ঢাকা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধান ও সবজির ক্ষেত

রাতভর বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং পাশাপাশি ডুবে গেছে জমির পাকা, আধাপাকা ধান ও শীতকালীন সবজিক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে গত ১০ বছরে একদিনে এমন বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলার ৫ উপজেলায় মোট ৯৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৯১ মিলিমিটার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ২৬০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া জেলার শিবগঞ্জে ১৭৫ মিমি, গোমস্তাপুরে ১৮০ মিমি, নাচোলে ১৭৫ মিমি এবং ভোলাহাটে ১৬৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, আর এক সপ্তাহ পরেই শুরু হতো ধান কাটা। কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে বৃষ্টিতে তাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। নিম্নাঞ্চলের খেতগুলোতে পুরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। কৃষকদেরে দাবি- আগে যেসব জমিতে বিঘাপ্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছিলেন, সেখানে হয়তো ৫ মণের বেশি পাবেন না।

নাচোল নেজামপুর এলাকার আমন ধান চাষী আবু সায়েম বলেন, আমার তিন বিঘা জমির ধান পুরোপুরি ডুবে গেছে। কয়েকদিন পরেই ধান কাটা শুরু হতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুর্যোগের কবলে পড়ে অধিকাংশ ধান শেষ হয়ে গেছে। আশা করেছিলাম বিঘায় ২০ মণ করে ধান হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বিঘাতে ৫ মণের বেশি পাবো না।

ইসলামপুর এলকার আব্দুর রহিম বলেন, গত বছর আলু চাষে অনেক লোকসান হয়েছে। ভাবলাম আগাম লাগালে ভালো দাম পাব। তাই দেড় বিঘা জমিতে এক সপ্তাহ আগে বীজ রোপণ করেছি। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে গাছ ঠিকভাবে উঠছে না। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।

দেবিনগর এলাকার সানাউল্লাহ জানান, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ফুলকপিসহ নানা সবজির গোড়ায় পচন ধরেছে। অসময়ের এই বৃষ্টিতে খরচের টাকাও তুলতে পারব কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইয়াছিন আলী জানান, গত ১০ বছরের একদিনে এত বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বৃষ্টিতে জেলার ৪ হাজার ৪৫৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে রোপা আমন, সরিষা, বিভিন্ন শীতকালিন সবজি, পেঁয়াজ, মাসকলাইসহ আরোও অনেক ফসল।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধান ও সবজির ক্ষেত

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:১৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

রাতভর বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং পাশাপাশি ডুবে গেছে জমির পাকা, আধাপাকা ধান ও শীতকালীন সবজিক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে গত ১০ বছরে একদিনে এমন বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলার ৫ উপজেলায় মোট ৯৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৯১ মিলিমিটার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ২৬০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া জেলার শিবগঞ্জে ১৭৫ মিমি, গোমস্তাপুরে ১৮০ মিমি, নাচোলে ১৭৫ মিমি এবং ভোলাহাটে ১৬৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, আর এক সপ্তাহ পরেই শুরু হতো ধান কাটা। কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে বৃষ্টিতে তাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। নিম্নাঞ্চলের খেতগুলোতে পুরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। কৃষকদেরে দাবি- আগে যেসব জমিতে বিঘাপ্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছিলেন, সেখানে হয়তো ৫ মণের বেশি পাবেন না।

নাচোল নেজামপুর এলাকার আমন ধান চাষী আবু সায়েম বলেন, আমার তিন বিঘা জমির ধান পুরোপুরি ডুবে গেছে। কয়েকদিন পরেই ধান কাটা শুরু হতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুর্যোগের কবলে পড়ে অধিকাংশ ধান শেষ হয়ে গেছে। আশা করেছিলাম বিঘায় ২০ মণ করে ধান হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বিঘাতে ৫ মণের বেশি পাবো না।

ইসলামপুর এলকার আব্দুর রহিম বলেন, গত বছর আলু চাষে অনেক লোকসান হয়েছে। ভাবলাম আগাম লাগালে ভালো দাম পাব। তাই দেড় বিঘা জমিতে এক সপ্তাহ আগে বীজ রোপণ করেছি। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে গাছ ঠিকভাবে উঠছে না। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।

দেবিনগর এলাকার সানাউল্লাহ জানান, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ফুলকপিসহ নানা সবজির গোড়ায় পচন ধরেছে। অসময়ের এই বৃষ্টিতে খরচের টাকাও তুলতে পারব কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইয়াছিন আলী জানান, গত ১০ বছরের একদিনে এত বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বৃষ্টিতে জেলার ৪ হাজার ৪৫৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে রোপা আমন, সরিষা, বিভিন্ন শীতকালিন সবজি, পেঁয়াজ, মাসকলাইসহ আরোও অনেক ফসল।