। এতে ভুক্তভোগী আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মিস ভায়োলেশন মামলা (২৬/২০২৪) দায়ের করেন। জেলা জজ আদালতেও আপিল-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদীপক্ষ মিস আপিল ৬৯/২০২৪ দায়ের করে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, বিতর্কিত ১৩১৩/২৪ নং দলিল বাতিল চেয়ে ৪৪/২০২৪ অঃপ্রঃ মামলা করেছেন তাজেমা বেগম।

‘ওয়ারিশ’ দাবির ভিত নড়বড়ে, উঠছে জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধানে জানাগেছে, যাকে ওয়ারিশ দাবি করা হচ্ছে সেই রমজান আলী-র পিতা মৃত পিয়ার মন্ডল। আর প্রকৃত মালিক দীন মোহাম্মদের পিতা চৈতন প্রামানিক। দুই বংশ আলাদা-যা সি.এস ১৬৭ ও ২১২ খতিয়ানের মাধ্যমে প্রতীয়মান। এতে প্রশ্ন উঠেছে-রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও কীভাবে ওয়ারিশ সনদ মিললো? আরও বিস্ফোরক তথ্য, ভূয়া ওয়ারিশ সনদে সুপারিশকারী ইউপি সদস্য ইসরাফিল হচ্ছেন দলিল গ্রহীতা ও মামলার ১নং বিবাদী আব্দুল কারিম হাজির স্ত্রীর আপন চাচাত ভাই। স্থানীয়দের প্রশ্ন- শ্যালক-দুলাভাই সম্পর্কের জোরেই কি জাল ওয়ারিশ সনদ?

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানাগেছে, ২০০৩ সালেও একই চক্র দীন মোহাম্মদের ওয়ারিশ দাবি করে রেজিস্ট্রি অফিসে আপত্তি তোলে। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রতিবাদে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে একাধিক সূত্রে জানাগেছে,২০০৩ সালের জুন মাসে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন দ্বায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান প্রয়াত মুনিরুল ইসলাম রেকর্ডীয় প্রজা দীন মোহাম্মদ এর মৃত্যান্তে ওয়ারেশ সূত্রে ২য় স্ত্রী মোসাঃ আজেদা বেগম ও মেয়ে মোসাঃ সানুয়ারা বেগম ও মোসাঃ আনোয়ারা বেগম এর কাছ থেকে ভোলাহাট উপজেলার আমদিপুর মৌজার আর.এস ১৩১ খতিয়ানের ৫৫৫নংদাগের প্রায় ১৩ শতাংসের উপরে জমি খরিদ করেন। রেজিস্ট্রির দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে সে সময় জালিয়াত চক্রের হোতা আব্দুল কারিম হাজ্বির পরামর্শে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী দীন মোহাম্মদের ওয়ারেশ দাবী করেছিল।

কিন্ত রেকর্ডীও প্রজা দীন মোহাম্মদের চাচাত ভাই নূর মোহাম্মদ প্রামানিক এর ছেলে জান মোহাম্মদ গুলোক ও জামাতা বিসু আলী (তালি) এবং ভাগ্নে মোঃ আফসার আলী প্রতিবাদ করলে রেজিস্ট্র অফিস থেকে পালিয়ে আসে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী । এ ঘটনার ৩-৪ দিন পরে স্থানীয় এলাকাবাসীদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করে তৎকালীন প্রয়াত চেয়ারম্যান মুনিরুল ইসলাম এবং বর্তমানে জালিয়াত চক্রের হোতা আব্দুল কারিম হাজ্বি। গ্রাম্য সালিশে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী দীন মোহাম্মদের ওয়ারেশ প্রমান করতে ব্যার্থ হয় মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী । এবং ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখে পৃথক পৃথক ৩ টি দলিল ভোলাহাট রেজিঃ অফিসে রেজিস্ট্রী হয়। সেখানেও দীন মোহাম্মদের ২য় স্ত্রী আজেদা বিবি ও দুই মেয়ে সানোয়ারা@ সাহানারা বেগম ও আনোয়ারা বেগম প্রকৃত ওয়ারেশ হিসেবে মোসাঃ তাজেমা বেগম, মোহাঃ আমানুল্লাহ দিং ও মোঃ কবির আলী দিং নামে জমি হস্তান্তর করে।

