ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ!

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৪৮ Time View

পাবনায় দুধ সংগ্রহের একটি চিলিং সেন্টার।

গরু ছাড়াই নিয়মিত মণকে মণ নকল দুধ তৈরি করে বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের চিলিং সেন্টারে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। সয়াবিন তেল, গ্লুকোজ, স্যাকারিন, ইউরিয়া সার, ডিটারজেন্ট পাউডার ও কস্টিক সোডাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে এসব দুধ তৈরি হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। বাহারি মোড়কে সেই দুধ পৌঁছে যাচ্ছে শিশু ও রোগীসহ সাধারণ মানুষের কাছে।

পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুরে নামে-বেনামে দুই শতাধিক চিলিং সেন্টার (মান যাচাই ও প্রাথমিক সংরক্ষণাগার) গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ৯২টি বিভিন্ন স্বনামধন্য কোম্পানির, বাকিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন। এ ছাড়া সাঁথিয়া, বাঘাবাড়ী ও বেড়া উপজেলাতেও অসংখ্য চিলিং সেন্টার রয়েছে।

ভেজাল কারবারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি ৪০ লিটার ননিবিহীন পানিতে মাত্র ৪৫০ টাকার রাসায়নিক মেশালেই তা উচ্চ ফ্যাটযুক্ত দুধের রূপ নেয়। বাজারে সেই নকল দুধ বিক্রি হয় প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি ৪০ লিটারে মুনাফা প্রায় ১ হাজার ৭৫০ টাকা। প্রতিদিন মণকে মণ তৈরি করে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় হয়। অন্যদিকে বছরে একবার ধরা পড়লেও সর্বোচ্চ শাস্তি লাখ টাকার জরিমানা, যা তাদের কাছে তেমন কিছু নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারবারিরা জানান, অনলাইনে অর্ডার বা ফোনে যোগাযোগ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এসব রাসায়নিক কেনা যায়। কুরিয়ারের মাধ্যমে তা কারখানায় পৌঁছে যায়। দুধ বিক্রিতে কিছুটা সমস্যা হলেও ৫০০ টাকা ঘুষ দিলে চিলিং সেন্টারের দরজা খুলে যায় বলে তাঁরা দাবি করেন। দাম কম হওয়ায় জেনে-বুঝেই এই তরল কিনছেন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্থানীয় সংগ্রাহকেরা, এমন অভিযোগও রয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর বেড়ার পেচাকোলা ঘাট এলাকার উত্তম ঘোষ ও পলি ঘোষ দম্পতিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর সাঁথিয়ার নাগডেমড়া এলাকায় জুঁই ডেইরি ফার্মের মালিককে বিভিন্ন কারণে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ফরিদপুরের কেয়া ডেইরি, আমিনা ডেইরি, প্রিমিয়াম ফুড, বেড়ার জয়দেব ঘোষ ও ভাঙ্গুড়ার সিংগাড়ি গ্রামের আশরাফুল আলীকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জয়দেব ঘোষ বেড়ার নাকালিয়া ও পেচাকোলা বাজারে ১২ বছর ধরে ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন।

ভেজাল কারবারিদের কারণে বিপাকে পড়েছেন প্রকৃত খামারিরা। খাঁটি দুধের দাম বেশি হওয়ায় এবং ঘুষ না দেওয়ায় চিলিং সেন্টারগুলো তা কিনতে চায় না। মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি সিন্ডিকেট কমিশন না পেয়ে প্রকৃত খামারিদের কোণঠাসা করে রাখে বলেও অভিযোগ আছে।

বাওইখোলা গ্রামের দুগ্ধ খামারি আশরাফুল ইসলাম বলেন, নকল দুধ কম দামে বিক্রি হওয়ায় খামারিদের বাজার নষ্ট হচ্ছে। লিটারপ্রতি ৫০-৫৫ টাকায় দুধ বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না। প্রশাসন দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ অঞ্চলের দুগ্ধশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও প্রান্তিক খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে প্রতিদিন সাড়ে চার লাখ লিটার দুধের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হয় সাড়ে তিন লাখ লিটার। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ লিটার কেনে মিল্ক ভিটা। পৌনে দুই লাখ লিটার কেনে আফতাব, আকিজ, প্রাণ ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পাইকাররা (ঘোষ) কেনেন ৫০ থেকে ৫৫ হাজার লিটার, মিষ্টির দোকানগুলো ১৫ হাজার লিটার এবং হাট-বাজারের স্থানীয় ক্রেতারা প্রায় ১০ হাজার লিটার। এ হিসাবে প্রতিদিন ঘাটতি ৫৫ থেকে ৬০ হাজার লিটার, যা নকল দুধ দিয়ে পূরণ করা হয় বলে অভিযোগ।

