ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

৩২ ঘন্টার লাড়াই শেষে নিভে গেল শিশু সাজিদের প্রাণ

রাজশাহীতে ৩২ ঘণ্টার লড়াই শেষে নিভে গেল ছোট্ট সাজিদের প্রাণ-মায়ের কোলে ফিরল নিথর দেহ, এলাকায় শোকের ছায়া।

রাজশাহী তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টার প্রাণপণ উদ্ধার অভিযানের পর জীবিত অবস্থায় বের করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না তাকে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকরা সাজিদকে মৃত ঘোষণা করেন। আর এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোয়েলহাট পূর্বপাড়ায় নেমে আসে শোকের কালোছায়া। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান-“এটা হৃদয়বিদারক এক ঘটনা, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”এর আগে রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা একটানা চেষ্টা চালিয়ে শিশুটিকে মাটির নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। অক্সিজেন দেওয়ার পাশাপাশি এক্সকেভেটর দিয়ে খনন চালু রেখেও শিশুটিকে জীবিত রাখা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের টানা ৩২ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পরেও শেষরক্ষা হলো না ছোট্ট সোনামনির।গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় সাজিদ। বাবা-মায়ের সামনে খেলার ফাঁকে হাঁটতে গিয়ে হঠাৎই হারিয়ে যায় সেই ছোট্ট পায়ে চলা। ঘটনাস্থলে রাকিব উদ্দীন ও তার স্ত্রী দিশেহারা হয়ে পড়লেও কেউই তৎক্ষণাৎ বাঁচাতে পারেনি শিশুটিকে।ফায়ার সার্ভিসের তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের সদস্যরা কয়েক দফা অভিযান চালান। পাইপ দিয়ে অক্সিজেন দেওয়া, মাটি খনন-সব চেষ্টা চললেও গভীর গর্তের অন্ধকার আর কঠিন মাটি সাজিদকে ফেরাতে দেয়নি। অবশেষে রাত ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হলে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের দিকে তাকানো সেই চোখ আর খুলেনি। ডাক্তাররা জানিয়ে দিলেন-সব চেষ্টা ব্যর্থ, সাজিদ আর নেই।শিশুটির মা বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কান্নায় ভেঙে পড়েন এলাকার মানুষও। ছোট্ট সাজিদকে হারিয়ে মুহূর্তেই নীরব হয়ে যায় পুরো গ্রাম।এ যেন একটি সন্তানের নয়, পুরো এলাকার বুকচিরে যাওয়া এক মৃত্যু। নিহত সাজিদ কোয়েলহাট পূর্বপাড়ার রাকিব উদ্দীনের একমাত্র ছেলে ছিল। তার মৃত্যুতে এলাকায় দেখা দিয়েছে গভীর শোক আর বেদনার স্রোত।শিশুটির মৃত্যু আবারও প্রমাণ করল-অবহেলিত গর্ত, পরিত্যক্ত নলকূপ, কিংবা সামান্য অসতর্কতা কত সহজেই কেড়ে নিতে পারে একটি নিষ্পাপ প্রাণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩২ ঘন্টার লাড়াই শেষে নিভে গেল শিশু সাজিদের প্রাণ

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীতে ৩২ ঘণ্টার লড়াই শেষে নিভে গেল ছোট্ট সাজিদের প্রাণ-মায়ের কোলে ফিরল নিথর দেহ, এলাকায় শোকের ছায়া।

রাজশাহী তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টার প্রাণপণ উদ্ধার অভিযানের পর জীবিত অবস্থায় বের করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না তাকে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকরা সাজিদকে মৃত ঘোষণা করেন। আর এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোয়েলহাট পূর্বপাড়ায় নেমে আসে শোকের কালোছায়া। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান-“এটা হৃদয়বিদারক এক ঘটনা, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”এর আগে রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা একটানা চেষ্টা চালিয়ে শিশুটিকে মাটির নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। অক্সিজেন দেওয়ার পাশাপাশি এক্সকেভেটর দিয়ে খনন চালু রেখেও শিশুটিকে জীবিত রাখা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের টানা ৩২ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পরেও শেষরক্ষা হলো না ছোট্ট সোনামনির।গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় সাজিদ। বাবা-মায়ের সামনে খেলার ফাঁকে হাঁটতে গিয়ে হঠাৎই হারিয়ে যায় সেই ছোট্ট পায়ে চলা। ঘটনাস্থলে রাকিব উদ্দীন ও তার স্ত্রী দিশেহারা হয়ে পড়লেও কেউই তৎক্ষণাৎ বাঁচাতে পারেনি শিশুটিকে।ফায়ার সার্ভিসের তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের সদস্যরা কয়েক দফা অভিযান চালান। পাইপ দিয়ে অক্সিজেন দেওয়া, মাটি খনন-সব চেষ্টা চললেও গভীর গর্তের অন্ধকার আর কঠিন মাটি সাজিদকে ফেরাতে দেয়নি। অবশেষে রাত ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হলে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের দিকে তাকানো সেই চোখ আর খুলেনি। ডাক্তাররা জানিয়ে দিলেন-সব চেষ্টা ব্যর্থ, সাজিদ আর নেই।শিশুটির মা বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কান্নায় ভেঙে পড়েন এলাকার মানুষও। ছোট্ট সাজিদকে হারিয়ে মুহূর্তেই নীরব হয়ে যায় পুরো গ্রাম।এ যেন একটি সন্তানের নয়, পুরো এলাকার বুকচিরে যাওয়া এক মৃত্যু। নিহত সাজিদ কোয়েলহাট পূর্বপাড়ার রাকিব উদ্দীনের একমাত্র ছেলে ছিল। তার মৃত্যুতে এলাকায় দেখা দিয়েছে গভীর শোক আর বেদনার স্রোত।শিশুটির মৃত্যু আবারও প্রমাণ করল-অবহেলিত গর্ত, পরিত্যক্ত নলকূপ, কিংবা সামান্য অসতর্কতা কত সহজেই কেড়ে নিতে পারে একটি নিষ্পাপ প্রাণ।