পরে গ্রাম্য সালিশে তাদের দাবির সত্যতা মেলেনি। বরং দীন মোহাম্মদের স্ত্রী ও দুই কন্যাই প্রকৃত ওয়ারিশ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে জমি বিক্রি করেন-যার ভিত্তিতে তাজেমা বেগমের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘দালাল সিন্ডিকেটের” পুরনো অভিযোগও সামনে -অনুসন্ধানে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আব্দুল কারিম হাজি দীর্ঘদিন ধরে জমি দালালি, মামলা সাজানো ও দুর্বলদের সম্পত্তি দখল চক্রের সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনায়ও একই চক্র সক্রিয় বলে দাবি তাদের। একজন সচেতন নাগরিক বলেন,“আজ তাজেমা বেগম, কাল আরেকজন।

জাল দলিল আর ভূয়া ওয়ারিশ দিয়ে যদি সম্পত্তি দখল হয়, তবে আইনের শাসন কোথায়?” চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ভুক্তভোগী ভূয়া ওয়ারিশ সনদ বাতিলের দাবিতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। আইনি লড়াইয়ে নজর এখন আদালতের দিকে একদিকে জাল দলিল বাতিল মামলা, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন আদালতের পর্যবেক্ষণে। সচেতন মহলের দাবি, জালিয়াতি চক্র, ভূয়া ওয়ারিশ সিন্ডিকেট এবং সম্ভাব্য প্রভাবশালী যোগসাজশের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি। তাদের মতে, “এই মামলা শুধু একজন নারীর জমি রক্ষার লড়াই নয়, এটি ভূমি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে আইনের পরীক্ষাও।”

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হায়াত ভটনের কাছে আব্দুল কারিম হাজ্বী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলীর সঙ্গে দীন মোহাম্মদের কোনো রক্তসম্পর্ক বা ওয়ারেশসূত্রে সম্পর্ক নেই।” তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, “আব্দুল কারিম হাজ্বী এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ‘ডন’ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় যেখানে ঝগড়া-বিবাদ, সেখানেই কারিম হাজ্বীর উপস্থিতি দেখা যায়।” আবুল হায়াত ভটন দাবি করেন, অতীতে কারিম হাজ্বীকে কেন্দ্র করে এলাকায় বহুবার বিচার-সালিশ হয়েছে। তবে বর্তমানে এসব কমে গেছে। তার ভাষ্য, “কারিম হাজ্বী প্রভাব ও অর্থের মাধ্যমে অবৈধ কাজকে বৈধ করার চেষ্টা করেন।” তিনি আরও বলেন, “পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যে কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অনেক সময় কারিম হাজ্বী এক পক্ষের হয়ে অবস্থান নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি বাধাগ্রস্ত করেন। বিষয়টি এলাকায় বহু মানুষের জানা।”

জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আফাজ উদ্দীন ও আলহাজ্ব আব্দুল কারিম।

দীন মোহাম্মদের আপন ভাগ্নে মোঃ আফসার আলী জানান, ২০০৩ সালের জুন মাসে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রয়াত মুনিরুল ইসলামের কাছে রেকর্ডীয় প্রজা দীন মোহাম্মদের মৃত্যুর পর তার ওয়ারেশ হিসেবে দ্বিতীয় স্ত্রী মোসাঃ আজেদা বেগম এবং দুই মেয়ে মোসাঃ সানুয়ারা বেগম ও মোসাঃ আনোয়ারা বেগম ভোলাহাট উপজেলার আমদিপুর মৌজার আর.এস ১৩১ খতিয়ানের ৫৫৫ নম্বর দাগের প্রায় ১৩ শতক জমি বিক্রি করেন। তিনি আরও জানান, জমি রেজিস্ট্রির দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে কথিত জালিয়াত চক্রের হোতা আব্দুল কারিম হাজ্বির পরামর্শে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী নিজেদের দীন মোহাম্মদের ওয়ারেশ দাবি করেন। তবে বিষয়টি জানতে পেরে রেকর্ডীয় প্রজা দীন মোহাম্মদের চাচাতো ভাই নূর মোহাম্মদ প্রামানিকের ছেলে জান মোহাম্মদ গুলোক, জামাতা বিসু আলী (তালি) এবং ভাগ্নে মোঃ আফসার আলী এর প্রতিবাদ জানান। তাদের প্রতিবাদের মুখে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী রেজিস্ট্রি অফিস থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার তিন থেকে চার দিন পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রয়াত মুনিরুল ইসলাম এবং আব্দুল কারিম হাজ্বি। ওই সালিশ বৈঠকে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী দীন মোহাম্মদের বৈধ ওয়ারেশ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোলাহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পৃথক তিনটি দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। সেখানে দীন মোহাম্মদের দ্বিতীয় স্ত্রী আজেদা বিবি এবং দুই মেয়ে সানোয়ারা ওরফে সাহানারা বেগম ও আনোয়ারা বেগম নিজেদের প্রকৃত ওয়ারেশ হিসেবে মোসাঃ তাজেমা বেগম, মোঃ আমানুল্লাহ দিং এবং মোঃ কবির আলী দিংয়ের নামে জমি হস্তান্তর করেন।

দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের  আরেক ভাগ্নে মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, “আমার নানা ছিলেন চৈতন প্রামানিক এবং তার ছেলে ছিলেন দীন মোহাম্মদ, যিনি আমার মামা। আমার মামার দুই মেয়ে রয়েছে— সাহানা বেগম ও আনোয়ারা বেগম। দ্বীন মোহাম্মদ ছিলেন আমার নানার একমাত্র ছেলে। আর আমার নানার একমাত্র বোন ছিলেন গেন্দা বিবি। তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান।” তিনি আরও বলেন, “ভুয়া ওয়ারেশ দাবি করা রমজান আলী মণ্ডলের ছেলে মেসের আলী, মিছন ও বিসারত আলীর সঙ্গে দীন মোহাম্মদ প্রামানিক বা চৈতন প্রামানিকের বংশের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা আমার নানার  বংশের কেউ নন।” আজিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আব্দুল কারিম হাজ্বীর নিজ জমিতে যাওয়ার একাধিক রাস্তা থাকার পরেও হয়রানীর উদ্দেশ্যে তার পরামর্শে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ওয়ারিশান তৈরি করা হয়। পরে সেই ভুয়া ওয়ারেশ দেখিয়ে মেসের আলী, মিছন ও নুরজাহান এর  কাছ থেকে আন্দিপুর মৌজার ১৩১ নম্বর খতিয়ানের আর.এস ৬২ নম্বর দাগের ১০ শতাংশ জমির মধ্যে .০২০৮ একর সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়।” তিনি আরও দাবি করেন, “কারিম হাজ্বী এলাকায় একজন দালাল ও জালিয়াত প্রকৃতির ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার মাথায় সবসময় জালিয়াতির চিন্তাই কাজ করে।” নিজ বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা ভালোভাবেই জানি আমার নানা চৈতন প্রামানিক ও মামা দ্বীন মোহাম্মদের প্রকৃত ওয়ারেশ কারা। আমার নানার বংশ পরিচয় ‘প্রামানিক’, আর মেসের আলী ও বিসারতদের বংশ পরিচয় ‘মণ্ডল’। তাহলে প্রামানিক ও মণ্ডল কি একই গোত্রের হতে পারে?”

রমজান মণ্ডলের ছেলে মোঃ মেসের আলী (মিছন) ও মোঃ বিসারত আলী দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের  বৈধ ওয়ারেশ কি না-এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ০৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোঃ ইসরাফিল বলেন, “মেসের আলী ও বিসারত আলী দ্বীন মোহাম্মদের বৈধ ওয়ারেশ কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”