সাঁথিয়ার স্থানীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল লতিফ দাবি করেন, প্রকৃত খামারিরা কখনো দুধে ভেজাল মেশান না। কিছু অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী বাড়তি লাভের আশায় এ কাজ করছে। চিলিং সেন্টারে মান যাচাই না হওয়ায় তারা সুযোগ পাচ্ছে।

প্রাণ ডেইরির ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) সৈকত শেখ বলেন, ডিজিটাল সফটওয়্যার ও এলএস মেশিনের মাধ্যমে ১৩-১৪ ধাপে পরীক্ষা করে দুধ সংগ্রহ করা হয়। ভেজাল ধরা পড়লে দুধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। গত এক বছরে এ কারণে অসাধু চক্রের হামলায় চিলিং সেন্টারের চার-পাঁচজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কড়াকড়িতে এ অপরাধ থামানো সম্ভব নয়। ক্ষতিকর রাসায়নিকের বিপণন ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং সব সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন এসওপি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

মিল্ক ভিটার অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক ডা. সাইদুল ইসলাম বলেন, তাদের চিলিং সেন্টারে প্রতিটি নমুনায় ফ্যাট, এসএনএফ ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। ভেজাল ধরা পড়লে তা তাৎক্ষণিক বাতিল ও ধ্বংস করা হয়। কিছু অসাধু ফড়িয়ার কারণে এ অঞ্চলের দুগ্ধ খাতের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, প্রাকৃতিক দুধের উপাদানের স্বাভাবিক ভারসাম্য থাকে। কৃত্রিমভাবে চর্বির মাত্রা নকল করা গেলেও আসল গঠন ও পুষ্টিমান নকল করা সম্ভব নয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় এ ভেজাল ধরা কঠিন, স্বীকৃত পরীক্ষাগারে সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক পরীক্ষা দরকার। জরুরি পদক্ষেপ না নিলে মারাত্মক গণস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলায় ভেজাল দুধের কারবার মহামারী আকার ধারণ করেছে। ভোজ্য তেল, ডিটারজেন্ট ও কস্টিক সোডা মেশানো দুধ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে শিশু ও রোগীদের ক্ষেত্রে এটি কিডনি-লিভারের দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ভেজাল দুধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে রাসায়নিক শনাক্তে আধুনিক ল্যাব প্রয়োজন, যা পাবনায় নেই। রাজশাহী থেকে ভ্রাম্যমাণ ল্যাব মাসে মাত্র একবার আসে। জেলায় একটি স্থায়ী ল্যাব স্থাপনের চেষ্টা চলছে। এটি হলে ভেজাল কারবার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ!

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

গরু ছাড়াই নিয়মিত মণকে মণ নকল দুধ তৈরি করে বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের চিলিং সেন্টারে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। সয়াবিন তেল, গ্লুকোজ, স্যাকারিন, ইউরিয়া সার, ডিটারজেন্ট পাউডার ও কস্টিক সোডাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে এসব দুধ তৈরি হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। বাহারি মোড়কে সেই দুধ পৌঁছে যাচ্ছে শিশু ও রোগীসহ সাধারণ মানুষের কাছে।

পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুরে নামে-বেনামে দুই শতাধিক চিলিং সেন্টার (মান যাচাই ও প্রাথমিক সংরক্ষণাগার) গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ৯২টি বিভিন্ন স্বনামধন্য কোম্পানির, বাকিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন। এ ছাড়া সাঁথিয়া, বাঘাবাড়ী ও বেড়া উপজেলাতেও অসংখ্য চিলিং সেন্টার রয়েছে।

ভেজাল কারবারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি ৪০ লিটার ননিবিহীন পানিতে মাত্র ৪৫০ টাকার রাসায়নিক মেশালেই তা উচ্চ ফ্যাটযুক্ত দুধের রূপ নেয়। বাজারে সেই নকল দুধ বিক্রি হয় প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি ৪০ লিটারে মুনাফা প্রায় ১ হাজার ৭৫০ টাকা। প্রতিদিন মণকে মণ তৈরি করে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় হয়। অন্যদিকে বছরে একবার ধরা পড়লেও সর্বোচ্চ শাস্তি লাখ টাকার জরিমানা, যা তাদের কাছে তেমন কিছু নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারবারিরা জানান, অনলাইনে অর্ডার বা ফোনে যোগাযোগ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এসব রাসায়নিক কেনা যায়। কুরিয়ারের মাধ্যমে তা কারখানায় পৌঁছে যায়। দুধ বিক্রিতে কিছুটা সমস্যা হলেও ৫০০ টাকা ঘুষ দিলে চিলিং সেন্টারের দরজা খুলে যায় বলে তাঁরা দাবি করেন। দাম কম হওয়ায় জেনে-বুঝেই এই তরল কিনছেন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্থানীয় সংগ্রাহকেরা, এমন অভিযোগও রয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর বেড়ার পেচাকোলা ঘাট এলাকার উত্তম ঘোষ ও পলি ঘোষ দম্পতিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর সাঁথিয়ার নাগডেমড়া এলাকায় জুঁই ডেইরি ফার্মের মালিককে বিভিন্ন কারণে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ফরিদপুরের কেয়া ডেইরি, আমিনা ডেইরি, প্রিমিয়াম ফুড, বেড়ার জয়দেব ঘোষ ও ভাঙ্গুড়ার সিংগাড়ি গ্রামের আশরাফুল আলীকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জয়দেব ঘোষ বেড়ার নাকালিয়া ও পেচাকোলা বাজারে ১২ বছর ধরে ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন।

