
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নয়রসিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণে ঘরটির টিনের চাল উড়ে যায় এবং দেয়াল ধসে পড়ে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণপুর ইউনিয়নের নয়রসিয়া গ্রামের মুসা মাওলানা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, বাড়ির একটি ঘরে মজুত করে রাখা ২৫ থেকে ৩০টি হাতবোমা একযোগে বিস্ফোরিত হয়। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৫ থেকে ২০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের ইয়াহিয়া নামে এক ব্যক্তির বাড়ির একটি ঘরের মেঝের নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা ছিল ককটেল। সোমবার রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে সেগুলো বিস্ফোরিত হলে আশপাশের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরটির টিনের চাল উড়ে যায় এবং দেয়ালের অংশবিশেষ ধসে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, একসঙ্গে ২৫ থেকে ৩০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য ও পুলিশের তথ্যে পার্থক্য রয়েছে।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, নয়রসিয়া গ্রামের ইয়াহিয়ার বাড়ির একটি ঘরের মেঝের নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা ২৫ থেকে ৩০টি ককটেল একযোগে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘরটির দেয়াল ধসে পড়ে এবং টিনের চাল উড়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন পিপিএম মঙ্গলবার বিকেলে জানান, সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নয়রসিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে মজুত রাখা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির একটি ঘরের মেঝের নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা ১৫ থেকে ২০টি ককটেল একযোগে বিস্ফোরিত হয়। এতে কেউ নিহত বা আহত হননি।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বাড়ির মালিক ইয়াহিয়াকে প্রধান আসামি করে পুলিশ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেছে।
বসতবাড়ির একটি ঘরের মেঝের নিচে বিপজ্জনক বিস্ফোরক মজুত রাখার অভিযোগ এবং তা বিস্ফোরিত হয়ে ঘরের চাল ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরক মজুত থাকলে আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
তবে বিস্ফোরকগুলো কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল, কীভাবে সেগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল এবং ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মামলা হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্ফোরকের উৎস তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 


