আলহাজ্ব আব্দুল কারিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রমজান মণ্ডলের ছেলে মোঃ মেসের আলী (মিছন) ও মোঃ বিসারত আলী দীন  মোহাম্মদ প্রামানিকের বৈধ ওয়ারেশ কি না-এ বিষয়টি বর্তমানে আদালতে দলিল বাতিলের মামলায় চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মোঃ মেসের আলী (মিছন) ও মোঃ বিসারত আলী যদি দ্বীন মোহাম্মদের বৈধ ওয়ারেশ হিসেবে প্রমাণিত না হন, তাহলে আমার দলিল বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি তারা বৈধ ওয়ারেশ হিসেবে প্রমাণিত হন, তাহলে আমার দলিল সঠিক থাকবে।” আব্দুল কারিম আরও দাবি করেন, মামলার বাদীর কাছ থেকে তিনি তার নিজ জমিতে যাওয়ার জন্য রাস্তা হিসেবে কিছু জমি ক্রয় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা জমি দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি রমজান মণ্ডলের ছেলে মোঃ মেসের আলী (মিছন) ও দীন মোহাম্মদের স্ত্রী মোছাঃ নুরজাহানের কাছ থেকে .০২০৮ একর সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেন।

ভূক্তোভোগীর মেয়ে মোসাঃ সামিয়াতুন জাহান তাহসিনা বলেন, দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের প্রকৃত ওয়ারেশ হচ্ছে দুই স্ত্রী ও দুই মেয়। প্রথম স্ত্রী  নুরজাহান বেগম, ও দিত্বীয় স্ত্রী আজেদা বেগম।  মেয়ে মোসাঃ সানুয়ারা ও মোসাঃ আনোয়ারা। দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের রক্তের কোন ভাই, বোন, ছেলে,চাচা কেউ নাই। কারিম হাজ্বি তাঁর নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দীন ও মেম্বার ইসরাফিল কে ম্যানেজ করে মেসের আলী মিছন ওবিসারত আলী কে দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের  ওয়ারেশ বানিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করেছে। প্রকৃত পক্ষে রমজান আলী মন্ডল জামবাড়িয়া ইউনিয়নে বড়গাচ্ছি গ্রামে রিফুজি। আমার মা বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে জালজালিয়াতি দলিল বাতিল চেয়ে মামলা দায়ের করে। এবং মামলা চলমান রয়েছে। তিনি আরো জানানা, বিষয় টি জানার পরে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আমার মা মোসাঃ তাজেমা বগম  লিখিত অভিযোগ দিলেও চেয়ারম্যান কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন  করেননি।

রমজান মণ্ডলের ছেলে মোঃ মেসের আলী (মিছন) ও মোঃ বিসারত আলী  দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের ওয়ারেশ কিনা?   এবিষয়ে ভোলাহাট উপজেলার  জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আফাজ উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বলার কিছু নাই। আমি যা বলার আদালতে জবাব দিয়েছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আফাজ উদ্দীন ও ইউ.পি সদস্য মোঃ ইসরাফিল যোগসাজস করে ভূয়া ওয়ারেশন সৃজনের বিষয়ে  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক উজ্জল কুমার ঘোষ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে ভুক্তোভোগী অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবগঞ্জে মিনি ট্রাকসহ চালক আটক, প্রায় ৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য উদ্ধার

জাল দলিলের জালে জমি দখলের অপচেষ্টা!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তাজেমা বেগমের সম্পত্তি ঘিরে ‘দালাল সিন্ডিকেট’ সক্রিয়

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪৫:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে জাল দলিল সৃষ্টি, ভূয়া ওয়ারিশ বানানো, প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অপচেষ্টা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৈধ দলিলমূলে খরিদকৃত ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি থেকে এক নারীকে উচ্ছেদের চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালতের একাধিক নিষেধাজ্ঞা, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং চলমান মামলা ঘিরে পুরো ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন।

ভুক্তভোগী তাজেমা বেগম অভিযোগ করেছেন, তার বৈধ মালিকানাধীন জমি দখলের উদ্দেশ্যে একটি প্রভাবশালী চক্র গত ১৪ মে ২০২৪ তারিখে ভোলাহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৩১৩/২৪ নং বিতর্কিত দলিল সৃজন করে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জামবাড়িয়া ইউনিয়নের মৃত কলিমুল্লার ছেলে আব্দুল কারিম হাজি, মেসের আলীসহ কয়েকজন। ভূয়া ওয়ারিশ বানিয়ে জাল দলিল! প্রকৃত মালিক রেকর্ডীয় প্রজা দীন মোহাম্মদ ও গেদা বিবির উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি ২০০৩ সালে বৈধ দলিলে তাজেমা বেগমের নামে বিক্রি হয়।