ভেজাল কারবারিদের কারণে বিপাকে পড়েছেন প্রকৃত খামারিরা। খাঁটি দুধের দাম বেশি হওয়ায় এবং ঘুষ না দেওয়ায় চিলিং সেন্টারগুলো তা কিনতে চায় না। মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি সিন্ডিকেট কমিশন না পেয়ে প্রকৃত খামারিদের কোণঠাসা করে রাখে বলেও অভিযোগ আছে।

বাওইখোলা গ্রামের দুগ্ধ খামারি আশরাফুল ইসলাম বলেন, নকল দুধ কম দামে বিক্রি হওয়ায় খামারিদের বাজার নষ্ট হচ্ছে। লিটারপ্রতি ৫০-৫৫ টাকায় দুধ বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না। প্রশাসন দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ অঞ্চলের দুগ্ধশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও প্রান্তিক খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে প্রতিদিন সাড়ে চার লাখ লিটার দুধের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হয় সাড়ে তিন লাখ লিটার। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ লিটার কেনে মিল্ক ভিটা। পৌনে দুই লাখ লিটার কেনে আফতাব, আকিজ, প্রাণ ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পাইকাররা (ঘোষ) কেনেন ৫০ থেকে ৫৫ হাজার লিটার, মিষ্টির দোকানগুলো ১৫ হাজার লিটার এবং হাট-বাজারের স্থানীয় ক্রেতারা প্রায় ১০ হাজার লিটার। এ হিসাবে প্রতিদিন ঘাটতি ৫৫ থেকে ৬০ হাজার লিটার, যা নকল দুধ দিয়ে পূরণ করা হয় বলে অভিযোগ।

সাঁথিয়ার স্থানীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল লতিফ দাবি করেন, প্রকৃত খামারিরা কখনো দুধে ভেজাল মেশান না। কিছু অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী বাড়তি লাভের আশায় এ কাজ করছে। চিলিং সেন্টারে মান যাচাই না হওয়ায় তারা সুযোগ পাচ্ছে।

প্রাণ ডেইরির ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) সৈকত শেখ বলেন, ডিজিটাল সফটওয়্যার ও এলএস মেশিনের মাধ্যমে ১৩-১৪ ধাপে পরীক্ষা করে দুধ সংগ্রহ করা হয়। ভেজাল ধরা পড়লে দুধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। গত এক বছরে এ কারণে অসাধু চক্রের হামলায় চিলিং সেন্টারের চার-পাঁচজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কড়াকড়িতে এ অপরাধ থামানো সম্ভব নয়। ক্ষতিকর রাসায়নিকের বিপণন ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং সব সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন এসওপি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

মিল্ক ভিটার অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক ডা. সাইদুল ইসলাম বলেন, তাদের চিলিং সেন্টারে প্রতিটি নমুনায় ফ্যাট, এসএনএফ ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। ভেজাল ধরা পড়লে তা তাৎক্ষণিক বাতিল ও ধ্বংস করা হয়। কিছু অসাধু ফড়িয়ার কারণে এ অঞ্চলের দুগ্ধ খাতের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, প্রাকৃতিক দুধের উপাদানের স্বাভাবিক ভারসাম্য থাকে। কৃত্রিমভাবে চর্বির মাত্রা নকল করা গেলেও আসল গঠন ও পুষ্টিমান নকল করা সম্ভব নয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় এ ভেজাল ধরা কঠিন, স্বীকৃত পরীক্ষাগারে সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক পরীক্ষা দরকার। জরুরি পদক্ষেপ না নিলে মারাত্মক গণস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলায় ভেজাল দুধের কারবার মহামারী আকার ধারণ করেছে। ভোজ্য তেল, ডিটারজেন্ট ও কস্টিক সোডা মেশানো দুধ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে শিশু ও রোগীদের ক্ষেত্রে এটি কিডনি-লিভারের দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ভেজাল দুধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে রাসায়নিক শনাক্তে আধুনিক ল্যাব প্রয়োজন, যা পাবনায় নেই। রাজশাহী থেকে ভ্রাম্যমাণ ল্যাব মাসে মাত্র একবার আসে। জেলায় একটি স্থায়ী ল্যাব স্থাপনের চেষ্টা চলছে। এটি হলে ভেজাল কারবার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।