
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিক্ষা অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সরকারি বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যপুস্তক বিক্রির গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। জেলার পৌর এলাকার নবাবগঞ্জ জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাঃ আবুল কাশেম-এর বিরুদ্ধে এ অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে জেলা শিক্ষা অফিসার কার্যালয়। ঘটনায় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে দাবি করা হয়-প্রধান শিক্ষক সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের মাঝে যথাযথভাবে বিতরণ না করে বিক্রি করেছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই নিয়েও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে বিষয়টি যাচাই করেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেন যে অতিরিক্ত বই ও খাতা বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। যদিও তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের বই বিক্রি হয়নি। তবে পর্যালোচনায় সরকারি বই বিতরণ ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি এবং হিসাব সংরক্ষণে ঘাটতি ধরা পড়ে।
নোটিশে আরও বলা হয়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বই বিতরণের পূর্ণাঙ্গ তালিকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি, যা বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে।
এ অবস্থায় প্রধান শিক্ষক মোহাঃ আবুল কাশেমকে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মোহাঃ আবুল কাশেম জানান, তিনি বই বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেননি।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যান তহবিল এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম কবিরের সাথে যোগাযোগ করে বই বিক্রির নিয়ম আছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের বই বিক্রির কোন সুযোগ নাই। তবে বাজারে যেহেতু বই কিনতে পাওয়া যায় না। অনেক সময় ছাত্র/ ছাত্রী বই হারিয়ে ফেলে। এসে বলে স্যার আমার একটা বই হারিয়ে গেছে। সে কারনে বই সংরক্ষণ করে রাখা উত্তম।যদি কোন শিক্ষক বই বিক্রি করে থাকে, তাহলে সেটা শিক্ষাঙ্গনের জন্য লজ্জার বিষয়।
জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল মতিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রধান শিক্ষককে দুই কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তর, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, একজন প্রধান শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি বই নিয়েই অনিয়মে জড়ান, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই অশনিসংকেত। তারা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
এখন শিক্ষা অঙ্গনের বড় প্রশ্ন—শিক্ষক যদি অনিয়মে জড়ান, তবে শিক্ষার্থীরা কোথা থেকে শিখবে সততা?
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 






















