
এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে চীন। ১৬৯টি স্বর্ণসহ মোট ৩৪১টি পদক নিয়ে পদক তালিকার শীর্ষে থেকে আসর শেষ করেছে দেশটি। বিপরীতে বাংলাদেশের অর্জন মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক। ফলে পদক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৩৭তম।
নাগোয়া ও আইচি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত এবারের এশিয়ান গেমসে স্বাগতিক জাপান দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে আসর শেষ করেছে। অন্যদিকে ভারতও নিজেদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে মোট ৮৫টি পদক নিয়ে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে।
চীনের এবারের সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হাংঝু এশিয়ান গেমস-২০২৩-এ নিজেদের মাটিতে ২০১টি স্বর্ণসহ মোট ৩৮৩টি পদক জিতেছিল তারা। এবার সেই সংখ্যা ছাড়াতে না পারলেও দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে নিজেদের সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছে চীন। ১৬৯টি স্বর্ণ নিয়ে তারা ২০০৬ সালের দোহা এশিয়ান গেমসে জেতা ১৬৫টি স্বর্ণের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
সাঁতারে ছিল চীনের বিশেষ আধিপত্য। এই ইভেন্ট থেকেই দেশটি ৩০টি স্বর্ণপদক পেয়েছে। মাত্র ১৩ বছর বয়সী চীনা সাঁতারু ইউ জিদি মেয়েদের ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে এশিয়ান রেকর্ড করেন। পাশাপাশি ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ও ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে গেমস রেকর্ড গড়ে তিনি আসরের সেরা নারী ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হন।
শুটিংয়েও রেকর্ড গড়েছে চীন। স্কিট মিক্সড টিম ইভেন্টে লিউ জিয়ানলিন ও জিয়াং ইটিং ৫২ স্কোর করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঘিরে শুরুতে ক্রিকেট, কাবাডি, আর্চারি ও শুটিংয়ে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য আসেনি। বিভিন্ন দলগত ও ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা পদকের লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেননি।
বাংলাদেশের একমাত্র পদক এসেছে নারী উশু থেকে। জিন্নাত আক্তারের ব্রোঞ্জই এবারের আসরে দেশের একমাত্র অর্জন হয়ে থাকল। ফলে পদক তালিকায় ৩৭ নম্বরে থেকেই এশিয়ান গেমসের আসর শেষ করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স নিয়ে ইতোমধ্যে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, এশিয়ান গেমসে দলের হতাশাজনক ফলাফলের কারণ খুঁজে বের করতে বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শুধু অংশগ্রহণ করাই এখন সরকারের লক্ষ্য নয়; বরং পদকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রস্তুতি ও সক্ষমতা গড়ে তোলাই হবে ভবিষ্যতের উদ্দেশ্য।
এদিকে এবারের আসরে প্রতিবেশী ভারত মোট ৮৫টি পদক পেয়েছে। এর মধ্যে ২১টি স্বর্ণ, ২৭টি রৌপ্য ও ৩৭টি ব্রোঞ্জ। ক্রিকেট, কাবাডি, আর্চারি ও হকির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছে ভারত।
শ্রীলঙ্কা পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোতে স্বর্ণের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটে রৌপ্য পেয়েছে। পাকিস্তানের সংগ্রহ ১০টি পদক, আর নেপাল পেয়েছে দুটি ব্রোঞ্জ।
এশিয়ার বড় ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশের এমন ফল আবারও দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রতিভা বিকাশ ও আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে পদক জয়ের লক্ষ্য পূরণে এখন থেকেই কার্যকর পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 






