কিন্তু দীর্ঘদিন পর পরিকল্পিতভাবে রমজান আলীকে ‘ভাতসপুত্র’ সাজিয়ে এবং তার ছেলে মেসের আলীকে ভূয়া ওয়ারিশ বানিয়ে নতুন করে দলিল তৈরি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. আফাজ উদ্দীন, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ইসরাফিল এবং স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল কারিম হাজি। এমনকি ওয়ারেশন সনদ সংগ্রহেও ছিল প্রভাব খাটানোর অভিযোগ। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্টা ভুক্তভোগী তাজেমা বেগম বিষয়টি নিয়ে ভোলাহাট সিভিল জজ আদালতে ৩৩/২০২৪ অঃপ্রঃ নম্বর মামলা করে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চান। আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে অ্যাডভোকেট কমিশনার মো. নাহিদ ইবনে মিজান সরেজমিন তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে বাদীর দখল ও স্বত্বের প্রমাণ উঠে আসে বলে জানাযায়, মামালার আদেশের সাটিফাইড কপির মাধ্যমে  জানা যায়।

কিন্তু অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে বিবাদীপক্ষ তাজেমা বেগমের নির্মিত তারের বেড়া ভেঙে জমি জবরদখলের চেষ্টা চালায়। এতে ভুক্তভোগী আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মিস ভায়োলেশন মামলা (২৬/২০২৪) দায়ের করেন। জেলা জজ আদালতেও আপিল-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদীপক্ষ মিস আপিল ৬৯/২০২৪ দায়ের করে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, বিতর্কিত ১৩১৩/২৪ নং দলিল বাতিল চেয়ে ৪৪/২০২৪ অঃপ্রঃ মামলা করেছেন তাজেমা বেগম।

‘ওয়ারিশ’ দাবির ভিত নড়বড়ে, উঠছে জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধানে জানাগেছে, যাকে ওয়ারিশ দাবি করা হচ্ছে সেই রমজান আলী-র পিতা মৃত পিয়ার মন্ডল। আর প্রকৃত মালিক দীন মোহাম্মদের পিতা চৈতন প্রামানিক। দুই বংশ আলাদা-যা সি.এস ১৬৭ ও ২১২ খতিয়ানের মাধ্যমে প্রতীয়মান। এতে প্রশ্ন উঠেছে-রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও কীভাবে ওয়ারিশ সনদ মিললো? আরও বিস্ফোরক তথ্য, ভূয়া ওয়ারিশ সনদে সুপারিশকারী ইউপি সদস্য ইসরাফিল হচ্ছেন দলিল গ্রহীতা ও মামলার ১নং বিবাদী আব্দুল কারিম হাজির স্ত্রীর আপন চাচাত ভাই। স্থানীয়দের প্রশ্ন- শ্যালক-দুলাভাই সম্পর্কের জোরেই কি জাল ওয়ারিশ সনদ?

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানাগেছে, ২০০৩ সালেও একই চক্র দীন মোহাম্মদের ওয়ারিশ দাবি করে রেজিস্ট্রি অফিসে আপত্তি তোলে। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রতিবাদে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে একাধিক সূত্রে জানাগেছে,২০০৩ সালের জুন মাসে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন দ্বায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান প্রয়াত মুনিরুল ইসলাম রেকর্ডীয় প্রজা দীন মোহাম্মদ এর মৃত্যান্তে ওয়ারেশ সূত্রে ২য় স্ত্রী মোসাঃ আজেদা বেগম ও মেয়ে মোসাঃ সানুয়ারা বেগম ও মোসাঃ আনোয়ারা বেগম এর কাছ থেকে ভোলাহাট উপজেলার আমদিপুর মৌজার আর.এস ১৩১ খতিয়ানের ৫৫৫নংদাগের প্রায় ১৩ শতাংসের উপরে জমি খরিদ করেন। রেজিস্ট্রির দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে সে সময় জালিয়াত চক্রের হোতা আব্দুল কারিম হাজ্বির পরামর্শে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী দীন মোহাম্মদের ওয়ারেশ দাবী করেছিল।

