ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হুমকি পেয়েই যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান সরায় যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প মুন্সীগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর নারীর মরদেহ উদ্ধার কর্মসংস্থানের দাবিতে রাতভর অবস্থান, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা দেশভাগের পর প্রথমবার আসাম থেকে ঢাকায় আন্তর্জাতিক নৌপথে পণ্য পরিবহন পঞ্চগড়ে রিকশাচালক হত্যা মামলায় সাবেক এমপি নাইমুজ্জামান মুক্তা গ্রেপ্তার ধর্ম অবমাননার মামলায় সৌদি আরবে লঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড ‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠাবে তুরস্ক-পাকিস্তান মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনায় কারা হবেন নতুন ভরসা বিস্ময় বালক থেকে কিংবদন্তি, মেসির উত্তরাধিকার মিরপুরে রুটি চুরির অভিযোগে পথশিশুকে মারধর, নিরাপত্তাকর্মী আটক

বিস্ময় বালক থেকে কিংবদন্তি, মেসির উত্তরাধিকার

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৩৫ Time View

আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে লিওনেল মেসি।

ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে যখন জাদুকর লিওনেল মেসি তাঁর বর্ণিল আন্তর্জাতিক যাত্রার ইতি টানার দ্বারপ্রান্তে, তখন বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন মুহূর্ত। রোজারিওর শীর্ণকায় সেই হরমোনজনিত সমস্যায় আক্রান্ত কিশোর, যাঁর পায়ে বল এলেই ফুটবলপ্রেমীরা জাদুর ছোঁয়া অনুভব করতেন, তিনিই সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

বুয়েন্স আয়ার্সের প্রিয় মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে নামার আগে মেসির দীর্ঘ পথচলার দিকে তাকালে দেখা যায় সংগ্রাম, হতাশা, সমালোচনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর অসাধারণ এক গল্প। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে থাকলেও, তাঁর রেখে যাওয়া জীবনবোধ ও ফুটবলীয় উত্তরাধিকার আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

ক্যারিয়ারের প্রথম প্রায় এক দশক মেসির জন্য আন্তর্জাতিক শিরোপাহীনতায় কেটেছে। সময় যত গড়িয়েছে, আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির প্রত্যাশার চাপও তত বেড়েছে। বার্সেলোনার হয়ে একের পর এক সাফল্য পেলেও জাতীয় দলের জার্সিতে ট্রফি না পাওয়াটা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমালোচকদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল।

২০১৬ সালের জুনে কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে কথোপকথনের সময় দিয়েগো ম্যারাডোনাও মেসির নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মেসি ভালো মানুষ হলেও তাঁর মধ্যে আদর্শ নেতার মতো ব্যক্তিত্ব নেই। ম্যারাডোনার এমন মন্তব্য মেসির ওপর তৈরি হওয়া সমালোচনার চাপকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছিল।

ম্যারাডোনার নেতৃত্বের পর ১৯৯৩ সাল থেকে দীর্ঘ ২৩ বছর কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। সেই দীর্ঘ শিরোপা-খরার মধ্যে পূর্ণ এক দশক জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন মেসি। একের পর এক টুর্নামেন্টে শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার যন্ত্রণা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।

২০১০ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার কোচিংয়ে আর্জেন্টিনার অভিযান থেমে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই আসরে মেসিকে অনেকটা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের ভূমিকায় খেলিয়ে কার্লোস তেভেজকে বল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অবশ্য আসেনি।

২০১৪ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর মেসি তুলনামূলক দুর্বল ও রক্ষণাত্মক একটি দলকে টেনে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যান। কিন্তু মারাকানার সেই ফাইনালে জার্মানির কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার। অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার চোটও মেসির জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।

এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ সালের টানা দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেও চিলির বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। বারবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি না পাওয়ার হতাশা মেসির ওপর সমালোচনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।

