ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা আটক- পলাতক বাবা লুট হওয়া জামায়াতের ৯ মোটরসাইকেল বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা রাজধানীর সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেনের ছাদে দুই ব্যক্তি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিনিয়র সাংবাদিক জহির এনসিপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে আর ‘দুই দিন’ সময় লাগতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় যুব দলের দোয়া মাহফিল “স্বেচ্ছায় বিবাহ, তবুও  অপহরণ মামলা-নিরাপত্তা চেয়ে  ইসরাত খাতুন”র সংবাদ সম্মেলন ৮ দল আমাদের আর ৮ দল থাকছে না- আরও অনেক দল জোট করার আবেদন করছে- গোলাম পরওয়ার

রাজশাহীতে বিচারক পুত্র হত্যাঃ খুনির জবানবন্দিতে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজশাহীতে বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার লিমন মিয়া নিজের বক্তব্যে দাবি করেছেন, ঘটনাটি “উল্টাপাল্টা সাজানো” এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে “একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভুল বোঝাবুঝির শিকার”। লিমন জানান, তাসমিন নাহার লুচি নামের ওই নারী- যিনি বিচারকের স্ত্রী -এর সঙ্গে তাঁর পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিল। লিমন মিয়া (সেনা নম্বর ১২৩২৮০৯) নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর পিতার নাম এইচ এম সুলাইমান, যিনি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি ব্যবসা করেন এবং স্থানীয়ভাবে জিয়া সাইবার ফোর্সের গাইবান্ধা জেলা কমিটির সদস্য বলে দাবি করেছেন। হাসপাতালে সাংবাদিকরা লিমনের বক্তব্য রেকর্ড করে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। লিমনের বর্ণনা অনুযায়ী, তাসমিন নাহারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরু কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। প্রথম এক বছর তিনি রাজি ছিলেন না, পরে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তিনি বলেন, “তাসমিন বিয়েতে রাজি হননি, বলেছিলেন পরে করবেন। কিন্তু আমি ভয় পেতাম, উনি জজের স্ত্রী- আমাকে একদিন মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন।” লিমনের মতে, তাসমিনের এর আগে মাসুদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল সম্প্রতি তিনি রাজশাহীতে তাসমিন নাহারের বাসায় যান গোলাপ ফুল, বাদাম ও পপকর্ন নিয়ে। তাঁর ভাষ্য, “তাসমিনের জামাই আমাকে মেসেঞ্জারে ডেকে বলেন, আয় প্রমাণ দেখা। আমি গেলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দিয়ে আমাকে মারধর করা হয়।” এরপর পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা আটক রাখা হয়। পরে কোর্ট থেকে জামিন পান। এর আগেও সিলেটে তাঁকে একদিনের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। লিমনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিনও তিনি তাসমিনের সঙ্গে দেখা করতে যান, তবে হঠাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি বলেন, “আমি ওনার কাছে গিয়েছিলাম শুধু কথা বলতে। ওনি পাশের রুমে গিয়ে পুলিশে খবর দেন। দরজা ভাঙার সময় আমি রেগে যাই। হাতে চাকু ছিল, হাতেই ১-২টা লাগে। তাঁর ছেলে এসে আমাকে মারতে থাকে, আমি আত্মরক্ষায় ছেলের পায়ে কামড় দিই। মাথা বা পেটে আঘাত করিনি- ও মারা যাওয়ার কথা না।” ঘটনার পর কী হয়েছে, তিনি আর মনে করতে পারছেন না বলে জানান। তাঁর দাবি, “এখন সবকিছু উল্টে দেওয়া হয়েছে, আমাকে খুনি বানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের পাঁচ বছরের সম্পর্কের প্রমাণ আছে। আমার এয়ারটেল নম্বরের কল লিস্ট চেক করলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলার রেকর্ড পাওয়া যাবে। তাঁর ব্যাগে আমার সেনা সার্টিফিকেট ও ২৪ জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের সনদও আছে।” ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়ে লিমন বলেন, “আমি যদি অপরাধী হই, তাহলে আমার ফাঁসি হোক- আলহামদুলিল্লাহ।কিন্তু যদি ওরা অপরাধী হয়, তাহলে ওদের শাস্তি হোক। আমি শুধু চাই, সত্যটা দেশবাসী জানুক।”লুচির প্রতি নিজের শেষ বার্তায় লিমন বলেন, “লুচি, তুমি আমাকে গুলি করো, মেরে ফেলো, তবুও জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বলব- তোমাকে ভালোবাসি। তুমি ফাঁসি দিলে আলহামদুলিল্লাহ, আমি মৃত্যুকে জয় করেছি।” লিমনের বক্তব্য নিয়ে পুলিশ বলেছে- এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং লিমনের এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হবে। “ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্য কোনো কারণ- সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” পুলিশ আরও জানিয়েছে, হেফাজতে থাকা অভিযুক্তের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তাই অভিযুক্তের বক্তব্যে সরাসরি মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা ঠিক হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে রাজশাহী মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে নিজ বাসায় ঢুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী গুরুতর আহত হন এবং হামলাকারী লিমন নিজেও আহত অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পরে পুলিশ হেফাজতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর

রাজশাহীতে বিচারক পুত্র হত্যাঃ খুনির জবানবন্দিতে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৪২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীতে বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার লিমন মিয়া নিজের বক্তব্যে দাবি করেছেন, ঘটনাটি “উল্টাপাল্টা সাজানো” এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে “একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভুল বোঝাবুঝির শিকার”। লিমন জানান, তাসমিন নাহার লুচি নামের ওই নারী- যিনি বিচারকের স্ত্রী -এর সঙ্গে তাঁর পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিল। লিমন মিয়া (সেনা নম্বর ১২৩২৮০৯) নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর পিতার নাম এইচ এম সুলাইমান, যিনি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি ব্যবসা করেন এবং স্থানীয়ভাবে জিয়া সাইবার ফোর্সের গাইবান্ধা জেলা কমিটির সদস্য বলে দাবি করেছেন। হাসপাতালে সাংবাদিকরা লিমনের বক্তব্য রেকর্ড করে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। লিমনের বর্ণনা অনুযায়ী, তাসমিন নাহারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরু কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। প্রথম এক বছর তিনি রাজি ছিলেন না, পরে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তিনি বলেন, “তাসমিন বিয়েতে রাজি হননি, বলেছিলেন পরে করবেন। কিন্তু আমি ভয় পেতাম, উনি জজের স্ত্রী- আমাকে একদিন মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন।” লিমনের মতে, তাসমিনের এর আগে মাসুদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল সম্প্রতি তিনি রাজশাহীতে তাসমিন নাহারের বাসায় যান গোলাপ ফুল, বাদাম ও পপকর্ন নিয়ে। তাঁর ভাষ্য, “তাসমিনের জামাই আমাকে মেসেঞ্জারে ডেকে বলেন, আয় প্রমাণ দেখা। আমি গেলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দিয়ে আমাকে মারধর করা হয়।” এরপর পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা আটক রাখা হয়। পরে কোর্ট থেকে জামিন পান। এর আগেও সিলেটে তাঁকে একদিনের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। লিমনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিনও তিনি তাসমিনের সঙ্গে দেখা করতে যান, তবে হঠাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি বলেন, “আমি ওনার কাছে গিয়েছিলাম শুধু কথা বলতে। ওনি পাশের রুমে গিয়ে পুলিশে খবর দেন। দরজা ভাঙার সময় আমি রেগে যাই। হাতে চাকু ছিল, হাতেই ১-২টা লাগে। তাঁর ছেলে এসে আমাকে মারতে থাকে, আমি আত্মরক্ষায় ছেলের পায়ে কামড় দিই। মাথা বা পেটে আঘাত করিনি- ও মারা যাওয়ার কথা না।” ঘটনার পর কী হয়েছে, তিনি আর মনে করতে পারছেন না বলে জানান। তাঁর দাবি, “এখন সবকিছু উল্টে দেওয়া হয়েছে, আমাকে খুনি বানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের পাঁচ বছরের সম্পর্কের প্রমাণ আছে। আমার এয়ারটেল নম্বরের কল লিস্ট চেক করলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলার রেকর্ড পাওয়া যাবে। তাঁর ব্যাগে আমার সেনা সার্টিফিকেট ও ২৪ জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের সনদও আছে।” ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়ে লিমন বলেন, “আমি যদি অপরাধী হই, তাহলে আমার ফাঁসি হোক- আলহামদুলিল্লাহ।কিন্তু যদি ওরা অপরাধী হয়, তাহলে ওদের শাস্তি হোক। আমি শুধু চাই, সত্যটা দেশবাসী জানুক।”লুচির প্রতি নিজের শেষ বার্তায় লিমন বলেন, “লুচি, তুমি আমাকে গুলি করো, মেরে ফেলো, তবুও জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বলব- তোমাকে ভালোবাসি। তুমি ফাঁসি দিলে আলহামদুলিল্লাহ, আমি মৃত্যুকে জয় করেছি।” লিমনের বক্তব্য নিয়ে পুলিশ বলেছে- এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং লিমনের এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হবে। “ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্য কোনো কারণ- সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” পুলিশ আরও জানিয়েছে, হেফাজতে থাকা অভিযুক্তের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তাই অভিযুক্তের বক্তব্যে সরাসরি মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা ঠিক হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে রাজশাহী মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে নিজ বাসায় ঢুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী গুরুতর আহত হন এবং হামলাকারী লিমন নিজেও আহত অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পরে পুলিশ হেফাজতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।