কিন্ত রেকর্ডীও প্রজা দীন মোহাম্মদের চাচাত ভাই নূর মোহাম্মদ প্রামানিক এর ছেলে জান মোহাম্মদ গুলোক ও জামাতা বিসু আলী (তালি) এবং ভাগ্নে মোঃ আফসার আলী প্রতিবাদ করলে রেজিস্ট্র অফিস থেকে পালিয়ে আসে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী । এ ঘটনার ৩-৪ দিন পরে স্থানীয় এলাকাবাসীদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করে তৎকালীন প্রয়াত চেয়ারম্যান মুনিরুল ইসলাম এবং বর্তমানে জালিয়াত চক্রের হোতা আব্দুল কারিম হাজ্বি। গ্রাম্য সালিশে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী দীন মোহাম্মদের ওয়ারেশ প্রমান করতে ব্যার্থ হয় মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী । এবং ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখে পৃথক পৃথক ৩ টি দলিল ভোলাহাট রেজিঃ অফিসে রেজিস্ট্রী হয়। সেখানেও দীন মোহাম্মদের ২য় স্ত্রী আজেদা বিবি ও দুই মেয়ে সানোয়ারা@ সাহানারা বেগম ও আনোয়ারা বেগম প্রকৃত ওয়ারেশ হিসেবে মোসাঃ তাজেমা বেগম, মোহাঃ আমানুল্লাহ দিং ও মোঃ কবির আলী দিং নামে জমি হস্তান্তর করে।

পরে গ্রাম্য সালিশে তাদের দাবির সত্যতা মেলেনি। বরং দীন মোহাম্মদের স্ত্রী ও দুই কন্যাই প্রকৃত ওয়ারিশ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে জমি বিক্রি করেন-যার ভিত্তিতে তাজেমা বেগমের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘দালাল সিন্ডিকেটের” পুরনো অভিযোগও সামনে -অনুসন্ধানে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আব্দুল কারিম হাজি দীর্ঘদিন ধরে জমি দালালি, মামলা সাজানো ও দুর্বলদের সম্পত্তি দখল চক্রের সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনায়ও একই চক্র সক্রিয় বলে দাবি তাদের। একজন সচেতন নাগরিক বলেন,“আজ তাজেমা বেগম, কাল আরেকজন।

জাল দলিল আর ভূয়া ওয়ারিশ দিয়ে যদি সম্পত্তি দখল হয়, তবে আইনের শাসন কোথায়?” চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ভুক্তভোগী ভূয়া ওয়ারিশ সনদ বাতিলের দাবিতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। আইনি লড়াইয়ে নজর এখন আদালতের দিকে একদিকে জাল দলিল বাতিল মামলা, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন আদালতের পর্যবেক্ষণে। সচেতন মহলের দাবি, জালিয়াতি চক্র, ভূয়া ওয়ারিশ সিন্ডিকেট এবং সম্ভাব্য প্রভাবশালী যোগসাজশের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি। তাদের মতে, “এই মামলা শুধু একজন নারীর জমি রক্ষার লড়াই নয়, এটি ভূমি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে আইনের পরীক্ষাও।”

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হায়াত ভটনের কাছে আব্দুল কারিম হাজ্বী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলীর সঙ্গে দীন মোহাম্মদের কোনো রক্তসম্পর্ক বা ওয়ারেশসূত্রে সম্পর্ক নেই।” তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, “আব্দুল কারিম হাজ্বী এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ‘ডন’ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় যেখানে ঝগড়া-বিবাদ, সেখানেই কারিম হাজ্বীর উপস্থিতি দেখা যায়।” আবুল হায়াত ভটন দাবি করেন, অতীতে কারিম হাজ্বীকে কেন্দ্র করে এলাকায় বহুবার বিচার-সালিশ হয়েছে। তবে বর্তমানে এসব কমে গেছে। তার ভাষ্য, “কারিম হাজ্বী প্রভাব ও অর্থের মাধ্যমে অবৈধ কাজকে বৈধ করার চেষ্টা করেন।” তিনি আরও বলেন, “পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যে কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অনেক সময় কারিম হাজ্বী এক পক্ষের হয়ে অবস্থান নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি বাধাগ্রস্ত করেন। বিষয়টি এলাকায় বহু মানুষের জানা।”

জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আফাজ উদ্দীন ও আলহাজ্ব আব্দুল কারিম।

দীন মোহাম্মদের আপন ভাগ্নে মোঃ আফসার আলী জানান, ২০০৩ সালের জুন মাসে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রয়াত মুনিরুল ইসলামের কাছে রেকর্ডীয় প্রজা দীন মোহাম্মদের মৃত্যুর পর তার ওয়ারেশ হিসেবে দ্বিতীয় স্ত্রী মোসাঃ আজেদা বেগম এবং দুই মেয়ে মোসাঃ সানুয়ারা বেগম ও মোসাঃ আনোয়ারা বেগম ভোলাহাট উপজেলার আমদিপুর মৌজার আর.এস ১৩১ খতিয়ানের ৫৫৫ নম্বর দাগের প্রায় ১৩ শতক জমি বিক্রি করেন। তিনি আরও জানান, জমি রেজিস্ট্রির দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে কথিত জালিয়াত চক্রের হোতা আব্দুল কারিম হাজ্বির পরামর্শে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী নিজেদের দীন মোহাম্মদের ওয়ারেশ দাবি করেন। তবে বিষয়টি জানতে পেরে রেকর্ডীয় প্রজা দীন মোহাম্মদের চাচাতো ভাই নূর মোহাম্মদ প্রামানিকের ছেলে জান মোহাম্মদ গুলোক, জামাতা বিসু আলী (তালি) এবং ভাগ্নে মোঃ আফসার আলী এর প্রতিবাদ জানান। তাদের প্রতিবাদের মুখে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী রেজিস্ট্রি অফিস থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার তিন থেকে চার দিন পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রয়াত মুনিরুল ইসলাম এবং আব্দুল কারিম হাজ্বি। ওই সালিশ বৈঠকে মেসের আলী মিছন ও বিসারত আলী দীন মোহাম্মদের বৈধ ওয়ারেশ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোলাহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পৃথক তিনটি দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। সেখানে দীন মোহাম্মদের দ্বিতীয় স্ত্রী আজেদা বিবি এবং দুই মেয়ে সানোয়ারা ওরফে সাহানারা বেগম ও আনোয়ারা বেগম নিজেদের প্রকৃত ওয়ারেশ হিসেবে মোসাঃ তাজেমা বেগম, মোঃ আমানুল্লাহ দিং এবং মোঃ কবির আলী দিংয়ের নামে জমি হস্তান্তর করেন।

দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের  আরেক ভাগ্নে মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, “আমার নানা ছিলেন চৈতন প্রামানিক এবং তার ছেলে ছিলেন দীন মোহাম্মদ, যিনি আমার মামা। আমার মামার দুই মেয়ে রয়েছে— সাহানা বেগম ও আনোয়ারা বেগম। দ্বীন মোহাম্মদ ছিলেন আমার নানার একমাত্র ছেলে। আর আমার নানার একমাত্র বোন ছিলেন গেন্দা বিবি। তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান।” তিনি আরও বলেন, “ভুয়া ওয়ারেশ দাবি করা রমজান আলী মণ্ডলের ছেলে মেসের আলী, মিছন ও বিসারত আলীর সঙ্গে দীন মোহাম্মদ প্রামানিক বা চৈতন প্রামানিকের বংশের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা আমার নানার  বংশের কেউ নন।” আজিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আব্দুল কারিম হাজ্বীর নিজ জমিতে যাওয়ার একাধিক রাস্তা থাকার পরেও হয়রানীর উদ্দেশ্যে তার পরামর্শে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ওয়ারিশান তৈরি করা হয়। পরে সেই ভুয়া ওয়ারেশ দেখিয়ে মেসের আলী, মিছন ও নুরজাহান এর  কাছ থেকে আন্দিপুর মৌজার ১৩১ নম্বর খতিয়ানের আর.এস ৬২ নম্বর দাগের ১০ শতাংশ জমির মধ্যে .০২০৮ একর সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়।” তিনি আরও দাবি করেন, “কারিম হাজ্বী এলাকায় একজন দালাল ও জালিয়াত প্রকৃতির ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার মাথায় সবসময় জালিয়াতির চিন্তাই কাজ করে।” নিজ বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা ভালোভাবেই জানি আমার নানা চৈতন প্রামানিক ও মামা দ্বীন মোহাম্মদের প্রকৃত ওয়ারেশ কারা। আমার নানার বংশ পরিচয় ‘প্রামানিক’, আর মেসের আলী ও বিসারতদের বংশ পরিচয় ‘মণ্ডল’। তাহলে প্রামানিক ও মণ্ডল কি একই গোত্রের হতে পারে?”