নিজের সমালোচকদের উদ্দেশে মেসিও একসময় প্রশ্ন তুলেছিলেন, জাতীয় দলের জার্সির প্রতি তাঁর টান নেই কিংবা তিনি মাঠে যথেষ্ট দৌড়ান না—এ ধরনের মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে। তাঁর বক্তব্য ছিল, ফুটবল শুধু শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের খেলা নয়; কৌশল ও খেলাটার প্রকৃত সৌন্দর্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মেসির এই মানসিকতা বুঝতে পেরেছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মেসিকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা না করে তাঁর নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী দলকে সাজানো। স্কালোনির ভাষায়, মেসি ম্যারাডোনা নন—তিনি মেসি, আর পুরো দল তাঁর পাশে রয়েছে।

স্কালোনি জাতীয় দলকে এমনভাবে পুনর্গঠন করেন, যাতে মেসি নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেন। আগের দলের বেশির ভাগ সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের পাশাপাশি কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে দলে আনা হয়। ২০২২ বিশ্বকাপের দলে পুরোনোদের মধ্যে নিকোলাস ওতামেন্দি, আলেহান্দ্রো গোমেজ ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ছিলেন উল্লেখযোগ্য।

নতুন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি বড় মিল ছিল—মেসির প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা ও আস্থা। মেসির কাছ থেকে প্রতিটি ম্যাচে একাই অসাধারণ কিছু করে দেখানোর প্রত্যাশা না রেখে স্কালোনি দলকে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

মাঠের নির্দিষ্ট একটি পজিশনে মেসিকে আটকে না রেখে তাঁকে নিজের মতো করে চলাফেরা করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। মাঠের কোথায় থাকবেন, কখন নিচে নেমে বল নেবেন কিংবা কখন আক্রমণে যাবেন—এসব সিদ্ধান্তে মেসিকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেওয়া হয়। আর সতীর্থরা নিজেদের খেলাকে তাঁর সামর্থ্য ও কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেন।

দলের এই পরিবর্তনের পাশাপাশি মেসিও নিজেকে বদলে নেন। একসময় যে খেলোয়াড়ের ওপর প্রতিটি ম্যাচে একাই ইতিহাস গড়ার প্রত্যাশা ছিল, তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন একটি সুসংগঠিত দলের নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সংগ্রাম তাই শুধু ট্রফি জয়ের গল্প নয়; বরং সংশয়, ব্যর্থতা ও সমালোচনাকে পেছনে ফেলে নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অসাধারণ অধ্যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হুমকি পেয়েই যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান সরায় যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

বিস্ময় বালক থেকে কিংবদন্তি, মেসির উত্তরাধিকার

প্রকাশের সময়ঃ ১০:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে যখন জাদুকর লিওনেল মেসি তাঁর বর্ণিল আন্তর্জাতিক যাত্রার ইতি টানার দ্বারপ্রান্তে, তখন বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন মুহূর্ত। রোজারিওর শীর্ণকায় সেই হরমোনজনিত সমস্যায় আক্রান্ত কিশোর, যাঁর পায়ে বল এলেই ফুটবলপ্রেমীরা জাদুর ছোঁয়া অনুভব করতেন, তিনিই সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

বুয়েন্স আয়ার্সের প্রিয় মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে নামার আগে মেসির দীর্ঘ পথচলার দিকে তাকালে দেখা যায় সংগ্রাম, হতাশা, সমালোচনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর অসাধারণ এক গল্প। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে থাকলেও, তাঁর রেখে যাওয়া জীবনবোধ ও ফুটবলীয় উত্তরাধিকার আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

ক্যারিয়ারের প্রথম প্রায় এক দশক মেসির জন্য আন্তর্জাতিক শিরোপাহীনতায় কেটেছে। সময় যত গড়িয়েছে, আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির প্রত্যাশার চাপও তত বেড়েছে। বার্সেলোনার হয়ে একের পর এক সাফল্য পেলেও জাতীয় দলের জার্সিতে ট্রফি না পাওয়াটা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমালোচকদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল।

