ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

অমানবিক পুশইনের বিরুদ্ধে মানবতার জয়- অন্তঃসত্ত্বা নারী সোনালী নিজ দেশে

সোনালী বিবি ও তাঁর সন্তান কে বিএসএফ এর কাছে হস্তান্তর।

ভারতীয় হাইকমিশনের অনুরোধ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও মানবিক বিবেচনা-এই তিন স্তম্ভকে সামনে রেখে অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নারী সোনালী খাতুনকে পর্যন্ত বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে ‘পুশইন’ নামের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে এবার মানবতারই জয় ঘটাল বিজিবি।শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাত টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ICP এলাকায় আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকে অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন এবং তার ৮ বছরের সন্তান সাব্বির শেখকে সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করেন মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। এ সময় উপস্থিত ছিলেনএ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার , ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল গোলাম কিবরিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ, এন, এম ওয়াসিম ফিরোজ সহ অন্যান্যরা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দর্জিপাড়া পাইকড় এলাকার  বাসিন্দা সোনালী খাতুন এ সময়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন।তিনি ও তার সন্তান চান তার সাথে থাকা সবাই তার সাথে বাড়ি ফিরুকব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া।“বিএসএফের পুশইন-মানবাধিকার ও সীমান্ত চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন”হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন—
“বিএসএফের এই অমানবিক পুশইন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দীর্ঘদিন ধরে এই আচরণ সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবিক সংকট তৈরি করছে।”তিনি আরও বলেন-“বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিজিবি মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেছে—বিশেষত অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও চিকিৎসাগত ঝুঁকি বিবেচনায়।”সীমান্তে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপনবিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়-অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুকে পুশইন করার মতো নিষ্ঠুর আচরণের বিপরীতে, বাংলাদেশ আবারও মানবতা, ন্যায় ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের শ্রদ্ধাকে সামনে রেখেছে।বিজিবির প্রত্যাশা- “বিএসএফ ভবিষ্যতে এ ধরনের অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইন-বিরোধী পুশইন বন্ধ করবেএবং সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও আইনসম্মত রাখতে সহযোগিতা করবে।”প্রসঙ্গত. ২০ জুন দিল্লীতে তাদের জোরপূর্বক গ্রেফতার এবং ২৬ জুন বাংলাদেশের কুঁড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইন করে। কিছুদিন কুড়িগ্রাম ও ঢাকায় অবস্থানের পর তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসেন এই ছয় ভারতীয় নাগরিক। পরে গোয়েন্দা তথ্যে ভিত্তিতে ২০ আগষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের আলীনগর ভূতপুকুরের একটি বাড়ী থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে সীমান্তে অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ওই ছয়জনের মধ্যে দুইজন কোলের শিশু হওয়ার মামলায় তাদের আসামী করা হয়নি।বর্তমানে সোনালী এবং তার অন্যান্য সদস্যরা আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং মামলা পরবর্তী হাজিরা আগামী ২৩ ডিসেম্বর।

জনপ্রিয় সংবাদ

অমানবিক পুশইনের বিরুদ্ধে মানবতার জয়- অন্তঃসত্ত্বা নারী সোনালী নিজ দেশে

প্রকাশের সময়ঃ ০১:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতীয় হাইকমিশনের অনুরোধ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও মানবিক বিবেচনা-এই তিন স্তম্ভকে সামনে রেখে অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নারী সোনালী খাতুনকে পর্যন্ত বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে ‘পুশইন’ নামের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে এবার মানবতারই জয় ঘটাল বিজিবি।শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাত টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ICP এলাকায় আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকে অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন এবং তার ৮ বছরের সন্তান সাব্বির শেখকে সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করেন মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। এ সময় উপস্থিত ছিলেনএ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার , ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল গোলাম কিবরিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ, এন, এম ওয়াসিম ফিরোজ সহ অন্যান্যরা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দর্জিপাড়া পাইকড় এলাকার  বাসিন্দা সোনালী খাতুন এ সময়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন।তিনি ও তার সন্তান চান তার সাথে থাকা সবাই তার সাথে বাড়ি ফিরুকব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া।“বিএসএফের পুশইন-মানবাধিকার ও সীমান্ত চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন”হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন—
“বিএসএফের এই অমানবিক পুশইন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দীর্ঘদিন ধরে এই আচরণ সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবিক সংকট তৈরি করছে।”তিনি আরও বলেন-“বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিজিবি মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেছে—বিশেষত অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও চিকিৎসাগত ঝুঁকি বিবেচনায়।”সীমান্তে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপনবিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়-অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুকে পুশইন করার মতো নিষ্ঠুর আচরণের বিপরীতে, বাংলাদেশ আবারও মানবতা, ন্যায় ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের শ্রদ্ধাকে সামনে রেখেছে।বিজিবির প্রত্যাশা- “বিএসএফ ভবিষ্যতে এ ধরনের অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইন-বিরোধী পুশইন বন্ধ করবেএবং সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও আইনসম্মত রাখতে সহযোগিতা করবে।”প্রসঙ্গত. ২০ জুন দিল্লীতে তাদের জোরপূর্বক গ্রেফতার এবং ২৬ জুন বাংলাদেশের কুঁড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইন করে। কিছুদিন কুড়িগ্রাম ও ঢাকায় অবস্থানের পর তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসেন এই ছয় ভারতীয় নাগরিক। পরে গোয়েন্দা তথ্যে ভিত্তিতে ২০ আগষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের আলীনগর ভূতপুকুরের একটি বাড়ী থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে সীমান্তে অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ওই ছয়জনের মধ্যে দুইজন কোলের শিশু হওয়ার মামলায় তাদের আসামী করা হয়নি।বর্তমানে সোনালী এবং তার অন্যান্য সদস্যরা আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং মামলা পরবর্তী হাজিরা আগামী ২৩ ডিসেম্বর।