ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ

দৌরাত্ম্যের দখলে মফস্বল সাংবাদিকতা! উত্তরণের পথ কোথায়?

সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা আরও কঠোর হতে হবে। কে সাংবাদিক, কে নয় তার একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করে সেটা সর্বস্তরে প্রচার করা জরুরী। সদস্যপদ দিতে হবে যাচাই-বাছাই করে। ভুয়া পরিচয়ধারীরা যাতে আইডি কার্ড বানিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে না পারে, সে নিয়ন্ত্রণ সংগঠনগুলোকেই নিতে হবে।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাঠের রিপোর্টার নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড ঠিক করতে হবে। শুধু পরিচিতি বা সুপারিশে নয় কাজ, দক্ষতা, নৈতিকতা দেখে নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আচরণবিধি ও কার্যপরিচালনার ওপর নজরদারি থাকতে হবে।

প্রশাসনের ভূমিকা এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা দালালি, ভয়ভীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করলে আরও কঠোর শাস্তির বিধান থাকা উচিত।

সচেতনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ হলো পেশাটিকে বাঁচানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সাংবাদিক যদি নিজেই দায়িত্বশীল না হয়, তবে কোনো নিয়মই তাকে ধরে রাখতে পারবে না। নিজের রিপোর্ট, নিজের আচরণ, নিজের নৈতিকতা এসবের ওপর আত্মসমালোচনা জরুরি।

এছাড়া, পাঠক, দর্শক ও স্থানীয় সমাজকেও সচেতন হতে হবে। ভুয়া সাংবাদিককে সুবিধা দেওয়া, দালালকে সাংবাদিক মনে করা এগুলোই তাদের শক্তি বাড়ায়। সমাজ যদি সত্যিকার সাংবাদিককে মর্যাদা দেয় আর অসত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, তবে অনিয়মের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাবে।

মফস্বল সাংবাদিকতার উত্তরণ একদিনে সম্ভব নয়, তবে পদক্ষেপগুলো সঠিক হলে অসম্ভবও নয়। কারণ সত্যকে রক্ষা করার দায়িত্ব যেমন সাংবাদিকের, তেমনি সমাজেরও।

জনপ্রিয় সংবাদ

দৌরাত্ম্যের দখলে মফস্বল সাংবাদিকতা! উত্তরণের পথ কোথায়?

দৌরাত্ম্যের দখলে মফস্বল সাংবাদিকতা! উত্তরণের পথ কোথায়?

প্রকাশের সময়ঃ ০২:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা আরও কঠোর হতে হবে। কে সাংবাদিক, কে নয় তার একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করে সেটা সর্বস্তরে প্রচার করা জরুরী। সদস্যপদ দিতে হবে যাচাই-বাছাই করে। ভুয়া পরিচয়ধারীরা যাতে আইডি কার্ড বানিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে না পারে, সে নিয়ন্ত্রণ সংগঠনগুলোকেই নিতে হবে।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাঠের রিপোর্টার নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড ঠিক করতে হবে। শুধু পরিচিতি বা সুপারিশে নয় কাজ, দক্ষতা, নৈতিকতা দেখে নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আচরণবিধি ও কার্যপরিচালনার ওপর নজরদারি থাকতে হবে।

প্রশাসনের ভূমিকা এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা দালালি, ভয়ভীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করলে আরও কঠোর শাস্তির বিধান থাকা উচিত।

সচেতনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ হলো পেশাটিকে বাঁচানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সাংবাদিক যদি নিজেই দায়িত্বশীল না হয়, তবে কোনো নিয়মই তাকে ধরে রাখতে পারবে না। নিজের রিপোর্ট, নিজের আচরণ, নিজের নৈতিকতা এসবের ওপর আত্মসমালোচনা জরুরি।

এছাড়া, পাঠক, দর্শক ও স্থানীয় সমাজকেও সচেতন হতে হবে। ভুয়া সাংবাদিককে সুবিধা দেওয়া, দালালকে সাংবাদিক মনে করা এগুলোই তাদের শক্তি বাড়ায়। সমাজ যদি সত্যিকার সাংবাদিককে মর্যাদা দেয় আর অসত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, তবে অনিয়মের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাবে।

মফস্বল সাংবাদিকতার উত্তরণ একদিনে সম্ভব নয়, তবে পদক্ষেপগুলো সঠিক হলে অসম্ভবও নয়। কারণ সত্যকে রক্ষা করার দায়িত্ব যেমন সাংবাদিকের, তেমনি সমাজেরও।