ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

শরীয়তপুরে বিজয় দিবসের আগের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন দেওয়ার ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কবরের ওপর পাটখড়ি ও কাঠ জড়ো করে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন নিহত মুক্তিযোদ্ধার স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেন। তিনি ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বাড়ির বসতঘরের পাশেই দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্বামীর কবর জিয়ারত করতে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখি হন তার স্ত্রী মাহফুজা বেগম। কবরের ওপর পোড়া ছাই ও আগুনের চিহ্ন দেখে তিনি চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় পোড়া ছাই থেকে হালকা ধোঁয়া উঠছিল বলেও জানান তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খানের মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, “মায়ের চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি বাবার কবরের একাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কারা, কী উদ্দেশ্যে এমন কাজ করেছে বুঝতে পারছি না। আমরা ভীষণভাবে মর্মাহত ও আতঙ্কিত।” তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের অবহিত করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কবরের পাশে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়। কান্নায় ভেঙে পড়েন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মাহফুজা বেগম। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “আমার স্বামী দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তার কবরের সঙ্গে এমন অবমাননা কেউ কীভাবে করতে পারে? বিজয়ের মাসে এমন ঘটনায় আমাদের পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর অবমাননার ঘটনায় দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল জলিল সিকদার বলেন, “একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর অবমাননার খবর আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “কবরে আগুন দেওয়া মানে একজন মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাত করা। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “ঘটনাটি আমি অবগত হয়েছি। ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

শরীয়তপুরে বিজয় দিবসের আগের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৪২:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন দেওয়ার ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কবরের ওপর পাটখড়ি ও কাঠ জড়ো করে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন নিহত মুক্তিযোদ্ধার স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেন। তিনি ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বাড়ির বসতঘরের পাশেই দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্বামীর কবর জিয়ারত করতে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখি হন তার স্ত্রী মাহফুজা বেগম। কবরের ওপর পোড়া ছাই ও আগুনের চিহ্ন দেখে তিনি চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় পোড়া ছাই থেকে হালকা ধোঁয়া উঠছিল বলেও জানান তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খানের মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, “মায়ের চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি বাবার কবরের একাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কারা, কী উদ্দেশ্যে এমন কাজ করেছে বুঝতে পারছি না। আমরা ভীষণভাবে মর্মাহত ও আতঙ্কিত।” তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের অবহিত করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কবরের পাশে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়। কান্নায় ভেঙে পড়েন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মাহফুজা বেগম। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “আমার স্বামী দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তার কবরের সঙ্গে এমন অবমাননা কেউ কীভাবে করতে পারে? বিজয়ের মাসে এমন ঘটনায় আমাদের পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর অবমাননার ঘটনায় দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল জলিল সিকদার বলেন, “একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর অবমাননার খবর আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “কবরে আগুন দেওয়া মানে একজন মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাত করা। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “ঘটনাটি আমি অবগত হয়েছি। ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”