ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

ডিজেলের দাম বাড়ায় জরুরি বৈঠকে বসছে ইইউ

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৪:০১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৩৮ Time View

ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ ঠিক করতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) জরুরি বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদের কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার দিনের শুরুতেই ইইউ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিশনের এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের লক্ষ্য ডিজেলের বাড়তি দামের চাপ মোকাবিলায় সম্ভাব্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা।

ইউরোপের কাছ থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের চাপও বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ওয়াশিংটন বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সকে তাদের জরুরি ডিজেল মজুতের একটি অংশ বাজারে ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান মারোস সেফকোভিচ জি২০-এর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করলে তা ইউরোপের জন্য অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত ইউরোপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সেফকোভিচ জানান, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে এ বিষয়ে আটলান্টিকের দুই পাশের অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে তারা।

চলমান সরবরাহ সংকট

বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের জ্বালানি রপ্তানি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। ফলে ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে ডিজেলের মজুত ও দামের ওপর প্রভাব পড়ছে।

মার্কিন প্রশাসন ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিকোলা ফোরিসিয়ের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ উভয়ের জন্যই ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। তবে এমন সিদ্ধান্তের ফলে পেট্রোলের দামও বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ডিজেলের দাম কমাতে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউরোপের জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ট্রাম্পের বৈঠকে কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে তেল বা ডিজেল ছাড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি।

তবে জ্বালানির বাড়তি দাম মোকাবিলায় জি৭ নেতাদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ম্যাক্রোঁর। সেখানে কৌশলগত মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, বর্তমানে ইইউতে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি মজুতও তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং বাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

ডিজেলের দাম বাড়ায় জরুরি বৈঠকে বসছে ইইউ

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:০১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ ঠিক করতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) জরুরি বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদের কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার দিনের শুরুতেই ইইউ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিশনের এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের লক্ষ্য ডিজেলের বাড়তি দামের চাপ মোকাবিলায় সম্ভাব্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা।

ইউরোপের কাছ থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের চাপও বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ওয়াশিংটন বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সকে তাদের জরুরি ডিজেল মজুতের একটি অংশ বাজারে ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান মারোস সেফকোভিচ জি২০-এর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করলে তা ইউরোপের জন্য অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত ইউরোপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সেফকোভিচ জানান, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে এ বিষয়ে আটলান্টিকের দুই পাশের অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে তারা।

চলমান সরবরাহ সংকট

বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের জ্বালানি রপ্তানি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। ফলে ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে ডিজেলের মজুত ও দামের ওপর প্রভাব পড়ছে।

মার্কিন প্রশাসন ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিকোলা ফোরিসিয়ের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ উভয়ের জন্যই ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। তবে এমন সিদ্ধান্তের ফলে পেট্রোলের দামও বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ডিজেলের দাম কমাতে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউরোপের জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ট্রাম্পের বৈঠকে কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে তেল বা ডিজেল ছাড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি।

তবে জ্বালানির বাড়তি দাম মোকাবিলায় জি৭ নেতাদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ম্যাক্রোঁর। সেখানে কৌশলগত মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, বর্তমানে ইইউতে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি মজুতও তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং বাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।