
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার বাইরে একটি উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে কয়েকজন বন্দির জন্য বিলাসবহুল আবাসনের সন্ধান পাওয়ার পর পাঁচ জ্যেষ্ঠ কারা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এসব আবাসনে সোফা, টেলিভিশন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও ফ্রিজসহ নানা সুবিধা ছিল। কারাগারটির আশপাশে বিলাসবহুল গাড়ি, জিম এবং নির্মাণাধীন গলফ সিমুলেটরেরও সন্ধান পেয়েছেন পরিদর্শকেরা।
২৩ সেপ্টেম্বর পশ্চিম জাভার বোগোরের সিবিনং কারাগারে আকস্মিক পরিদর্শন চালায় ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ন্যায়পাল বা অম্বুডসম্যান। উচ্চ নিরাপত্তার এই কারাগারে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত বন্দিদের রাখা হয়।
পরিদর্শনের কয়েক দিন পর ২৬ সেপ্টেম্বর কারাগারের ওয়ার্ডেন, নিরাপত্তাপ্রধান, গাইডেন্স ও শিক্ষা বিভাগের প্রধান, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান এবং সাধারণ বিষয়াবলি বিভাগের প্রধানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
কারা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিদর্শক রুডি সেটিয়াওয়ান জানান, অম্বুডসম্যানের পরিদর্শনে উঠে আসা ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
১০টির বেশি বিলাসবহুল আবাসন
অম্বুডসম্যানের সদস্য সিয়াফ্রিদা রাচমাওয়াতি রাসাহান জানান, পরিদর্শক দল প্রথমে কারাগারের সেল ব্লকে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। তবে সরকারি দায়িত্বপত্র দেখানোর পরও তাদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
পরে কারাগারের অভ্যর্থনাকেন্দ্র থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বেড়া দেওয়া একটি এলাকায় যান পরিদর্শকেরা। সেখানে ১০টির বেশি আবাসিক ইউনিটের সন্ধান পান তারা। কোনোটি অতিথিশালা, কোনোটি টেরেস বাড়ি আবার কোনোটি ভিলার আদলে তৈরি।
একটি আবাসনে সোফা, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও খাবার টেবিল পাওয়া যায়। ফ্রিজে মদের বোতলও ছিল। সেখানে থাকা এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিজেকে বন্দি হিসেবে পরিচয় দেন। পরিদর্শকদের দেখতে পেয়ে পরে তিনি শোবার ঘরে চলে যান।
অম্বুডসম্যানের সদস্যদের ভাষ্য, এসব আবাসন নির্দিষ্ট কিছু বন্দিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
‘অ্যাসিমিলেশন হাউস’ বলছে কারা কর্তৃপক্ষ
কারাগার কর্তৃপক্ষ এসব ভবনকে ‘অ্যাসিমিলেশন হাউস’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তাদের দাবি, বন্দিদের সমাজে পুনঃএকীভূত করার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব আবাসন ব্যবহৃত হয়।
তবে অম্বুডসম্যানের সদস্য ফিকরি ইয়াসিন বলেন, কয়েকটি আবাসনে একাধিক বন্দি থাকলেও কিছু ইউনিটে মাত্র একজন করে থাকতেন। তার মতে, বিষয়টি বন্দিদের মধ্যে আলাদা সুবিধা বা শ্রেণিবিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।
এক বন্দি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, এসব আবাসনে থাকার জন্য তিনি অর্থ দিয়েছেন। তবে কত টাকা এবং কাকে দেওয়া হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারী দল।
এ ছাড়া এক নারী অম্বুডসম্যানকে জানান, তার স্বামী ওই কারাগারে বন্দি। তাকে প্রতি সপ্তাহে ১ লাখ ৫০ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া দেওয়ার জন্য কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাপ দিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর কারাগারে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সূত্র: দ্য স্ট্রেইট টাইমস
অধিকার ডেস্কঃ 
























