
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার আগুন যেন থামছেই না। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়! মঙ্গলবার সকালেও শহরের নতুন বাজার, পুরাতন কাঁচাবাজার ও শিবগঞ্জের বিভিন্ন হাটে ক্রেতাদের মুখে ছিল একই সুর—“পেঁয়াজের দামে আগুন লেগেছে!”
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে দাম না কমায় খুচরা বাজারেও ক্রেতাদের হাঁসফাঁস অবস্থা। বিক্রেতারা বলছেন, “আমরাও বিপাকে আছি। পাইকারি বাজারে কেজি ৯৫-৯৮ টাকায় কিনে ১০০ টাকায় বিক্রি করাও কঠিন।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সেলিম রেজা বলেন, “দেশে এখনো যথেষ্ট পেঁয়াজ মজুদ আছে। তবুও পাইকারি দামে অযৌক্তিক উল্লম্ফন ঘটছে। এতে খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।”
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা দোষ দিচ্ছেন আমদানি বন্ধকে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এর চাপ সরাসরি পড়ছে খুচরা বাজারে।
শিবগঞ্জের খুচরা বিক্রেতা শামীম উদ্দিন বলেন, “আমরা চাই বন্দর খুলে দেওয়া হোক। তাহলেই সরবরাহ বাড়বে, দামও কমবে। না হলে আরও বিপদ।”
ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ এখন বিলাসপণ্য হয়ে উঠেছে। গৃহিণী রোজি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সপ্তাহ খানেক আগেও ৬০ টাকায় পেঁয়াজ কিনেছি, এখন ১১০ টাকা! রান্না করবো না বাজেট মেলাবো, বুঝে উঠতে পারছি না।”
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) শাহনাজ পারভিন জানান, বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। “মনিটরিং জোরদার করা হলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হবে,” বলেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত যদি সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি অনুমোদন দেওয়া হয়, তাহলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দামও কিছুটা কমবে।
এদিকে সাধারণ ক্রেতাদের এখন একটাই চাওয়া —
“আগুনে পেঁয়াজ নয়, আবারও সাশ্রয়ী বাজার চাই।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 









