ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিশন পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হবে ডিসেম্বর থেকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিককে গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের পূর্বানুমতি বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন চীনা দূতাবাসের জিম্মায় জামিন পেলেন চীন ও তাইওয়ানের ৬ নাগরিক ‘অপলক’ দিয়ে বড় পর্দায় রাজীব, জুটি হচ্ছেন নিশো-মেহজাবীন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষার নতুন বই, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিককে গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের পূর্বানুমতি

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১১:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ১২৪৬ Time View

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগৃহীত ছবি

সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খসড়াটি পরিমার্জন করা হচ্ছে, যাতে নতুন এই আইন কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীর উল্লেখযোগ্য দিক

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সংবাদের কারণে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি যেকোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের (মিসইনফরমেশন) সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কাউকে হয়রানি করা না যায়।

নতুন খসড়ায় মোবাইল কোর্টের কোনো বিধান না রাখা, ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিত কারণ জানানো এবং কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাবও এসেছে।

কাউন্সিলে গণমাধ্যম প্রতিনিধি, জনমতের জন্য উন্মুক্ত হবে খসড়া

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন কাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও একমত হন অংশগ্রহণকারীরা।

খুব শিগগিরই পরিমার্জিত খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নিজেদের মতামত জানাতে পারেন।

সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি মোকাবিলার পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্য বজায় রেখেই একটি সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ নীতি নির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিককে গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের পূর্বানুমতি

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খসড়াটি পরিমার্জন করা হচ্ছে, যাতে নতুন এই আইন কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীর উল্লেখযোগ্য দিক

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সংবাদের কারণে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি যেকোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের (মিসইনফরমেশন) সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কাউকে হয়রানি করা না যায়।

নতুন খসড়ায় মোবাইল কোর্টের কোনো বিধান না রাখা, ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিত কারণ জানানো এবং কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাবও এসেছে।

কাউন্সিলে গণমাধ্যম প্রতিনিধি, জনমতের জন্য উন্মুক্ত হবে খসড়া

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন কাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও একমত হন অংশগ্রহণকারীরা।

খুব শিগগিরই পরিমার্জিত খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নিজেদের মতামত জানাতে পারেন।

সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি মোকাবিলার পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্য বজায় রেখেই একটি সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ নীতি নির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।