
নাটোরের নলডাঙ্গায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককে বাধা, হুমকি ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার (১৮ মে) দুপুরে এনটিভি অনলাইন ও দৈনিক দিনকালের সাংবাদিক রানা আহমেদ বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বিএনপির এক ওয়ার্ড নেতা ও ইউনিয়ন যুবদলের দুই নেতাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৈনিক দিনকাল ও এনটিভি অনলাইনের নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা প্রতিনিধি রানা আহমেদ এবং মানবজমিনের নলডাঙ্গা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান উপজেলা কৃষি অফিস আয়োজিত কৃষকদের নিয়ে “পাটনার কংগ্রেস” শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে নলডাঙ্গা বারনই সেতু এলাকায় জনদুর্ভোগের একটি চিত্র দেখতে পান।
সেখানে পুকুর খননের মাটি ট্রাক ও লড়ির মাধ্যমে এনে নলডাঙ্গা পৌরসভার ভবন নির্মাণস্থলে ভরাট করা হচ্ছিল। মাটি বহনের সময় সেতুর ঢাল ও সড়কের ওপর কাদা জমে চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বৃষ্টির সময় ওই কাদা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
এ পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে নলডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু সরদার, মাধনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক টিটু সরদার এবং তার বড় ভাই মানিকুজ্জামান বিদ্যুৎ সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকিরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভোরের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক রাশেদ আলম ভিডিও ধারণের সময় তার মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে হেনস্তা করা হয়। এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম বলেন,“সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল এমরান আলী খান বলেন,“সড়কে মাটি ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সেতুর ঢালে জমে থাকা মাটি দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অবাধ সংবাদ সংগ্রহে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সাজেদুর রহমান, নাটোর 


















