
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এই পরিস্থিতিতে মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে সাপে কাটা রোগীদের ভিড়। গত ৬ মাসে ওই হাসপাতালে অন্তত দেড় শতাধিক সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জনকে দেওয়া হয়েছে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে একই সঙ্গে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অ্যান্টিভেনম সংকটের কথা। মূলত সম্প্রতি সময়ে একই দিনে সাতজন সাপে কাটা রোগী এসেছিলেন ওই হাসপাতালে। এমনকি গত ১ সেপ্টেম্বর ও ২৫ নভেম্বরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ‘রাসেল ভাইপার’ সাপে কাটা রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের অ্যান্টিভেনম দিয়ে কয়েকদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী একইভাবে গত ৬ মাসে ৮ জনকে অ্যান্টিভেনম (বিষধর সাপের কামড়ের চিকিৎসায় দেওয়া ইনঞ্জেকশন) দেওয়া হয়েছে। অথচ হাসপাতালে মাত্র দুজনের অ্যান্টিভেনম মজুদের নিয়ম রয়েছে। তার ওপর দুই জনের অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করতে চাহিদা পাঠানোর পর অন্তত একমাস সময় লাগে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে সংকট মোকাবেলা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি মাসে গড়ে ২৫-৩০ জন সাপে কাটা রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।সেখানকার মেডিক্যাল অফিসার ও ভ্যাকসিন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন বলেন, সাপে কাটা রোগীর অবস্থা বুঝে কখনও কখনও ২ থেকে ৩ ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সর্বোচ্চ দুই জন রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের অনুমতি থাকায় রোগীদের চিকিৎসায় সমস্যা সৃষ্টি হয়।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুই জন রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে আমাদের অর্থ ব্যবস্থা করে দেওয়ার কারণেই আমরা বাইরে থেকে অ্যান্টিভেনম কিনে এই ক্রাইসিস (সংকট) মোকাবেলা করতে পারছি। কেননা, আমরা চাহিদা পাঠালে দুই জনের অ্যান্টিভেনম পেতে এক মাসের অধিক সময় লাগে।স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ও চিকিৎসকরা জানান, রাস্তা-ঘাটে ঝোপঝাড়, জলাবদ্ধতা, কৃষিজমিতে মানুষের চলাচল বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে সাপের বিচরণ বেড়েছে। তবে, রাজশাহী থেকে পদ্মা নদী হয়ে মতলবের চরাঞ্চলে রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রব দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। ফলে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভ্যাকসিন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন জানান, এ বছরের ২২ ও ৩০ আগস্ট, ১ সেপ্টেম্বর ও ২৫ নভেম্বরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ‘রাসেল ভাইপার’ সাপে কাটা রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে তাদের অ্যান্টিভেনম দিয়ে কয়েকদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। এমনকি একদিনে ৭ জন সাপে কাটা রোগী ও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার নজিরও আছে।উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ মাসে দেড়শ’র বেশি সাপে কাটা রোগী এসেছে; বিষয়টি সত্যিই দুশ্চিন্তার। অনেক রোগী চাঁদপুর সদর, দাউদকান্দি, নারায়ণগঞ্জ বা গজারিয়া চলে গেলেও, উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এত রোগী আসা প্রমাণ করে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ বাড়ানো জরুরি।
দৈনিক অধিকার ডেস্কঃ 










