ঢাকা ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হাইকোর্টে জুলাই জাতীয় সনদ স্থগিত চাওয়া রিটের আদেশ আজ ১১৪ দিন পর ঢাকায় নামল মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি ঈশ্বরদীতে শর্ট সার্কিটে বাড়ি পুড়ে ছাই, প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ফোনে ব্যস্ত চি‌কিৎসক, দায়িত্বে অব‌হেলায় হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ডিশ–ইন্টারনেট ব্যবসা দখল নিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি খুবি ক্যারিয়ার ক্লাবের নতুন নেতৃত্বে মুন্না সভাপতি, নির্ঝর সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সংসদে ৬ হুইপ নিয়োগ, প্রজ্ঞাপন জারি লাইসেন্সবিহীন ৩ ইটভাটাকে ১৮ লাখ টাকা জরিমানা, চিমনি ভেঙে দেওয়া হয় রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নিহত আলটিমেটামের পরও দেবীদ্বারে ফুটপাত দখলমুক্ত নয়, ব্যবসায়ীদের অনীহা
অবসরপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তার মন্তব্য

ভূমি ব্যবস্থাপনার সমস্যায় শুধু ইউনিয়ন ভূমি অফিস দায়ী নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস।

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নানা অভিযোগ ও জনঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—ভূমি ব্যবস্থাপনার সব সমস্যার জন্য কি শুধু ইউনিয়ন ভূমি অফিসই দায়ী?
তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ভূমি প্রশাসন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল খাত, যা সরাসরি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে এই খাতে সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে নানা প্রত্যাশা ও প্রশ্ন রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা তৈরি হয়েছে—“ইউনিয়ন ভূমি অফিস টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না।” তিনি বলেন, এই ধারণা এতটাই গভীরে প্রোথিত যে অনেক ক্ষেত্রে মানুষ সেবা নেওয়ার আগেই ধরে নেন অনিয়ম ছাড়া কাজ সম্ভব নয়।
তবে মোঃ মশিউর রহমানের মতে, বাস্তবতা এতটা একপাক্ষিক নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস হলো ভূমি প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি সেবা গ্রহণ করেন। নামজারি, খাজনা আদায়, পর্চা প্রদান ও ভূমি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহসহ অধিকাংশ প্রাথমিক সেবা এখানেই সম্পন্ন হয়। ফলে কোনো কাজে বিলম্ব বা ভোগান্তি হলে প্রথমেই এই অফিসকে দায়ী করা হয়।
কিন্তু ভূমি ব্যবস্থাপনা কেবল ইউনিয়ন পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইউনিয়নের পরবর্তী স্তরে রয়েছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় এবং জেলা পর্যায়ে এডিসি (রেভিনিউ) অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তর। ভূমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, অনুমোদন, আপিল ও নীতিনির্ধারণ এসব উচ্চতর স্তরেই সম্পন্ন হয়। একটি আবেদন বা ফাইল প্রক্রিয়াজাত হতে একাধিক স্তর অতিক্রম করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ফাইল অন্য কোনো দপ্তরে আটকে থাকে বা অনুমোদনে বিলম্ব হয়, কিন্তু সাধারণ মানুষ সে বিষয়ে অবগত থাকেন না। কারণ তারা সরাসরি যোগাযোগ করেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাথেই। ফলে দোষারোপের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে মাঠপর্যায়ের অফিস।
মোঃ মশিউর রহমান মাঠপর্যায়ের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জনবল সংকট, পর্যাপ্ত লজিস্টিক সুবিধার অভাব এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ বিদ্যমান। এসব বাস্তবতা প্রায়ই আলোচনার বাইরে থেকে যায়।
তার মতে, কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এককভাবে একটি স্তরকে সম্পূর্ণ দোষী বা সম্পূর্ণ নির্দোষ বলা যায় না। একটি বহুমাত্রিক ব্যবস্থায় সমস্যার উৎসও বহুমুখী হয়ে থাকে। তাই ভূমি ব্যবস্থাপনার সমস্যাকে এককভাবে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, দোষারোপ নয়—সমন্বিত উদ্যোগ ও কাঠামোগত সংস্কারই হতে পারে ভূমি ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান। প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে ভূমি প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইকোর্টে জুলাই জাতীয় সনদ স্থগিত চাওয়া রিটের আদেশ আজ

অবসরপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তার মন্তব্য

ভূমি ব্যবস্থাপনার সমস্যায় শুধু ইউনিয়ন ভূমি অফিস দায়ী নয়

প্রকাশের সময়ঃ ১১:১৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নানা অভিযোগ ও জনঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—ভূমি ব্যবস্থাপনার সব সমস্যার জন্য কি শুধু ইউনিয়ন ভূমি অফিসই দায়ী?
তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ভূমি প্রশাসন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল খাত, যা সরাসরি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে এই খাতে সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে নানা প্রত্যাশা ও প্রশ্ন রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা তৈরি হয়েছে—“ইউনিয়ন ভূমি অফিস টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না।” তিনি বলেন, এই ধারণা এতটাই গভীরে প্রোথিত যে অনেক ক্ষেত্রে মানুষ সেবা নেওয়ার আগেই ধরে নেন অনিয়ম ছাড়া কাজ সম্ভব নয়।
তবে মোঃ মশিউর রহমানের মতে, বাস্তবতা এতটা একপাক্ষিক নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস হলো ভূমি প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি সেবা গ্রহণ করেন। নামজারি, খাজনা আদায়, পর্চা প্রদান ও ভূমি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহসহ অধিকাংশ প্রাথমিক সেবা এখানেই সম্পন্ন হয়। ফলে কোনো কাজে বিলম্ব বা ভোগান্তি হলে প্রথমেই এই অফিসকে দায়ী করা হয়।
কিন্তু ভূমি ব্যবস্থাপনা কেবল ইউনিয়ন পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইউনিয়নের পরবর্তী স্তরে রয়েছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় এবং জেলা পর্যায়ে এডিসি (রেভিনিউ) অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তর। ভূমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, অনুমোদন, আপিল ও নীতিনির্ধারণ এসব উচ্চতর স্তরেই সম্পন্ন হয়। একটি আবেদন বা ফাইল প্রক্রিয়াজাত হতে একাধিক স্তর অতিক্রম করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ফাইল অন্য কোনো দপ্তরে আটকে থাকে বা অনুমোদনে বিলম্ব হয়, কিন্তু সাধারণ মানুষ সে বিষয়ে অবগত থাকেন না। কারণ তারা সরাসরি যোগাযোগ করেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাথেই। ফলে দোষারোপের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে মাঠপর্যায়ের অফিস।
মোঃ মশিউর রহমান মাঠপর্যায়ের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জনবল সংকট, পর্যাপ্ত লজিস্টিক সুবিধার অভাব এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ বিদ্যমান। এসব বাস্তবতা প্রায়ই আলোচনার বাইরে থেকে যায়।
তার মতে, কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এককভাবে একটি স্তরকে সম্পূর্ণ দোষী বা সম্পূর্ণ নির্দোষ বলা যায় না। একটি বহুমাত্রিক ব্যবস্থায় সমস্যার উৎসও বহুমুখী হয়ে থাকে। তাই ভূমি ব্যবস্থাপনার সমস্যাকে এককভাবে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, দোষারোপ নয়—সমন্বিত উদ্যোগ ও কাঠামোগত সংস্কারই হতে পারে ভূমি ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান। প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে ভূমি প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।