২০১৬ সালের জুনে কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে কথোপকথনের সময় দিয়েগো ম্যারাডোনাও মেসির নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মেসি ভালো মানুষ হলেও তাঁর মধ্যে আদর্শ নেতার মতো ব্যক্তিত্ব নেই। ম্যারাডোনার এমন মন্তব্য মেসির ওপর তৈরি হওয়া সমালোচনার চাপকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছিল।

ম্যারাডোনার নেতৃত্বের পর ১৯৯৩ সাল থেকে দীর্ঘ ২৩ বছর কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। সেই দীর্ঘ শিরোপা-খরার মধ্যে পূর্ণ এক দশক জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন মেসি। একের পর এক টুর্নামেন্টে শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার যন্ত্রণা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।

২০১০ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার কোচিংয়ে আর্জেন্টিনার অভিযান থেমে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই আসরে মেসিকে অনেকটা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের ভূমিকায় খেলিয়ে কার্লোস তেভেজকে বল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অবশ্য আসেনি।

২০১৪ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর মেসি তুলনামূলক দুর্বল ও রক্ষণাত্মক একটি দলকে টেনে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যান। কিন্তু মারাকানার সেই ফাইনালে জার্মানির কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার। অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার চোটও মেসির জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।

এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ সালের টানা দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেও চিলির বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। বারবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি না পাওয়ার হতাশা মেসির ওপর সমালোচনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।

নিজের সমালোচকদের উদ্দেশে মেসিও একসময় প্রশ্ন তুলেছিলেন, জাতীয় দলের জার্সির প্রতি তাঁর টান নেই কিংবা তিনি মাঠে যথেষ্ট দৌড়ান না—এ ধরনের মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে। তাঁর বক্তব্য ছিল, ফুটবল শুধু শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের খেলা নয়; কৌশল ও খেলাটার প্রকৃত সৌন্দর্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মেসির এই মানসিকতা বুঝতে পেরেছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মেসিকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা না করে তাঁর নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী দলকে সাজানো। স্কালোনির ভাষায়, মেসি ম্যারাডোনা নন—তিনি মেসি, আর পুরো দল তাঁর পাশে রয়েছে।

স্কালোনি জাতীয় দলকে এমনভাবে পুনর্গঠন করেন, যাতে মেসি নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেন। আগের দলের বেশির ভাগ সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের পাশাপাশি কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে দলে আনা হয়। ২০২২ বিশ্বকাপের দলে পুরোনোদের মধ্যে নিকোলাস ওতামেন্দি, আলেহান্দ্রো গোমেজ ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ছিলেন উল্লেখযোগ্য।

নতুন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি বড় মিল ছিল—মেসির প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা ও আস্থা। মেসির কাছ থেকে প্রতিটি ম্যাচে একাই অসাধারণ কিছু করে দেখানোর প্রত্যাশা না রেখে স্কালোনি দলকে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

মাঠের নির্দিষ্ট একটি পজিশনে মেসিকে আটকে না রেখে তাঁকে নিজের মতো করে চলাফেরা করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। মাঠের কোথায় থাকবেন, কখন নিচে নেমে বল নেবেন কিংবা কখন আক্রমণে যাবেন—এসব সিদ্ধান্তে মেসিকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেওয়া হয়। আর সতীর্থরা নিজেদের খেলাকে তাঁর সামর্থ্য ও কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেন।

দলের এই পরিবর্তনের পাশাপাশি মেসিও নিজেকে বদলে নেন। একসময় যে খেলোয়াড়ের ওপর প্রতিটি ম্যাচে একাই ইতিহাস গড়ার প্রত্যাশা ছিল, তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন একটি সুসংগঠিত দলের নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সংগ্রাম তাই শুধু ট্রফি জয়ের গল্প নয়; বরং সংশয়, ব্যর্থতা ও সমালোচনাকে পেছনে ফেলে নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অসাধারণ অধ্যায়।