ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
শিবগঞ্জে মিনি ট্রাকসহ চালক আটক, প্রায় ৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য উদ্ধার নলডাঙ্গায় সাংবাদিক হেনস্তা- যুবদল নেতাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ, ক্লিনিকে ভাঙচুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে তাজেমা বেগমের সম্পত্তি ঘিরে ‘দালাল সিন্ডিকেট’ সক্রিয় হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬”

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার

ফাইল ছবি।

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময়সহ মোট চার মাস নিবন্ধিত জেলেরা ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেকে ১৬০ কেজি করে চাল পাবেন। জেলায় প্রায় ৬০ হাজার জেলে থাকলেও নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার। তাদের বেশিরভাগই মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।

১০০ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম

লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার এলাকা থেকে রায়পুর হয়ে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদীপথকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী বরফকলগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চর আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত ৩০টি মাছঘাটও এ সময় বন্ধ থাকবে। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

জেলেদের দাবি

রায়পুরের হাজীমারা সুইসগেইট এলাকার কয়েকজন জেলে জানান, জাটকা সংরক্ষণের স্বার্থে তারা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবেন। তবে জেলেদের পুনর্বাসন ও খাদ্য সহায়তার পরিমাণ নিয়ে তাদের অভিযোগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত চাল সঠিক তালিকা অনুযায়ী দ্রুত বিতরণ এবং অনিয়ম রোধে কার্যকর নজরদারির দাবি জানান তারা।

বরফকল মালিকদের উদ্বেগ

হায়দরগঞ্জ ও খাসেরহাট এলাকার বরফকল মালিকরা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তারা বরফকল বন্ধ রেখেছেন। তবে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার দাবি জানান তারা।

নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা

রায়পুর ও সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান চৌধুরী এবং মো. আব্দুল্লাহ আকন্দ বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালিত হবে। আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সফলভাবে অভিযান পরিচালিত হলে ইলিশ উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তারা।

জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসনের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স কাজ করছে। ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবগঞ্জে মিনি ট্রাকসহ চালক আটক, প্রায় ৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময়সহ মোট চার মাস নিবন্ধিত জেলেরা ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেকে ১৬০ কেজি করে চাল পাবেন। জেলায় প্রায় ৬০ হাজার জেলে থাকলেও নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার। তাদের বেশিরভাগই মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।

১০০ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম

লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার এলাকা থেকে রায়পুর হয়ে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদীপথকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী বরফকলগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চর আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত ৩০টি মাছঘাটও এ সময় বন্ধ থাকবে। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

জেলেদের দাবি

রায়পুরের হাজীমারা সুইসগেইট এলাকার কয়েকজন জেলে জানান, জাটকা সংরক্ষণের স্বার্থে তারা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবেন। তবে জেলেদের পুনর্বাসন ও খাদ্য সহায়তার পরিমাণ নিয়ে তাদের অভিযোগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত চাল সঠিক তালিকা অনুযায়ী দ্রুত বিতরণ এবং অনিয়ম রোধে কার্যকর নজরদারির দাবি জানান তারা।

বরফকল মালিকদের উদ্বেগ

হায়দরগঞ্জ ও খাসেরহাট এলাকার বরফকল মালিকরা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তারা বরফকল বন্ধ রেখেছেন। তবে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার দাবি জানান তারা।

নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা

রায়পুর ও সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান চৌধুরী এবং মো. আব্দুল্লাহ আকন্দ বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালিত হবে। আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সফলভাবে অভিযান পরিচালিত হলে ইলিশ উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তারা।

জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসনের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স কাজ করছে। ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।