রমজান মণ্ডলের ছেলে মোঃ মেসের আলী (মিছন) ও মোঃ বিসারত আলী দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের  বৈধ ওয়ারেশ কি না-এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ০৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোঃ ইসরাফিল বলেন, “মেসের আলী ও বিসারত আলী দ্বীন মোহাম্মদের বৈধ ওয়ারেশ কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”

আলহাজ্ব আব্দুল কারিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রমজান মণ্ডলের ছেলে মোঃ মেসের আলী (মিছন) ও মোঃ বিসারত আলী দীন  মোহাম্মদ প্রামানিকের বৈধ ওয়ারেশ কি না-এ বিষয়টি বর্তমানে আদালতে দলিল বাতিলের মামলায় চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মোঃ মেসের আলী (মিছন) ও মোঃ বিসারত আলী যদি দ্বীন মোহাম্মদের বৈধ ওয়ারেশ হিসেবে প্রমাণিত না হন, তাহলে আমার দলিল বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি তারা বৈধ ওয়ারেশ হিসেবে প্রমাণিত হন, তাহলে আমার দলিল সঠিক থাকবে।” আব্দুল কারিম আরও দাবি করেন, মামলার বাদীর কাছ থেকে তিনি তার নিজ জমিতে যাওয়ার জন্য রাস্তা হিসেবে কিছু জমি ক্রয় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা জমি দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি রমজান মণ্ডলের ছেলে মোঃ মেসের আলী (মিছন) ও দীন মোহাম্মদের স্ত্রী মোছাঃ নুরজাহানের কাছ থেকে .০২০৮ একর সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেন।

ভূক্তোভোগীর মেয়ে মোসাঃ সামিয়াতুন জাহান তাহসিনা বলেন, দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের প্রকৃত ওয়ারেশ হচ্ছে দুই স্ত্রী ও দুই মেয়। প্রথম স্ত্রী  নুরজাহান বেগম, ও দিত্বীয় স্ত্রী আজেদা বেগম।  মেয়ে মোসাঃ সানুয়ারা ও মোসাঃ আনোয়ারা। দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের রক্তের কোন ভাই, বোন, ছেলে,চাচা কেউ নাই। কারিম হাজ্বি তাঁর নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দীন ও মেম্বার ইসরাফিল কে ম্যানেজ করে মেসের আলী মিছন ওবিসারত আলী কে দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের  ওয়ারেশ বানিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করেছে। প্রকৃত পক্ষে রমজান আলী মন্ডল জামবাড়িয়া ইউনিয়নে বড়গাচ্ছি গ্রামে রিফুজি। আমার মা বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে জালজালিয়াতি দলিল বাতিল চেয়ে মামলা দায়ের করে। এবং মামলা চলমান রয়েছে। তিনি আরো জানানা, বিষয় টি জানার পরে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আমার মা মোসাঃ তাজেমা বগম  লিখিত অভিযোগ দিলেও চেয়ারম্যান কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন  করেননি।

রমজান মণ্ডলের ছেলে মোঃ মেসের আলী (মিছন) ও মোঃ বিসারত আলী  দীন মোহাম্মদ প্রামানিকের ওয়ারেশ কিনা?   এবিষয়ে ভোলাহাট উপজেলার  জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আফাজ উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বলার কিছু নাই। আমি যা বলার আদালতে জবাব দিয়েছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আফাজ উদ্দীন ও ইউ.পি সদস্য মোঃ ইসরাফিল যোগসাজস করে ভূয়া ওয়ারেশন সৃজনের বিষয়ে  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক উজ্জল কুমার ঘোষ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে ভুক্তোভোগী অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।